Home আন্তর্জাতিক শিশুদের মস্তিস্ক নিয়ে ছিনিমিনি: কাঠগড়ায় মেটা ও ইউটিউব

শিশুদের মস্তিস্ক নিয়ে ছিনিমিনি: কাঠগড়ায় মেটা ও ইউটিউব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

লস অ্যাঞ্জেলেস: বিশ্বের দুই বৃহত্তম প্রযুক্তি জায়ান্ট মেটা এবং ইউটিউব বর্তমানে এক কঠিন আইনি লড়াইয়ের মুখোমুখি। অভিযোগ উঠেছে, এই কোম্পানিগুলো জেনেশুনে তাদের অ্যাপগুলোতে এমন সব ‘অ্যাডিক্টিভ’ বা আসক্তি তৈরি করার মতো ফিচার যুক্ত করেছে, যা শিশুদের মস্তিস্ককে নিয়ন্ত্রণ করে এবং তাদের দীর্ঘক্ষণ স্ক্রিনে আটকে রাখে।
মামলার মূল বিষয়বস্তু
মামলাটি দায়ের করেছেন ক্যালি জিএম (Kaley GM) নামের ২০ বছর বয়সী এক তরুণী। তার অভিযোগ: তিনি মাত্র ৬ বছর বয়স থেকে ইউটিউব এবং ১১ বছর বয়স থেকে ইনস্টাগ্রাম ব্যবহার শুরু করেন। প্ল্যাটফর্মগুলোর ডিজাইন তাকে এমনভাবে আসক্ত করে ফেলেছিল যে, এর ফলে তিনি গভীর বিষণ্নতা (Depression), বডি ডিসমরফিয়া (নিজের শরীর নিয়ে হীনম্মন্যতা) এবং আত্মহত্যার প্রবণতার মতো গুরুতর মানসিক সমস্যায় ভোগেন।
বাদীর আইনজীবীদের দাবি: ‘ডিজিটাল ক্যাসিনো’
শুনানির শুরুতে বাদীর আইনজীবী মার্ক লানিয়ার এই প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে ‘ডিজিটাল ক্যাসিনো’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি আদালতকে বলেন:

“এই কোম্পানিগুলো স্লট মেশিনে ব্যবহৃত স্নায়বিক কৌশল ব্যবহার করে শিশুদের মস্তিস্ককে ম্যানিপুলেট করেছে। প্রতিটি ‘সোয়াইপ’ (Swipe) শিশুদের জন্য জুয়ার মেশিনের হ্যান্ডেল টানার মতো, যা তাদের মস্তিস্কে ডোপামিন নিঃসরণ ঘটায় এবং আসক্তি তৈরি করে।”

কোম্পানিগুলোর আত্মপক্ষ সমর্থন
মেটা এবং ইউটিউব উভয় প্রতিষ্ঠানই এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি:
তারা কিশোর-কিশোরীদের সুরক্ষায় ‘প্যারেন্টাল কন্ট্রোল’ এবং ‘ব্রেক রিমাইন্ডার’-এর মতো ৩০টিরও বেশি টুলস যুক্ত করেছে।
ইউটিউব জানিয়েছে, তাদের লক্ষ্য আসক্তি তৈরি করা নয়, বরং শিক্ষামূলক ও বিনোদনমূলক কন্টেন্ট প্রদান করা।
কোম্পানিগুলো যুক্তি দিচ্ছে যে, কোনো নির্দিষ্ট ব্যবহারকারীর মানসিক সমস্যার জন্য কেবল সোশ্যাল মিডিয়াকে দায়ী করা যায় না; এর পেছনে পারিবারিক বা সামাজিক অন্য কারণও থাকতে পারে।
কেন এই বিচার প্রক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ?
১. নজিরবিহীন শুনানি: এটিই প্রথম মামলা যেখানে কোনো সোশ্যাল মিডিয়া কোম্পানিকে শিশুদের আসক্ত করার অভিযোগে জুরি বোর্ডের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
২. মার্ক জাকারবার্গের সাক্ষ্য: আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে মেটা সিইও মার্ক জাকারবার্গের এই মামলায় সরাসরি সাক্ষ্য দেওয়ার কথা রয়েছে।
৩. বিশাল জরিমানা ও পরিবর্তন: মামলায় হারলে কোম্পানিগুলোকে কোটি কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে হতে পারে এবং তাদের বিজনেস মডেলে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে বাধ্য করা হতে পারে।
এই বিচার প্রক্রিয়াটি আগামী ৬ থেকে ৮ সপ্তাহ ধরে চলার কথা রয়েছে। টিকটক এবং স্ন্যাপচ্যাটও এই মামলার অংশ ছিল, তবে তারা শুনানির আগেই আদালতের বাইরে একটি অপ্রকাশিত চুক্তির মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসা করে নিয়েছে। এখন পুরো বিশ্বের নজর মেটা ও গুগলের ওপর।