Home সারাদেশ জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি: রাইড-শেয়ারিং চালকদের নতুন সংকট

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি: রাইড-শেয়ারিং চালকদের নতুন সংকট

ফরিদুল আলম, ঢাকা: জ্বালানি তেলের দাম এখন সর্বোচ্চ পর্যায়ে। গত ১৯ এপ্রিল সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী, প্রতি লিটার অকটেনের দাম ১২০ টাকা থেকে বেড়ে ১৪০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। ডিজেল, পেট্রল ও কেরোসিনের দামও পাল্লা দিয়ে বেড়েছে। এই মূল্যবৃদ্ধির ফলে রাজধানীর ফিলিং স্টেশনগুলোতে দীর্ঘদিনের জ্বালানি সরবরাহের দীর্ঘ লাইন কমলেও, নতুন এক সংকটের মুখে পড়েছেন রাইড-শেয়ারিং অ্যাপভিত্তিক মোটরসাইকেল চালকরা।
জ্বালানির দাম বাড়লেও পাঠাও বা উবারের মতো প্ল্যাটফর্মগুলো চালকদের জন্য ট্রিপপ্রতি আয় বা ভাড়ার কাঠামোতে বড় কোনো পরিবর্তন আনেনি। ফলে আয়ের একটি বিশাল অংশ চলে যাচ্ছে জ্বালানি খরচে। ৪৬ বছর বয়সী চালক জুনায়েত আহমেদ এর মতে, আগে যেখানে ৩০০ টাকায় ট্যাংক ভরতো, এখন সেখানে লাগছে প্রায় ৪০০ টাকা। কিন্তু কমিশন ও ভাড়ার হার অপরিবর্তিত থাকায় দিনশেষে তাদের লাভের অঙ্ক আগের তুলনায় অনেক কমে গেছে।
অ্যাপের বাইরে চালকদের ‘ক্ষেপা’ প্রবণতা
আয় কমে যাওয়ায় অনেক চালক এখন অ্যাপের নিয়মের বাইরে গিয়ে সরাসরি যাত্রীদের সঙ্গে দর কষাকষি করে ট্রিপ নিচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রে অ্যাপে দেখানো ভাড়ার চেয়ে ৭০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত বেশি দাবি করা হচ্ছে। উবার চালক হাসান রাহিদ জানান, দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে তেল নেওয়ার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে তারা অনেকটা বাধ্য হয়েই বাড়তি ভাড়া চাচ্ছেন। এতে করে অ্যাপের নির্ধারিত ভাড়া এখন কেবল নামমাত্র বা কাগুজে হিসেবে পরিণত হয়েছে।
যাত্রী ভোগান্তি ও বিকল্পের সন্ধান
ভাড়া বৃদ্ধি ও চালকদের অনীহার কারণে সাধারণ যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। নিয়মিত যাতায়াতকারী নুরুল হক বা জেরিন শাহিনের মতো যাত্রীরা জানান, মোটরসাইকেল রাইডে এখন আগের চেয়ে ২০-৩০ শতাংশ বেশি খরচ হচ্ছে। শুধু তাই নয়, চালকদের দর কষাকষি ও ট্রিপ বাতিল করার প্রবণতায় সেবার নির্ভরযোগ্যতাও হ্রাস পেয়েছে। এই অবস্থায় অনেক যাত্রী সাশ্রয়ের জন্য সিএনজিচালিত অটোরিকশা বা বাসের মতো বিকল্প যানবাহনের দিকে ঝুঁকছেন।
জনদুর্ভোগ ও যানজট নিয়ে জনমত
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই পরিস্থিতি নিয়ে সাধারণ মানুষের মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকে মনে করেন, রাইড-শেয়ারিং কোনো স্থায়ী পেশা হতে পারে না। আবার অনেকের মতে, অ্যাপের বদলে সরাসরি চুক্তিতে যাতায়াত করায় রাইডাররা যাত্রী জিম্মি করছেন। বিশেষ করে রাজধানীর বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে রাইডারদের জটলা ও যত্রতত্র বাইক পার্কিংয়ের ফলে সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট। যাতায়াতকারীদের অভিযোগ, এই অনিয়ন্ত্রিত রাইড-শেয়ারিং ব্যবস্থা দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়িয়ে দিচ্ছে কয়েক গুণ।
জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় ও যাত্রীসেবা নিশ্চিত করতে নীতিনির্ধারক ও অ্যাপ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে। অন্যথায় এই পরিবহন সংকট রাজধানীর জনজীবনকে আরও বিপর্যস্ত করে তুলবে।

businesstoday24.com ফলো করুন এবং আপনার মূল্যবান মন্তব্য আমাদের জানান।