বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, মৌলভীবাজার: মাঘের শেষ আর ফাল্গুনের শুরুর এই সন্ধিক্ষণে রাজনগরের আকাশ জুড়ে আজ এক ভিন্ন রঙের আবাহন। গ্রামের মেঠোপথ দিয়ে যখন ধুলো উড়িয়ে হেলিকপ্টারটি টিকরপাড়া গ্রামের মাটিতে নামল, তখন উৎসুক জনতার ভিড়ে চারপাশ লোকে লোকারণ্য। সেই যান্ত্রিক পাখির পেট থেকে বেরিয়ে এলেন এক নবদম্পতি—যাঁদের মিলনের গল্প কোনো রূপকথার চেয়ে কম নয়।
শিক্ষা থেকে প্রেম: সাংহাইয়ের সেই রঙিন দিনগুলি
গল্পের নায়ক সুকান্ত কুমার সেন। দেশের মাটিতে স্নাতকোত্তর শেষ করে উচ্চশিক্ষার উচ্চাকাঙ্ক্ষা নিয়ে আট বছর আগে পাড়ি জমিয়েছিলেন সুদূর চীনে। সাংহাই মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি থেকে দ্বিতীয়বার স্নাতকোত্তর শেষ করে থিতু হয়েছিলেন চাকরিতে। কিন্তু হৃদয়ে যাঁর উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন, তাঁর কি আর অন্যের অধীনে মন টেকে? চাকরি ছেড়ে নামলেন ব্যবসায়। আর এই ব্যবসাই তাঁর জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিল।
ব্যবসায়িক প্রয়োজনে পরিচয় হয় স্কটল্যান্ডের গ্লাসগো ইউনিভার্সিটির উচ্চশিক্ষিত তরুণী ক্রিস হোয়ের সঙ্গে। কাজের আলাপ কখন যে হৃদয়ের আলাপে রূপ নিল, তা তাঁরা নিজেরাও হয়তো টাহর পাননি। পরিচয় থেকে সখ্য, তারপর সেই অমোঘ টান—প্রেম।
সীমান্তহীন ভালোবাসা ও সাতপাঁকের বন্ধন
২০২৫ সালের ১২ই ফেব্রুয়ারি চীনে আইনিভাবে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন এই যুগল। কিন্তু সুকান্তের শিকড় তো এই বাংলার মাটিতে। তাই মনের কোণে সুপ্ত বাসনা ছিল নিজ ধর্মের রীতিতে, মা-মাটির আশীর্বাদ নিয়ে সাতপাঁকে বাঁধা পড়ার। ক্রিস হোয়েও সানন্দে রাজি হলেন প্রিয়তমের সংস্কৃতির অংশ হতে।
শুক্রবার ক্রিস হোয়ের বাবা ও চাচাও আসছেন এই আনন্দযজ্ঞে শামিল হতে। ভিনদেশি এই পুত্রবধূকে বরণ করতে এখন সেন বাড়িতে সাজসাজ রব।
গ্রামের বধূ যখন বিদেশি তনয়া
হেলিকপ্টার থেকে নামার পর ক্রিস হোয়ের চোখেমুখে ছিল বিস্ময় আর ভালোলাগার আভা। ভাঙা ভাঙা অভিজ্ঞতায় তিনি জানালেন:
“বাংলাদেশে এটি আমার দ্বিতীয় সফর। এখানকার মানুষ ভীষণ বন্ধুভাবাপন্ন এবং তাঁদের আতিথেয়তা আমাকে মুগ্ধ করেছে। হেলিকপ্টারে চড়ে গ্রামে আসাটা ছিল এক রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা।”










