Home কৃষি পার্বত্য জনপদে রূপালি বিপ্লব: রেশম চাষে ভাগ্য ফিরছে তিন জেলার হাজারো মানুষের

পার্বত্য জনপদে রূপালি বিপ্লব: রেশম চাষে ভাগ্য ফিরছে তিন জেলার হাজারো মানুষের

বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, খাগড়াছড়ি: পাহাড়ের ঢালে এখন আর শুধু জুম চাষ বা ফলের বাগান নয়, ডানা মেলছে রেশম চাষের নতুন স্বপ্ন। বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক বাস্তবায়িত “রেশম চাষ সম্প্রসারণ ও উন্নয়নের মাধ্যমে পার্বত্য জেলা সমূহের দারিদ্র বিমোচন” শীর্ষক প্রকল্পের ছোঁয়ায় রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের দুর্গম জনপদে শুরু হয়েছে এক অভাবনীয় রূপালি বিপ্লব। এই প্রকল্পের মাধ্যমে পাহাড়ি নারীরা এখন ঘরে বসেই অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতার পথ খুঁজে পাচ্ছেন।

বদলে যাওয়া জীবনচিত্র

রাঙ্গামাটির নানিয়ারচর বা খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গার রেশম পল্লীগুলোতে এখন ব্যস্ততার শেষ নেই। একসময় যেসব পরিবার কেবল জুম চাষের ওপর নির্ভরশীল ছিল, তারা এখন রেশম গুটি বা কোকুন উৎপাদন করে বাড়তি আয়ের পথ তৈরি করেছেন। প্রকল্পের অধীনে স্থানীয় চাষীদের আধুনিক পলুপালন সরঞ্জাম যেমন—বাঁশের ডালা, চন্দ্রকী এবং উন্নত মানের তুঁত চারা বিনামূল্যে সরবরাহ করা হচ্ছে। কেবল সরঞ্জাম নয়, বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে রেশম চাষের ওপর নিবিড় প্রশিক্ষণ তাদের দক্ষ করে তুলছে পেশাদার রেশম চাষী হিসেবে।

প্রকল্পের ব্যাপ্তি ও লক্ষ্য

বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালে শুরু হওয়া এই বিশেষ প্রকল্পটি সফলতার ধারাবাহিকতায় বর্তমানে ১ম সংশোধিত আকারে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়েছে। প্রায় ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ের এই মহৎ উদ্যোগের লক্ষ্য হলো পার্বত্য চট্টগ্রামের ১৭টি উপজেলার প্রান্তিক মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, খাগড়াছড়ির রসুলপুর, ক্যায়াংঘাট এবং বান্দরবানের প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতে এখন গড়ে উঠেছে ‘আইডিয়াল রেশম পল্লী’, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে প্রাণসঞ্চার করছে।

নারীর ক্ষমতায়নে নতুন দিগন্ত

এই প্রকল্পের অন্যতম বড় সাফল্য হলো পাহাড়ি নারীদের সম্পৃক্ততা। রেশম গুটি থেকে সুতা তৈরির প্রক্রিয়ায় যুক্ত হয়ে শত শত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর নারী আজ নিজের পায়ে দাঁড়িয়েছেন। ঘরকন্নার কাজের পাশাপাশি রেশম চাষ তাদের হাতে তুলে দিচ্ছে নগদ টাকা, যা সন্তানদের শিক্ষা ও পরিবারের পুষ্টির চাহিদা পূরণে সহায়ক হচ্ছে।

ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

রেশম উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের মতে, পার্বত্য চট্টগ্রামের মাটি ও জলবায়ু রেশম চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। এখানকার উৎপাদিত কোকুনের গুণগত মানও বেশ উন্নত। চাষীরা যাতে তাদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য পান, সেজন্য সরাসরি বোর্ড কর্তৃক কোকুন ক্রয়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ২০২৬ সালের মধ্যে এই প্রকল্পের মাধ্যমে পার্বত্য অঞ্চলের তিন জেলায় দারিদ্র্যের হার উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

পাহাড়ের সবুজ গালিচায় রেশমের এই সাদা শুভ্রতা কেবল একটি কৃষি পণ্য নয়, বরং এটি আজ হাজারো মানুষের দারিদ্র জয়ের হাতিয়ার। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও স্থানীয়দের কঠোর পরিশ্রমে পার্বত্য জনপদ হয়ে উঠছে দেশের রেশম শিল্পের এক নতুন পাওয়ার হাউস।

আরও জানতে ভিজিট করুন: www.businesstoday24.com