শেয়ারবাজার স্ক্যানার: সিলভা ফার্মাসিউটিক্যালস
বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, ঢাকা: আজ সপ্তাহের চতুর্থ কার্যদিবসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেনের শুরু থেকেই চমক দেখাচ্ছে ওষুধ ও রসায়ন খাতের কোম্পানি সিলভা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড। বেলা ১২টা ৮ মিনিটের তথ্য অনুযায়ী, শেয়ারটির দর ১০ শতাংশ বেড়ে ‘হল্টেড’ অবস্থায় রয়েছে। তবে এই দরবৃদ্ধির নেপথ্যে কোনো ইতিবাচক ব্যবসায়িক খবর না থাকায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সংশয় দেখা দিয়েছে।
১. আজকের বাজার চিত্র (Update: 12:08 PM)
সিলভা ফার্মার শেয়ার দর আজ ১.১০ টাকা বেড়ে ১২.১০ টাকায় লেনদেন হচ্ছে।
দিনের সীমা: ১১.১০ টাকা থেকে ১২.১০ টাকা।
লেনদেনের ভলিউম: এ পর্যন্ত ২৫ লক্ষ ৫০ হাজারের বেশি শেয়ার হাতবদল হয়েছে, যার বাজার মূল্য প্রায় ৩০.১৮ মিলিয়ন টাকা।
মার্কেট ক্যাপ: ১,৫০১.৫০০ মিলিয়ন টাকা।
- ২. লোকসানের গভীরতা ও নেতিবাচক ইপিএস (Financial Red Flag)
- শেয়ারটির দর ১০ শতাংশ বাড়লেও কোম্পানির আর্থিক স্বাস্থ্য বর্তমানে অত্যন্ত নাজুক।
ক্রমবর্ধমান লোকসান: ২০২১ সালে যেখানে কোম্পানির নিট মুনাফা ছিল প্রায় ১২০ মিলিয়ন টাকা, ২০২৫ অর্থবছরে তা বড় ধরনের লোকসানে পরিণত হয়েছে (-১৩২.৯৫ মিলিয়ন টাকা)।
ইপিএস (EPS): ২০২৪ সালে শেয়ার প্রতি লোকসান ছিল ০.৪৭ টাকা, যা ২০২৫ অর্থবছরে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ০.৯৭ টাকায় (নেতিবাচক)।
অনিরীক্ষিত অর্ধবার্ষিক চিত্র: ২০২৫-এর প্রথম ৬ মাসেও কোম্পানিটি শেয়ার প্রতি ০.৫২ টাকা লোকসান করেছে। লোকসানি কোম্পানির শেয়ার দর এভাবে বাড়া সাধারণত কারসাজির পূর্বলক্ষণ হিসেবে ধরা হয়।
৩. ডিভিডেন্ড খরা ও ক্যাটাগরি ঝুঁকি
বিনিয়োগকারীদের জন্য সবচেয়ে আশঙ্কার বিষয় হলো কোম্পানির লভ্যাংশ প্রদানের সক্ষমতা হারিয়ে ফেলা।
লভ্যাংশ চিত্র: ২০১৯ সালে কোম্পানিটি ৬% ক্যাশ ও ৫% বোনাস দিলেও, সর্বশেষ ২০২৪ সালে মাত্র ১% লভ্যাংশ দিয়েছে। ২০২৫ অর্থবছরের জন্য এখন পর্যন্ত কোনো লভ্যাংশের ঘোষণা আসেনি।
পি/ই রেশিও: ক্রমাগত লোকসানের কারণে শেয়ারটির কোনো ইতিবাচক পি/ই রেশিও নেই (বর্তমানে নেতিবাচক ১০.৩৮)। আয়ের কোনো ভিত্তি ছাড়া ১২ টাকা দরে শেয়ার কেনা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
৪. মালিকানা ও রিজার্ভ পরিস্থিতি
রিজার্ভ ও সারপ্লাস: বর্তমানে কোম্পানির রিজার্ভের পরিমাণ ৭৪৮ মিলিয়ন টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় কমেছে।
শেয়ার হোল্ডিং: উদ্যোক্তা পরিচালকদের হাতে ৪৫.২১% শেয়ার থাকলেও পাবলিকের হাতে রয়েছে ৩৮.৩২% শেয়ার। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ ফেব্রুয়ারি মাসে সামান্য বাড়লেও (১৬.৪৬%) তা শেয়ারটির পতন রোধে যথেষ্ট নয়।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ
সিলভা ফার্মা আজ দরবৃদ্ধির শীর্ষে থাকলেও এটি মূলত ‘লো-প্রাইসড জাঙ্ক স্টক’ হিসেবে স্পেকুলেটর বা ফাটকাবাজদের নজরে পড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যেখানে কোম্পানির ব্যবসা সংকুচিত হচ্ছে এবং লোকসান বাড়ছে, সেখানে ১০ শতাংশ দরবৃদ্ধি কোনোভাবেই টেকসই বিনিয়োগের ইঙ্গিত দেয় না।
বলা যায়, লোকসানি কোম্পানিতে হুজুগে বিনিয়োগ অনেক সময় মূলধন হারানোর কারণ হয়। সিলভা ফার্মার ক্ষেত্রে বর্তমান রিজার্ভ এবং নেতিবাচক ইপিএস-এর ব্যবধান বিনিয়োগকারীদের সতর্ক থাকার বার্তা দিচ্ছে।










