বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, ঢাকা:আগে ভ্যাট রিটার্ন দাখিল করা কিংবা পাওনা টাকা ফেরত (Refund) পাওয়ার প্রক্রিয়া ছিল দীর্ঘসূত্রতা আর আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় ঘেরা। কিন্তু জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (NBR) এখন সেই পুরো ব্যবস্থাকে নিয়ে এসেছে একটি সমন্বিত অনলাইন প্ল্যাটফর্মে। ফলে ব্যবসায়ী ও সাধারণ করদাতাদের এখন আর ভ্যাট অফিসের বারান্দায় ঘুরতে হচ্ছে না।
ই-ভ্যাট (eVAT) সিস্টেমে সহজ রিটার্ন
এখন ঘরে বসেই ই-ভ্যাট সিস্টেমের মাধ্যমে অনলাইনে ভ্যাট রিটার্ন জমা দেওয়া যাচ্ছে। আগে যেসব রিটার্ন ম্যানুয়ালি বা কাগজে জমা দিতে হতো, সেগুলোকে পর্যায়ক্রমে এই ডিজিটাল ডাটাবেজে যুক্ত করা হচ্ছে। এর ফলে ভ্যাট ফাঁকি যেমন রোধ হচ্ছে, তেমনি করদাতাদের জন্য হিসাব রাখা হয়ে গেছে অনেক বেশি স্বচ্ছ।
সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ভ্যাট রিফান্ড
এই পর্বের সবচেয়ে বড় চমক হলো ‘Online VAT Refund Module’। আগে ভ্যাটের অতিরিক্ত পরিশোধিত টাকা ফেরত পেতে মাসের পর মাস অপেক্ষা করতে হতো। এখন নতুন এই মডিউলের মাধ্যমে:
করদাতার পাওনা টাকা সরাসরি তার নিজস্ব ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।
এজন্য এনবিআর-এর এই সিস্টেম সরাসরি অর্থ বিভাগের iBAS++ এবং BEFTN (Bangladesh Electronic Fund Transfer Network)-এর সাথে যুক্ত করা হয়েছে।
কোনো মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়াই স্বচ্ছতার সাথে এই লেনদেন সম্পন্ন হচ্ছে।
১ লক্ষ নতুন প্রতিষ্ঠান ডিজিটাল জালে
ভ্যাট ব্যবস্থার আওতা বাড়াতে সারাদেশে এনবিআর এক বিশাল জরিপ ও নিবন্ধন ক্যাম্পেইন চালিয়েছে। এর মাধ্যমে প্রায় ১ লক্ষ ৩১ হাজার নতুন প্রতিষ্ঠানকে ভ্যাট নিবন্ধনের আওতায় আনা হয়েছে।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার আগে ভ্যাট নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল ৫ লক্ষ ১৬ হাজার, যা বর্তমানে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭ লক্ষ ৭৫ হাজারে।
স্মার্ট ভ্যাট চালানের সুবিধা
আমদানিকারকদের জন্য ‘Asycuda World’ সিস্টেমের সাথে ই-ভ্যাট সংযোগ স্থাপন করা হয়েছে। এর ফলে আমদানি পর্যায়ে পরিশোধিত অগ্রিম আয়করের তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে ই-রিটার্নে ক্রেডিট হিসেবে যুক্ত হয়ে যাচ্ছে। এতে ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটেছে এবং দ্বৈত করের চাপ কমেছে।
ডিজিটাল ভ্যাট ব্যবস্থা কেবল রাজস্ব সংগ্রহই বাড়ায়নি, বরং ব্যবসায়িক পরিবেশকে করেছে আরও সহজ ও বিনিয়োগবান্ধব। এক ক্লিকেই এখন সব সেবা পাওয়া যাচ্ছে বলে সময় ও খরচ দুটোই বাঁচছে।