Home আন্তর্জাতিক বিপর্যস্ত লেবার পার্টি, প্রবল চাপে স্টারমার

বিপর্যস্ত লেবার পার্টি, প্রবল চাপে স্টারমার

আজহার মুনিম শাফিন, লন্ডন: যুক্তরাজ্যের স্থানীয় নির্বাচনে ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির নজিরবিহীন বিপর্যয়ের পর প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার তীব্র রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়েছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং নিজের নেতৃত্বকে পুনর্গঠন করতে তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউনকে বিশেষ উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন।
গত ৭ মে ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত স্থানীয় নির্বাচনে লেবার পার্টি ইংল্যান্ডের বিভিন্ন কাউন্সিলে ১,৪০০-এর বেশি আসন হারিয়েছে। বিশেষ করে ওয়েলস এবং স্কটল্যান্ডের পার্লামেন্ট নির্বাচনেও দলটি শোচনীয় পরাজয়ের স্বাদ পেয়েছে। নির্বাচনী ফলাফলকে বিশ্লেষকরা স্টারমারের নেতৃত্বের ওপর ‘অনাস্থা প্রস্তাব’ হিসেবে দেখছেন।
নাইজেল ফারাজের নেতৃত্বাধীন ‘রিফর্ম ইউকে’ এবং গ্রিন পার্টির উত্থান লেবার পার্টির ভোটব্যাংকে বড় ধরনের ধস নামিয়েছে। বিশেষ করে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং অভিবাসন ইস্যুতে সরকারের ওপর সাধারণ মানুষের ক্ষোভ এই ফলাফলে প্রতিফলিত হয়েছে।
চাপের মুখে থাকা কিয়ার স্টারমার দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও পদত্যাগের দাবি সামাল দিতে গর্ডন ব্রাউনকে ‘স্পেশাল রিভিউয়ার অন গ্লোবাল ফাইন্যান্স অ্যান্ড কো-অপারেশন’ হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন।
  • দায়িত্ব: গর্ডন ব্রাউন মূলত আন্তর্জাতিক অর্থায়ন এবং বৈশ্বিক সহযোগিতার মাধ্যমে ব্রিটেনের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বৃদ্ধির বিষয়ে সরাসরি প্রধানমন্ত্রীকে পরামর্শ দেবেন।
  • উদ্দেশ্য: ২০০৮ সালের বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা মোকাবিলায় অভিজ্ঞ ব্রাউনের ইমেজ ব্যবহার করে স্টারমার দেশ ও দলের মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছেন।
এত বড় পরাজয়ের পরও কিয়ার স্টারমার পদত্যাগ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তিনি সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, “ভোটাররা যে বার্তা দিয়েছেন আমি তা গ্রহণ করছি। তবে আমি দায়িত্ব থেকে সরে গিয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করতে চাই না। আমরা আমাদের ভুলগুলো সংশোধন করে এগিয়ে যাব।”
এদিকে লেবার পার্টির ভেতরেই এখন স্টারমারের নেতৃত্বের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। অনেক সংসদ সদস্য মনে করছেন, ২০২৯ সালের সাধারণ নির্বাচনের আগে নেতৃত্বের পরিবর্তন না এলে দল আরও বড় বিপর্যয়ে পড়তে পারে।