বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, ঢাকা: শেরপুরে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণার অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনাকে ‘অনাকাঙ্ক্ষিত’ ও ‘অত্যন্ত দুঃখজনক’ বলে মন্তব্য করেছে বিএনপি। দলটির দাবি, তুচ্ছ ঘটনায় সৃষ্ট এই সংঘাত এড়ানো সম্ভব ছিল।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন কমিটির মুখপাত্র ও দলের চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন।
ঘটনার সূত্রপাত যেভাবে
মাহদী আমিন জানান, শেরপুর-৩ আসনে স্থানীয় প্রশাসনের আয়োজনে সব প্রার্থীর ইশতেহার ঘোষণার একটি অনুষ্ঠান ছিল। সেখানে প্রতিটি দলের জন্য নির্ধারিত আসন থাকলেও জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীরা আগেভাগেই সব চেয়ার দখল করে রাখেন। প্রশাসন ও বিএনপির অনুরোধ সত্ত্বেও তারা আসন ছাড়তে অস্বীকৃতি জানায়। এই বসার জায়গাকে কেন্দ্র করেই সহিংসতার সূত্রপাত হয়।
তদন্তের দাবি ও প্রশাসনের ভূমিকা
সংবাদ সম্মেলনে মাহদী আমিন বেশ কিছু প্রশ্ন তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “নির্ধারিত সময়ের আগে একটি দল কেন সব চেয়ার দখল করল? কেন সেখানে লাঠিসোঁটা জড়ো করা হলো? সবার অনুরোধ উপেক্ষা করে সেই দলের প্রার্থী কেন সংঘাতের পথ বেছে নিলেন—এসবের সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া উচিত।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভিডিওতে দেখা গেছে, জামায়াতের প্রার্থীকে পুলিশ, সেনাবাহিনী ও বিএনপির নেতা-কর্মীরা অনুরোধ করা সত্ত্বেও তিনি বিতর্কিত পথে অগ্রসর হন এবং বলতে থাকেন ‘জান যায় যাক’।
হতাহত ও বর্তমান পরিস্থিতি
গতকালের এই সংঘর্ষে বিএনপির ৪০ জনের বেশি নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন, যাদের কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। উল্লেখ্য, এই সংঘর্ষে মাওলানা রেজাউল করিম নামে জামায়াতের এক নেতা নিহত হয়েছেন।
নির্বাচন যেন বিতর্কমুক্ত ও শান্তিপূর্ণ থাকে, সে জন্য সব রাজনৈতিক দলকে দায়িত্বশীল আচরণ করার এবং প্রশাসনকে আরও জোরালো ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান মাহদী আমিন। তিনি স্পষ্ট করেন যে, গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে একটি উৎসবমুখর নির্বাচনী পরিবেশ সবার কাম্য, কোনো সংঘাত নয়।










