আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বিশ্বের উত্তরতম জনপদ নরওয়ের লংইয়ারবিয়েনে (Longyearbyen) ২০২৬ সালের রমজান মাস এক অভাবনীয় প্রাকৃতিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হচ্ছে। এখানে রোজার সময়কাল কোনো একটি নির্দিষ্ট ঘণ্টায় স্থির নয়; বরং প্রতিদিন দ্রুতগতিতে দিনের দৈর্ঘ্য বৃদ্ধি পাওয়ায় পাল্টে যাচ্ছে সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি।
রমজানের শুরু: রমজানের প্রথম দিনে (১৮ ফেব্রুয়ারি) এই অঞ্চলে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের ব্যবধান ছিল মাত্র ২ ঘণ্টা ৩০ মিনিটের কিছু বেশি। তবে ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে এখানে প্রতিদিন দিনের আলো ২০ থেকে ২৫ মিনিট করে বৃদ্ধি পায়। আজ ২১ ফেব্রুয়ারি (৩রা রমজান), লংইয়ারবিয়েনে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের ব্যবধান বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪ ঘণ্টা ৪৫ মিনিটে।
মাসের শেষে ১২ ঘণ্টার দীর্ঘ রোজা: পাঠকদের মনে রাখা প্রয়োজন যে, লংইয়ারবিয়েনে সারা মাস আড়াই ঘণ্টা রোজা থাকে না। বসন্তের আগমনে সূর্যের অবস্থান পরিবর্তনের ফলে রমজানের শেষ নাগাদ (মার্চের মাঝামাঝি) এই সময়কাল বেড়ে ১২ ঘণ্টা ৩০ মিনিটে পৌঁছাবে। অর্থাৎ, মাসের শুরুতে যারা খুব সংক্ষিপ্ত রোজা রাখছেন, মাসের শেষে তাদের প্রায় অর্ধেক দিন না খেয়ে থাকতে হবে।
স্থানীয় মুসলিমদের কঠিন চ্যালেঞ্জ ও সমাধান
প্রতিদিন সময়ের এমন নাটকীয় পরিবর্তনের ফলে স্থানীয় মুসলিমদের জন্য নির্দিষ্ট রুটিন মেনে চলা কঠিন হয়ে পড়ে। এই জটিলতা এড়াতে লংইয়ারবিয়েনের অনেক বাসিন্দা ভিন্ন পদ্ধতি অনুসরণ করেন:
পবিত্র মক্কা নগরীর সময় অনুসরণ: চরম ভাবাপন্ন এই অঞ্চলে অনেক মুসলিম সরাসরি সৌদি আরবের মক্কার সাহরি ও ইফতারের সময় অনুযায়ী রোজা পালন করেন, যা তাদের জন্য একটি স্থির রুটিন নিশ্চিত করে।
স্থানীয় সময়: যারা স্থানীয় সূর্যোদয়-সূর্যাস্ত মেনে চলেন, তাদের সাহরি ও ইফতারের সময় প্রতিদিন দ্রুত পরিবর্তন করতে হয়।
প্রকৃতির এক অনন্য নিদর্শন: লংইয়ারবিয়েনের এই রমজান আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে পৃথিবীর উত্তর মেরুর কাছাকাছি জীবন কতটা বৈচিত্র্যময়। মাত্র ৩০ দিনের ব্যবধানে একটি জনপদে রোজার সময় আড়াই ঘণ্টা থেকে সাড়ে ১২ ঘণ্টায় পৌঁছানো সত্যিই এক বিস্ময়কর ঘটনা।
businesstoday24.com এভাবে ফলো করুন এবং বিশ্বের এমন বিস্ময়কর সব খবরের আপডেট পেতে আপনার মূল্যবান মন্তব্য জানান।