লন্ডনের চিঠি
টেমসের তীরে তারার মেলা
আজহার মুনিম শাফিন, লন্ডন: রাতের গভীরতা আর তারাদের মেলা যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই ক্যালেন্ডারের পাতা উল্টে নতুন একটি অধ্যায় শুরু হলো। মধ্যরাতের আঁধার চিরে ঝলসে ওঠা আতশবাজির রোশনাই আর সহস্র মানুষের উষ্ণ করতালির মধ্য দিয়ে লন্ডন বরণ করে নিল নতুন বছরকে। টেমস নদীর দুই পাড়, ওয়েস্টমিনিস্টার এবং আইকনিক লন্ডন আইয়ের আশপাশের এলাকা হয়ে উঠেছিল যেন এক জীবন্ত উৎসবের অঙ্গন।
ঘড়ির কাঁটা বারোটা ছুঁতেই লন্ডনের আকাশ সাক্ষী হলো এক অসাধারণ দৃশ্যের। ঘন কালো ক্যানভাসে আঁকা হলো আতশবাজির বর্ণিল ফোয়ারা। টেমসের শান্ত জলে প্রতিবিম্বিত হচ্ছিল সেই আলোর ঝলকানি, যা দেখে মুগ্ধ হয়েছিলেন অগণিত দর্শক। লন্ডন আই পরিণত হয়েছিল এক বিশাল ঝলমলে প্রদীপে। নববর্ষের আগমনী বার্তায় পুরো শহর যেন প্রাণবন্ত হয়ে ওঠেছিল।
শহরের প্রতিটি কোণে তখন সুরের মূর্ছনা। পপ থেকে রক, ইলেকট্রনিক বিটস থেকে চিরায়ত সুরের মূর্ছনা—সবকিছুই মিশে গিয়েছিল নববর্ষের উন্মাদনায়। তরুণ-তরুণীরা মেতে উঠেছিল নাচ আর গানে, নতুন বছরের আগমনে তাদের চোখে ছিল এক অন্যরকম স্বপ্ন আর উচ্ছ্বাস। লন্ডনের রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে এক পর্যটক আপ্লুত হয়ে বললেন, “লন্ডনের এই রাতটা যেন জীবনের এক অবিস্মরণীয় অভিজ্ঞতা! এখানকার প্রতিটি মুহূর্তই যেন এক উৎসব।”
উৎসবের এই আবহে লন্ডন মেট্রোপলিটন পুলিশ এবং অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা ছিলেন নিরবচ্ছিন্ন পাহারায়। মানুষের সমুদ্রের মাঝেও প্রতিটি এলাকায় ছিল নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয়, যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা উৎসবের আনন্দকে ম্লান করতে না পারে। নিরাপত্তা কর্মীদের পেশাদারিত্ব ও বিচক্ষণতার কারণে নির্বিঘ্নে উপভোগ করতে পেরেছে সবাই।
যদিও এখন গভীর রাত, ভোরের আলো এখনো ফোটেনি লন্ডনের আকাশে, কিন্তু উৎসবের রেশ তাতে একটুও কমেনি। মানুষ এখনো মেতে আছে উল্লাস আর আনন্দ ভাগাভাগি করে নেওয়ায়। নতুন সূর্যোদয়ের প্রতীক্ষায় পুরো শহর যেন এক নতুনের কেতন উড়ানোর জন্য প্রস্তুত। নতুন বছরে নতুন স্বপ্ন আর নতুন প্রতিজ্ঞা নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার এক অনুপ্রেরণা যেন ছড়িয়ে পড়েছে লন্ডনের বাতাসে।










