Home অন্যান্য সিদ্ধচালে ভাত বাড়ে

সিদ্ধচালে ভাত বাড়ে

গ্রামের মাতব্বর হাশেম সাহেব এলাকায় বেশ প্রভাবশালী। তার দুই ছেলে—বড় ছেলে রাশেদ আর ছোট ছেলে ফয়সাল। রাশেদ বয়সে বড় হওয়ার কারণে সবসময় একটা অহংকার নিয়ে চলত। সে ভাবত, যেহেতু সে বড়, তাই বাড়ির সব সিদ্ধান্ত সেই নেবে এবং সবাই তাকে বিনা প্রশ্নে মান্য করবে। কিন্তু বাস্তবে রাশেদ ছিল অলস এবং দায়িত্বজ্ঞানহীন।

অন্যদিকে ছোট ছেলে ফয়সাল ছিল অত্যন্ত পরিশ্রমী এবং নম্র। গ্রামের মানুষের বিপদে-আপদে সে সবার আগে এগিয়ে যেত। একবার গ্রামের একমাত্র চলাচলের রাস্তাটি বর্ষায় ভেঙে গেলে রাশেদ বলল, “এসব সরকারি কাজ, আমাদের কী করার আছে?” কিন্তু ফয়সাল দমে থাকল না। সে গ্রামের যুবকদের একজোট করে নিজের কাঁধে কোদাল তুলে নিল এবং কয়েক দিনের পরিশ্রমে রাস্তাটি মেরামত করে ফেলল।

গ্রামের মানুষ ফয়সালের এই গুণ আর সাহসের প্রশংসা করতে লাগল। একদিন গ্রামের এক সালিশে রাশেদ তার বড়ত্বের দাবি তুললে এক মুরুব্বি হেসেই বললেন, “বাপু রাশেদ, তুমি বয়সে বড় হতে পারো, কিন্তু মানুষের মনে জায়গা করে নিয়েছে ফয়সাল।” তখনই তিনি চট্টগ্রামের সেই বিখ্যাত প্রবাদটি আওড়ালেন— “বদ্দা বড় ন অয়, কদ্দা বড় অয়”

অর্থাৎ, কেবল জন্মগতভাবে আগে আসার কারণে কেউ বড় হয়ে যায় না; বরং যে মানুষের জন্য কাজ করে এবং যার কর্মগুণ আছে, সমাজ তাকেই প্রকৃত বড় হিসেবে মর্যাদা দেয়। রাশেদ সেদিন বুঝতে পারল যে, সম্মানের জন্য বয়স নয়, যোগ্যতার প্রয়োজন।