কামরুল ইসলাম, চট্টগ্রাম: জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার অজুহাতকে পুঁজি করে আবারও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন লাইটারেজ জাহাজ মালিকরা। ১০ শতাংশ ভাড়া বৃদ্ধির যে ‘সর্বসম্মত’ প্রস্তাবের কথা বলা হচ্ছে, তা নিয়ে সাধারণ ভোক্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। ভোক্তাদের দাবি, মালিকদের এই তথাকথিত হিসাব-নিকাশ স্বচ্ছ নয় এবং এটি বাজার সিন্ডিকেটেরই একটি অংশ।
কস্টিংয়ের শুভঙ্করের ফাঁকি: টন প্রতি ভাড়া আসলে কত হওয়া উচিত?
পরিবহন বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিজেলের দাম ১৫ শতাংশ বাড়লে মোট পরিচালন ব্যয়ের ওপর তার প্রভাব ৫ শতাংশের বেশি হওয়ার কথা নয়। কারণ একটি জাহাজের খরচের বড় অংশ জুড়ে থাকে লুব্রিকেন্ট, স্টাফ বেতন, ঘাট খরচ ও রক্ষণাবেক্ষণ। এগুলো ডিজেলের দামের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত নয়।
বর্তমানে ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে টন প্রতি ভাড়া ৫৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬০৫ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। কিন্তু কস্টিং বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়:
রুটের নাম |
বর্তমান ভাড়া (টন প্রতি) |
প্রস্তাবিত ভাড়া (১০% বৃদ্ধি) |
যৌক্তিক ভাড়া (৫% প্রভাব ধরলে) |
অতিরিক্ত আদায়ের আশঙ্কা |
চট্টগ্রাম-ঢাকা |
৫৫০ টাকা |
৬০৫ টাকা |
৫৭৭-৫৮০ টাকা |
২৫-২৮ টাকা |
চট্টগ্রাম-নারায়ণগঞ্জ |
৫২০ টাকা |
৫৭২ টাকা |
৫৪৫-৫৫০ টাকা |
২২-২৭ টাকা |
চট্টগ্রাম-খুলনা |
৯৫০ টাকা |
১০৪৫ টাকা |
৯৯৭-১০০০ টাকা |
৪৫-৪৮ টাকা |
- এটা একটি স্ট্যান্ডার্ড হিসাব। পণ্যের ধরন এবং দূরত্ব অনুসারে ভাড়ার হার ভিন্ন ভিন্ন হয়। যেমন ক্লিংকার, জিপসাম, লবণ, বল ক্লে, গম, কয়লা, চিনি, পাথর, টিএসপি, ড্যাপ ইত্যাদি। আবার কিছু কিছু পণ্যের ক্ষেত্রে মালিকরা তাদের লাইটার জাহাজ দিতে গড়িমসি করেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রুটের দূরত্ব এবং লোড-আনলোডিং সময় বিবেচনায় নিয়ে প্রতিটি রুটের জন্য আলাদা ‘কস্টিং শিট’ জনসম্মুখে প্রকাশ করা উচিত। কোনো বিজ্ঞানসম্মত বিশ্লেষণ ছাড়াই পাইকারি হারে ১০ শতাংশ ভাড়া বাড়ানো মূলত আমদানিকারক ও শিল্প মালিকদের সাথে জাহাজ মালিকদের একধরণের সমঝোতা, যার মাসুল দিতে হয় সাধারণ মানুষকে।
‘ভোক্তার কাঁধে বন্দুক’: সাধারণ মানুষের আর্তনাদ
ভোক্তাদের অভিযোগ, জাহাজ মালিকরা নিজেদের লোকসান ঠেকাতে মরিয়া হলেও সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার কথা ভাবছেন না। কনজিউমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর সংশ্লিষ্টদের মতে, পরিবহন ভাড়া এক টাকা বাড়লে বাজারে পণ্যের দাম বেড়ে যায় পাঁচ টাকা।
একজন সাধারণ ভোক্তার বক্তব্য:
“বাজারে এখন প্রতিটি পণ্যের দাম এমনিতেই আকাশছোঁয়া। লাইটারেজ জাহাজের ভাড়া বাড়ানোর মানে হলো চাল, ডাল, চিনি ও সিমেন্টের দাম আরেক দফা বাড়ানো। জাহাজ মালিকরা তাদের লাভের অংক ঠিকই রাখছেন, কিন্তু আমাদের মতো সাধারণ মানুষের পকেট যে কেটে ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে, তা দেখার কেউ নেই।”










