Home স্বাস্থ্য স্তন ক্যান্সার: সচেতনতাই প্রতিরোধের মূল চাবিকাঠি

স্তন ক্যান্সার: সচেতনতাই প্রতিরোধের মূল চাবিকাঠি

হেলথ ডেস্ক: বিশ্বজুড়ে মহিলাদের মধ্যে স্তন ক্যান্সার একটি মারাত্মক ব্যাধি হিসেবে পরিচিত, যেখানে প্রতি ২০ জন মহিলার মধ্যে অন্তত একজন এই রোগে আক্রান্ত হন। উদ্বেগজনকভাবে, প্রতি ৫ জন আক্রান্তের মধ্যে ৩ জন মারা যান এবং প্রতি ৪ মিনিটে একজন মহিলা এই ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই উচ্চ মৃত্যুর হারের প্রধান কারণ হলো সচেতনতার অভাব। সময়মতো রোগ নির্ণয় এবং সঠিক চিকিৎসা শুরু হলে স্তন ক্যান্সার থেকে সম্পূর্ণ সুস্থ হওয়া সম্ভব।

প্রাথমিক লক্ষণ এবং গুরুত্ব

বেশিরভাগ মহিলা প্রাথমিক পর্যায়ে স্তন ক্যান্সারের লক্ষণগুলি বুঝতে পারেন না এবং নিয়মিত স্ব-পরীক্ষাও করেন না। প্রাথমিক লক্ষণগুলির মধ্যে রয়েছে:

স্তনে মাংসপিণ্ড বা শক্ত অনুভব করা।

স্তনের চামড়া কুঁচকে যাওয়া বা পরিবর্তন।

স্তনের ত্বকের অস্বাভাবিক পরিবর্তন।

নিপল থেকে রক্ত বা রস বের হওয়া।

নিপলের অস্বাভাবিক পরিবর্তন।

যদি এই ধরনের কোনো লক্ষণ দেখা যায়, তবে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অপরিহার্য।

ঝুঁকির কারণ এবং প্রতিরোধের উপায়

চিকিৎসকদের মতে, অসচেতনতা স্তন ক্যান্সার বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ। বংশগত ইতিহাস, দেরিতে বা তাড়াতাড়ি মেনোপজ, বেশি বয়সে গর্ভধারণ এবং পরিবেশগত পরিবর্তন স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তবে স্তন ক্যান্সার মানেই মারণ রোগ নয়। রেডিয়েশন অঙ্কোলজিস্ট ডাঃ মুক্তি মুখোপাধ্যায় জোর দিয়ে বলেন, “প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ ধরা পড়লে রোগী ক্যান্সার থেকে সম্পূর্ণরূপে সুস্থ হয়ে উঠতে পারে। কিন্তু থার্ড বা ফোর্থ স্টেজে ক্যান্সার ধরা পড়লে সুস্থ হয়ে ওঠার আশঙ্কা কম থাকে।”

নিয়মিত পরীক্ষা: সুস্থ থাকার মূলমন্ত্র

রোগ দ্রুত নির্ণয়ের জন্য নিয়মিত ব্রেস্ট-এক্সামিনেশন অত্যন্ত জরুরি। ডাঃ সিনিয়র রেডিয়েশন অঙ্কোলজিস্ট অরুন্ধতী দে পরামর্শ দেন, প্রতি সপ্তাহে একবার স্ব-পরীক্ষা এবং বছরে একবার ক্লিনিক্যাল এক্সামিনেশন করা উচিত। ৩০ বছর বয়সের পর থেকে ম্যামোগ্রাফি ও আল্ট্রা-সাউন্ডের মতো স্ক্রিনিং টেস্ট করানো আবশ্যক। স্ব-পরীক্ষার মাধ্যমে সহজেই স্তনে লাম্প বা অস্বাভাবিকতা ধরা পড়লেও, লাম্প মানেই যে ক্যান্সার, এমনটা নাও হতে পারে।

ইন্টারনেটে স্ব-পরীক্ষার অসংখ্য ভিডিও উপলব্ধ রয়েছে। এছাড়াও, গাইনোকোলজিস্ট বা অঙ্কোলজিস্টের কাছ থেকে স্ব-পরীক্ষার পদ্ধতি শেখা যেতে পারে। সঠিক পরীক্ষার অভাবে অনেক সময় টিউমার ধরা পড়ে না, তাই বছরে একবার ক্লিনিক্যাল এক্সামিনেশন গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে ২৫ বছরের তরুণীরাও স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছেন, তাই আরও বেশি সচেতন হওয়া জরুরি।

আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি

স্তন ক্যান্সার ধরা পড়া মানেই স্তন কেটে বাদ দিতে হবে, এমনটা এখন আর ঘটে না। ডাঃ মুক্তি মুখোপাধ্যায় জানান, “ক্যান্সারের চিকিৎসায় প্রযুক্তি ভীষণভাবে উন্নত। রেডিয়েশন, কেমোথেরাপি, হরমোন থেরাপির মাধ্যমে চিকিৎসা হয়। রোগ অনুযায়ী চিকিৎসা পদ্ধতি বেছে নেওয়া হয়।” সহজ কথায়, যত দ্রুত রোগ ধরা পড়বে, তত তাড়াতাড়ি সেরে ওঠা যাবে এবং কষ্ট কম হবে।

আসুন, আমরা সকলে সচেতন হই এবং আমাদের প্রিয়জনদেরও সচেতন করি, যাতে স্তন ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আমরা জয়ী হতে পারি।

 এ ধরণের আরও গুরুত্বপূর্ণ আপডেট পেতে ভিজিট করুন www.businesstoday24.com