Home আন্তর্জাতিক রবার্ট মুগাবে: রোডেশিয়ার কারাগার থেকে জিম্বাবুয়ের সিংহাসনে

রবার্ট মুগাবে: রোডেশিয়ার কারাগার থেকে জিম্বাবুয়ের সিংহাসনে

সিরিজ প্রতিবেদন:

কারাগার থেকে ক্ষমতার শীর্ষে: যে নেতারা বদলে দিয়েছেন বিশ্ব

শামসুল ইসলাম:

আফ্রিকার মুক্তি সংগ্রামের ইতিহাসে রবার্ট মুগাবে একটি অত্যন্ত শক্তিশালী নাম। জিম্বাবুয়ের স্বাধীনতার এই অগ্রনায়ক তার জীবনের দীর্ঘ ১১টি বছর কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে কাটিয়েছেন। ব্রিটিশ শাসিত রোডেশিয়ায় শ্বেতাঙ্গ সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করার অপরাধে তাকে এই চরম মূল্য দিতে হয়েছিল।
কারাবাসের প্রেক্ষাপট ও রাজদ্রোহের অভিযোগ
১৯৬০-এর দশকে মুগাবে যখন কৃষ্ণাঙ্গদের অধিকার আদায়ে সোচ্চার হন, তখন তাকে ‘বিপজ্জনক বিপ্লবী’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। ১৯৬৪ সালে তাকে গ্রেফতার করা হয় এবং কোনো বিচার ছাড়াই দীর্ঘ এক দশকের বেশি সময় বন্দী রাখা হয়। তার বিরুদ্ধে মূল অভিযোগ ছিল—তিনি শ্বেতাঙ্গ সংখ্যালঘু শাসনের বিরুদ্ধে সশস্ত্র প্রতিরোধের ডাক দিয়েছিলেন।
কারাগার যখন বিশ্ববিদ্যালয়
মুগাবে ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী এবং উচ্চশিক্ষিত। কারাগারের জীবনকে তিনি কেবল হতাশার মাঝে কাটিয়ে দেননি।
একাধিক ডিগ্রি অর্জন: বন্দী থাকা অবস্থায় তিনি পড়াশোনার মাধ্যমে লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন এবং অর্থনীতিসহ মোট তিনটি ডিগ্রি অর্জন করেন। জেলের ভেতরেই তিনি সহবন্দীদের শিক্ষক হিসেবে কাজ করতেন।
ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি: কারাগারে থাকা অবস্থায় তার একমাত্র পুত্রসন্তান মারা যায়। কিন্তু তৎকালীন রোডেশীয় সরকার তাকে শেষবারের মতো সন্তানকে দেখতে বা অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় অংশ নিতে দেয়নি। এই ঘটনা মুগাবেকে মানসিকভাবে আরও কঠোর ও আপসহীন করে তুলেছিল।
মুক্তি এবং গেরিলা যুদ্ধ থেকে রাষ্ট্রপ্রধান

১৯৭৪ সালে কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর মুগাবে মোজাম্বিকে পালিয়ে যান এবং সেখান থেকে ‘জিম্বাবুয়ে আফ্রিকান ন্যাশনাল ইউনিয়ন’ (ZANU)-এর গেরিলা যুদ্ধের নেতৃত্ব দেন। দীর্ঘ যুদ্ধের পর ১৯৮০ সালে জিম্বাবুয়ে স্বাধীনতা লাভ করে এবং মুগাবে দেশটির প্রথম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ক্ষমতা গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে ১৯৮৭ সালে তিনি প্রেসিডেন্ট হন এবং দীর্ঘ ৩৭ বছর জিম্বাবুয়ে শাসন করেন।

আমাদের জন্য শিক্ষা

মুগাবের প্রথম জীবনের সংগ্রাম শেখায় যে, ব্যক্তিগত শোক এবং দীর্ঘ বন্দিত্বও একজন মানুষের রাজনৈতিক লক্ষ্যকে দমাতে পারে না। যদিও তার পরবর্তী শাসনকাল নিয়ে অনেক বিতর্ক রয়েছে, তবে কারাগারের ভেতরে তার বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চা এবং শোষণের বিরুদ্ধে তার প্রাথমিক প্রতিরোধ আজও বিশ্ব রাজনীতিতে আলোচিত।