বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, সিলেট: বাংলাদেশের ক্রীড়া ইতিহাসের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র, ফুটবল ও হকির সোনালী যুগের জাদুকর রণজিৎ দাস আর নেই। সোমবার ভোরে সিলেটের একটি হাসপাতালে ৯৩ বছর বয়সে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (প্রয়াণকাল: ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬)। বার্ধক্যজনিত কারণে গত কয়েক বছর তিনি বাকশক্তি ও স্মৃতিশক্তি হারিয়ে ফেলেছিলেন।
তার মৃত্যুতে দেশের ফুটবল ও হকি অঙ্গনে একটি দীর্ঘ ও গৌরবময় অধ্যায়ের অবসান ঘটলো।
মাঠের সেই অপরাজেয় ‘বাজপাখি’
১৯৩২ সালের ২৯ অক্টোবর সিলেটে জন্ম নেওয়া রণজিৎ দাস ছিলেন একাধারে কিংবদন্তি গোলকিপার এবং দক্ষ সংগঠক। ১৯৫৫ সালে ইস্পাহানি ক্লাবের হয়ে তার ফুটবল যাত্রা শুরু। তবে তিনি অমর হয়ে আছেন আজাদ স্পোর্টিং ক্লাবের অধিনায়ক হিসেবে। ১৯৫৮ সালে তার নেতৃত্বেই দলটি ঢাকা প্রথম বিভাগ ফুটবল লিগের শিরোপা জিতে ইতিহাস গড়েছিল।
তিনি কেবল ঘরোয়া মাঠেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না। ১৯৫৭ সালে কলকাতা মোহামেডানের হয়ে অল ইন্ডিয়া ডুরান্ড কাপে অংশ নিয়ে মুগ্ধ করেছিলেন ওপার বাংলার দর্শকদেরও। ১৯৫৯ সালে ঢাকা মোহামেডানের হয়ে লিগ ও আগা খান গোল্ড কাপ জয়েও তার ছিল অসামান্য অবদান।

উচ্চতার আক্ষেপ ও জাতীয় দলের সাফল্য
রণজিৎ দাস ১৯৫৫ থেকে ১৯৬১ সাল পর্যন্ত পূর্ব পাকিস্তান ফুটবল দলের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিলেন। ১৯৬০ সালে করাচিতে অনুষ্ঠিত জাতীয় ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপে তার দল প্রথমবার শিরোপা জেতার গৌরব অর্জন করে। তবে অসাধারণ প্রতিভা থাকা সত্ত্বেও কেবল উচ্চতা কিছুটা কম হওয়ার কারণে পাকিস্তান জাতীয় দলে সুযোগ না পাওয়ার আক্ষেপ তিনি আজীবন বয়ে বেড়িয়েছেন।
হকির আঙিনাতেও ছিলেন অধিনায়ক
ফুটবলের পাশাপাশি হকিতেও তিনি ছিলেন সমান পারদর্শী। ন্যাশনাল ব্যাংক অফ পাকিস্তানের হয়ে ১৯৬৩ ও ১৯৬৫ সালে ঢাকা লিগ শিরোপা জেতেন। ১৯৬৭ সালে পূর্ব পাকিস্তান হকি দলের হয়ে খেলার পর ১৯৬৮ সালে তিনি দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেন।
এক নজরে রণজিৎ দাসের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ার:
খাত |
অর্জন/বিবরণ |
জন্ম |
২৯ অক্টোবর ১৯৩২, সিলেট। |
ফুটবল ক্লাব |
আজাদ স্পোর্টিং (অধিনায়ক), ঢাকা মোহামেডান, ইস্পাহানি ক্লাব। |
প্রধান সাফল্য |
১৯৫৮ ঢাকা লিগ জয় (আজাদ), ১৯৫৯ লিগ ও আগা খান গোল্ড কাপ (মোহামেডান)। |
জাতীয় সাফল্য |
১৯৬০ সালে পূর্ব পাকিস্তানের হয়ে জাতীয় ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ জয়। |
হকি ক্যারিয়ার |
পূর্ব পাকিস্তান হকি দলের অধিনায়ক (১৯৬৮)। |
পুরস্কার |
জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার (২০০৭), প্রথম আলো আজীবন সম্মাননা (২০০৬)। |










