Home অন্যান্য ঝরে পড়া রোদ আর তোমার হাসি: পর্ব-৭

ঝরে পড়া রোদ আর তোমার হাসি: পর্ব-৭

ধারাবাহিক রোমান্টিক গল্প

রাতের নরম আলোয় অসমাপ্ত স্বীকারোক্তি

স্মৃতি হাসান 

বাগানের শান্ত রাত একটু একটু করে আরও গভীর হতে লাগল। চাঁদের আলো গাছের পাতায় পড়ে ছায়া তৈরি করছে, আর সেই আলো–ছায়ার ভেতর দিয়ে রিহানা ও রিয়াজ ধীরে ধীরে এগোচ্ছিল। চারপাশে যেন এক অদ্ভুত নীরবতা, কিন্তু সেই নীরবতার মাঝেই অদৃশ্য কথোপকথন চলছিল।

রিয়াজ একটু থেমে বলল, “তুমি কি কখনও ভেবেছো, আমাদের এই ছোট ছোট মুহূর্তগুলো কতটা বদলে দিচ্ছে সবকিছু?”

রিহানা শীতল বাতাসে চুল সরিয়ে তাকাল, “হ্যাঁ, মাঝে মাঝে মনে হয়… আমরা কখন শুরু করলাম বুঝতেই পারিনি।”

দুজন আবার হাঁটতে লাগল। ল্যাম্পপোস্টের হলুদ আলো রিহানার খাতার ওপর পড়ে সেটাকে আরও উজ্জ্বল করে তুলছিল।

“খাতার লেখাগুলো তোমাকে কেমন লাগল?” রিয়াজ জিজ্ঞেস করল।

রিহানা ধীরে বলল, “মনে হল… তুমি যা কখনও বলো না, খাতায় সব বলে ফেলেছো। আর সেটা খুব সৎ।”

রিয়াজ একটু মাথা নিচু করে বলল, “সব বলতে পারি না। কখনও কখনও ভয় লাগে। মনে হয় তুমি ভুল বুঝতে পারবে।”

রিহানা কিছুক্ষণ চুপ করে তার মুখের দিকে তাকিয়ে থাকল। তারপর শান্ত স্বরে বলল, “ভুল বুঝব কেন? সত্যি অনুভূতি কি কখনও ভুল হয়?”

রিয়াজ একটু অবাক হয়ে তাকাল। রিহানার চোখে সেই পরিচিত শান্তি, যেটা তাকে প্রথম দিন থেকেই টেনে নিয়েছে। ফুলের সুবাস, ঠান্ডা রাতের বাতাস আর তাদের নীরব আলাপ সব মিলিয়ে মুহূর্তটাকে আরও নরম করে তুলল।

তারা বাগানের বড় গাছটার নিচে এসে দাঁড়াল। এখানে আলোটা একটু কম, কিন্তু পরিবেশটা আরও শান্ত।
রিয়াজ ধীরে বলল, “আমি আজ আরেকটা জিনিস বলতে চেয়েছিলাম।”

রিহানা তাকাল, “কি জিনিস?”

রিয়াজ একটু দম নিল, তারপর বলল, “আমাদের এই গল্পটা… এটা আমার কাছে খুব বিশেষ। কিন্তু আমি চাই না আমরা হঠাৎ তাড়াহুড়ো করে কিছু সিদ্ধান্ত নেই। আমি চাই আমরা ধীরে ধীরে বুঝে এগোই।”

রিহানা শান্তভাবে হাসল, “তুমি এটাই বলবে ভেবেছিলাম। আমিও চাই সব ধীর হোক। আমরা দুজনই শিখছি, বুঝছি।”

বাতাস একটু জোরে বইল। কয়েকটা ফুলের পাপড়ি উড়ে এসে পড়ল রিহানার খাতার ওপর। রিয়াজ তার হাত বাড়িয়ে পাপড়িটা সরিয়ে দিল। মুহূর্তটা ছিল খুব সাধারণ, কিন্তু তাদের জন্য অদ্ভুতভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

রিহানা বলল,
“আমাদের গল্প কোথায় যাচ্ছে জানি না। কিন্তু দিকটা ভালো লাগছে।”

রিয়াজও মাথা নেড়ে সম্মতি দিল,
“হ্যাঁ… দিকটা সুন্দর।”

রাত তখন আরও গভীর। কলেজের বাগানে আর কেউ নেই। ল্যাম্পের নরম আলো, চাঁদের ম্লান রূপালি আভা আর তাদের নীরব বোঝাপড়া—সব মিলিয়ে পর্ব ৭ যেন শেষ হলো একটি অদ্ভুত প্রশান্তির অনুভূতি নিয়ে।

তারা দুজন ধীরে ধীরে বেরিয়ে গেল বাগান থেকে, কিন্তু রাতটা তাদের মনে রেখে গেল একটি নতুন উপলব্ধি—
কখনও কখনও সম্পর্ক কথা দিয়ে নয়,
বরং ভাগ করা নীরবতা দিয়ে বড় হয়।