কামরুল ইসলাম, চট্টগ্রাম: দীর্ঘ কয়েক বছরের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতা কাটিয়ে চাঙ্গাভাব ফিরেছে বাংলাদেশের জাপানি রিকন্ডিশন্ড গাড়ির বাজারে। বাজার বিশ্লেষক ও অটোমোবাইল বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০২৬ সাল শেষে এই খাতের প্রবৃদ্ধির হার ১৫ শতাংশ ছাড়িয়ে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। মূলত ডাটা-চালিত সিদ্ধান্ত, অটোমেশন এবং অনুকূল বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণেই এই অভাবনীয় গতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ও বৈশ্বিক পূর্বাভাস
গ্লোবাল রিসার্চ ফার্ম ‘মর্ডর ইন্টেলিজেন্স’ (Mordor Intelligence)-এর ২০২৬-২০৩১ সালের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বাংলাদেশের রিকন্ডিশন্ড গাড়ির বাজার একটি বড় পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তাদের ডাটা বলছে, ২০২৬ সালে এই বাজারের আকার প্রায় ১.৬৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে।
যদিও গড় বার্ষিক প্রবৃদ্ধি (CAGR) ৭% ধরা হয়েছে, তবে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম এবং সংগঠিত ডিলারদের ক্ষেত্রে এই হার ৯.৫৫% থেকে ১২% পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে। হাইব্রিড বা সেডান সেগমেন্টে এটি ১৫% স্পর্শ করা এখন কেবল সময়ের ব্যাপার।
স্থিতিশীলতা ও ‘রিকভারি ফেইজ’
বারভিডা (BARVIDA)-এর তথ্যমতে, বাংলাদেশের গাড়ির বাজারের প্রায় ৮০% চাহিদাই পূরণ করে জাপানি রিকন্ডিশন্ড গাড়ি। ২০২৪-২৫ সালের স্থবিরতা কাটিয়ে ২০২৬ সালে একটি স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশ এবং বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস অনুযায়ী ৪.৬% – ৬.১% জিডিপি প্রবৃদ্ধির ফলে বাজারে ‘পেন্ট-আপ ডিমান্ড’ (Pent-up demand) বা জমে থাকা চাহিদা তৈরি হয়েছে।
এই রিকভারি ফেইজই প্রবৃদ্ধির হারকে স্বাভাবিকের চেয়ে বাড়িয়ে ১৫%-এর কাছাকাছি নিয়ে যাচ্ছে।
ডিজিটাল রূপান্তর ও এআই (AI)-এর ব্যবহার: ২০২৬ সালে বাংলাদেশের আমদানিকারকরা গতানুগতিক পদ্ধতির বাইরে গিয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ও ডাটা অ্যানালিটিক্স ব্যবহার করছেন। জাপানি নিলাম (Auction) থেকে কোন গাড়িটি লাভজনক হবে এবং কোনটির পুনরবিক্রয় মূল্য বেশি—এসব এখন ডাটা বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। ফলে আমদানিতে ঝুঁকি কমছে এবং সঠিক সময়ে সঠিক মডেল বাজারে আসছে।
অটোমেশন ও স্বচ্ছতা
- গাড়ি কেনা-বেচার প্রক্রিয়ায় অটোমেশন এখন নতুন মাত্রা যোগ করেছে:
- স্মার্ট ইনভেন্টরি: ডিলাররা স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে কাস্টমার ডিমান্ড ট্র্যাক করছেন।
- অনলাইন ভেরিফিকেশন: গ্রাহকরা ঘরে বসেই কিউআর কোড স্ক্যান করে জাপানি অকশন শিট যাচাই করতে পারছেন, যা বাজারে আস্থা বাড়িয়েছে।










