কারাগার থেকে ক্ষমতার শীর্ষে: যে নেতারা বদলে দিয়েছেন বিশ্ব
শামসুল ইসলাম:
ভ্যাকলাভ হাভেল ছিলেন বিংশ শতাব্দীর অন্যতম প্রভাবশালী দার্শনিক ও রাষ্ট্রনায়ক। চেকোস্লোভাকিয়ার কমিউনিস্ট শাসনের বিরুদ্ধে তার দীর্ঘ লড়াই ছিল সম্পূর্ণ অহিংস। তিনি প্রমাণ করেছেন যে, একটি কলম এবং সত্যের শক্তি দিয়েও একটি একনায়কতান্ত্রিক সাম্রাজ্যকে ধূলিসাৎ করা সম্ভব।
কারাবাসের প্রেক্ষাপট: সত্যের শক্তিতে সোচ্চার
হাভেল ছিলেন পেশায় একজন নাট্যকার। তার লেখনীর মাধ্যমে তিনি সরকারের দুর্নীতির সমালোচনা করায় বারবার গ্রেফতার হন। বিশেষ করে ১৯৭৯ সালে ‘চার্টার ৭৭’ (Charter 77) নামক নাগরিক অধিকার আন্দোলনের জন্য তাকে ৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ১৯৮০-র দশকে তিনি ছিলেন দেশটির অন্যতম প্রধান রাজবন্দী।
কারাগারের দিনগুলো: নৈতিকতার পাঠশালা
লেটারস টু ওলগা: কারাগারে থাকাকালীন তিনি তার স্ত্রী ওলগাকে উদ্দেশ্য করে যে চিঠিগুলো লিখতেন, তা পরবর্তীতে বিশ্ব রাজনীতির দর্শনে পরিণত হয়। সেখানে তিনি বন্দীবস্থায় মানুষের অস্তিত্ব এবং নৈতিক দায়িত্ব নিয়ে আলোচনা করেছেন।
সমঝোতা করতে অস্বীকৃতি: কমিউনিস্ট সরকার তাকে দেশ ত্যাগের বিনিময়ে মুক্তির প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন, কারণ তার কাছে পোল্যান্ডের মানুষের সংগ্রাম ছিল ব্যক্তিগত স্বাধীনতার চেয়ে বড়।
মানসিক দৃঢ়তা: জেলের ভেতরে চরম অসুস্থ হওয়া সত্ত্বেও তিনি তার আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি, যা তাকে সাধারণ মানুষের কাছে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যায়।
বিপ্লব ও রাষ্ট্রপতিত্ব
১৯৮৯ সালে চেকোস্লোভাকিয়ায় শুরু হওয়া ঐতিহাসিক ‘মখমল বিপ্লব’ (Velvet Revolution)-এর অবিসংবাদিত নেতা হয়ে ওঠেন হাভেল। মাত্র কয়েক সপ্তাহের শান্তিপূর্ণ গণআন্দোলনের মুখে সরকারের পতন ঘটে। যে মানুষটি ১৯৮৩ সালে জেল থেকে ছাড়া পেয়েছিলেন, ১৯৮৯ সালের ২৯ ডিসেম্বর তিনি সেই দেশেরই প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।
আমাদের জন্য শিক্ষা
ভ্যাকলাভ হাভেলের জীবন থেকে শিক্ষা পাওয়া যায় যে, কোনো প্রতিষ্ঠানের বা রাষ্ট্রের আমূল পরিবর্তনের জন্য পেশীশক্তির চেয়ে ‘বুদ্ধিবৃত্তিক সততা’ (Intellectual Honesty) বেশি জরুরি। তিনি শিখিয়েছেন, দীর্ঘমেয়াদী সাফল্যের জন্য সত্যের পথে থাকাটাই সবচেয়ে বড় কৌশল।