Home আন্তর্জাতিক মিয়ানমারে ৫ বছরে জান্তার হাতে নিহত ৫,১৮৮ বেসামরিক নাগরিক

মিয়ানমারে ৫ বছরে জান্তার হাতে নিহত ৫,১৮৮ বেসামরিক নাগরিক

সংগৃহীত ছবি

এনইউজি-র প্রতিবেদন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থানের পাঁচ বছর পূর্তি উপলক্ষে একটি ভয়াবহ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে দেশটির জাতীয় ঐক্যের সরকার (এনইউজি)। প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এই সময়ে জান্তা বাহিনীর হাতে ৫,১৮৮ জন বেসামরিক নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন।
৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর নিয়মিত সংবাদ বুলেটিনে এনইউজি-র মুখপাত্র উ নে ফোন লাট জান্তা বাহিনীর পদ্ধতিগত সহিংসতার বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি জানান, সামরিক বাহিনী সাধারণ মানুষকে ‘মানব ঢাল’ হিসেবে ব্যবহার করছে এবং হাসপাতাল, স্কুল ও পানির উৎসের মতো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করছে।
উ নে ফোন লাট বলেন:

“বসন্ত বিপ্লবের পাঁচ বছরে সামরিক জান্তার নৃশংসতা প্রতি বছর বৃদ্ধি পেয়েছে। সম্প্রতি তারা সামরিক অভিযানের সময় বেসামরিক নাগরিকদের মানব ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে। গ্রাম পুড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি তারা কুয়া, পুকুর, স্কুল ও হাসপাতালের মতো জরুরি পরিষেবাগুলো ধ্বংস করছে, যাতে এলাকাগুলো বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়ে।”

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয় যে, গত পাঁচ বছরে জান্তা বাহিনী ৫০১টি গণহত্যা চালিয়েছে, যার মধ্যে কেবল ২০২৫ সালেই ঘটেছে ১৫৯টি।
এনইউজি-র মানবাধিকার মন্ত্রণালয়ের সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী:
জান্তা বাহিনী মোট ৪,৭৫০টি বিমান হামলা চালিয়েছে।
এসব হামলায় ১,২৭২টি হাসপাতাল, স্কুল ও ধর্মীয় উপাসনালয় ধ্বংস হয়েছে।
শুধুমাত্র ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসেই জান্তা বাহিনী ২৮৯টি বিমান হামলা পরিচালনা করেছে।
এনইউজি জানিয়েছে, তাদের মানবাধিকার মন্ত্রণালয় জান্তার চালানো গণহত্যা, বিমান হামলা, মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং জোরপূর্বক সেনাবাহিনীতে নিয়োগের বিষয়গুলো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ ও নথিভুক্ত করছে।
উ নে ফোন লাট জোর দিয়ে বলেন, জান্তার যুদ্ধাপরাধের জন্য দায়ীদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। সকল উপলব্ধ উপায়ে তাদের জবাবদিহিতা ও বিচার নিশ্চিত করতে এনইউজি সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে।