Home First Lead মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা : টালমাটাল ডলারের বাজারে নতুন উদ্বেগ

মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা : টালমাটাল ডলারের বাজারে নতুন উদ্বেগ

বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, ঢাকা: যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল ও ইরানকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে সাময়িক যুদ্ধবিরতি চললেও বিশ্বজুড়ে কমেনি উত্তেজনার পারদ। এই ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার সরাসরি প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের জ্বালানি খাত ও মুদ্রাবাজারে। বিশেষ করে ডলারের বিনিময় হার নিয়ে নতুন করে অস্থিরতা শুরু হওয়ায় দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে চাপের মেঘ ঘনীভূত হচ্ছে।
ঊর্ধ্বমুখী বাজার ও মানি চেঞ্জার্সদের কারসাজি
খোলা বাজারে গত এক মাসের ব্যবধানে ডলারের দামে বড় ধরনের পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এক মাস আগে প্রতি ডলার ১২৪ থেকে ১২৫ টাকায় বিক্রি হলেও বর্তমানে তা ১২৬ টাকা ছাড়িয়ে গেছে। মানি চেঞ্জার্স প্রতিষ্ঠানগুলোর দাবি, মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের কারণে সরবরাহ কমে যাওয়ায় এবং বৈশ্বিক অস্থিরতায় ডলারের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় তারা দাম বাড়াতে বাধ্য হয়েছেন। অথচ আগে ব্যাংক হারের সঙ্গে এদের ব্যবধান ছিল নামমাত্র।
ব্যাংকিং চ্যানেলে চিত্র ও ফরওয়ার্ড বুকিংয়ের চাপ
ব্যাংকিং খাতেও ডলারের দাম এক মাসের ব্যবধানে প্রায় এক টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। ৭ এপ্রিল ডলারের দর ১২৩ টাকা ৫০ পয়সায় উঠলেও পরবর্তীতে সামান্য কমে ১২৩ টাকায় অবস্থান করছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসেবে বৃদ্ধি মাত্র ৪৫ পয়সা হলেও বাস্তব বাজার চিত্র ভিন্ন।
অর্থনীতিবিদদের মতে, রমজান ও পরবর্তী সময়ে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়লেও রপ্তানি আয় আশানুরূপ না হওয়ায় চাহিদার তুলনায় ডলারের সরবরাহ কম। এছাড়া ইরান-ইসরাইল উত্তেজনার ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ার আশঙ্কায় বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো আগামী জুন পর্যন্ত ‘ফরওয়ার্ড বুকিং’ বাড়িয়েছে। এই বাড়তি বুকিংয়ের চাপ সরাসরি ডলারের বিনিময় হারের ওপর পড়ছে।
রিজার্ভ পরিস্থিতি ও ক্রমবর্ধমান বাণিজ্য ঘাটতি
সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, মার্চ মাসে ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ডলারের রেকর্ড প্রবাসী আয় দেশে এলেও আমদানি ব্যয় মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে অর্থনীতি। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম আট মাসে বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১৭ বিলিয়ন ডলারে, যা গত বছরের তুলনায় ৩২০ কোটি ডলার বেশি। বর্তমানে বিপিএম-৬ পদ্ধতি অনুযায়ী প্রকৃত রিজার্ভ ২৯.৯৫ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে, যা ভবিষ্যতে বড় সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
উদ্যোক্তাদের শঙ্কা ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভূমিকা
চিটাগাং চেম্বারের সাবেক পরিচালক মাহফুজুল হক শাহ মনে করেন, এলসি নিষ্পত্তিতে ডলারের দাম বাড়লে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন শিল্প উদ্যোক্তারা, যা পণ্যের উৎপাদন খরচ বাড়িয়ে দেবে।
বিশ্বব্যাংকের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন সতর্ক করেছেন যে, তেলের দাম দীর্ঘ সময় ১২০ ডলারের ওপরে থাকলে বৈশ্বিক মন্দার ঝুঁকি তৈরি হবে।
এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ব্যাংক দাবি করছে বাজার স্থিতিশীল আছে, তবে বাস্তবতায় অতিরিক্ত দামে ডলার লেনদেনকারী কয়েকটি ব্যাংককে ইতিমধ্যে সতর্ক করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মধ্যে সমন্বয়হীনতা চললে ডলারের বাজার নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আরও খবরের জন্য businesstoday24.com ফলো করুন