আন্তর্জাতিক ডেস্ক: চায়না গোল্ড অ্যাসোসিয়েশন কর্তৃক বৃহস্পতিবার প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে চীনের স্বর্ণের বাজারে এক ঐতিহাসিক পরিবর্তন দেখা গেছে। দেশে স্বর্ণের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন যেমন বেড়েছে, তেমনি ব্যবহারের ধরণে এসেছে বড় ধরনের পরিবর্তন—যেখানে প্রথমবারের মতো গয়নাকে পেছনে ফেলে বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের চাহিদা শীর্ষে উঠে এসেছে।
অভ্যন্তরীণ উৎপাদন চিত্র
২০২৫ সালে চীনে স্বর্ণের অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের হার আগের বছরের তুলনায় ১.০৯% বৃদ্ধি পেয়েছে।
মোট উৎপাদন: ৩৮১.৩৩৯ টন।
প্রবৃদ্ধির কারণ: খনিগুলোর আধুনিকায়ন এবং পরিবেশবান্ধব উত্তোলনের ফলে গত বছরের তুলনায় উৎপাদনের এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখা সম্ভব হয়েছে।
স্বর্ণের ব্যবহার ও চাহিদা
গত বছর চীনে মোট স্বর্ণের ব্যবহার দাঁড়িয়েছে ৯৫০.০৯৬ টনে। তবে ব্যবহারের ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য ও নজিরবিহীন পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে।
বিনিয়োগের জয়জয়কার: চীনের স্বর্ণ বাজারের ইতিহাসে এই প্রথমবার বিনিয়োগকারী স্বর্ণের (Investment Gold) চাহিদা অলঙ্কার বা গয়নার ব্যবহারকে ছাড়িয়ে গেছে।
জুয়েলারি বনাম বিনিয়োগ: সাধারণত চীন ও ভারতে স্বর্ণের বড় একটি অংশ অলঙ্কার তৈরিতে ব্যবহৃত হলেও, ২০২৫ সালে চীনের সাধারণ মানুষ ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ সম্পদ হিসেবে গোল্ড বার (Bar) এবং কয়েন (Coin) জমা রাখাকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন।
পরিবর্তনের কারণসমূহ
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বিনিয়োগকারীদের এই ঝোঁক পরিবর্তনের পেছনে বেশ কিছু কারণ কাজ করেছে:
অর্থনৈতিক নিরাপত্তা: বিশ্ব অর্থনীতির অস্থিরতায় নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে মানুষ স্বর্ণের বার কেনা বাড়িয়েছে।
পরিবর্তিত জীবনধারা: তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এখন গয়নার চেয়ে সরাসরি ধাতব স্বর্ণে বিনিয়োগের প্রবণতা বেশি।
আমদানির ওপর নির্ভরতা
উৎপাদন ৩৮১.৩৩৯ টন হলেও ব্যবহারের পরিমাণ ৯৫০.০৯৬ টন হওয়ায় চীনকে তার চাহিদার একটি বিশাল অংশ (প্রায় ৫৬৮ টন) আন্তর্জাতিক বাজার থেকে আমদানির মাধ্যমে পূরণ করতে হয়েছে। এটি বিশ্ব বাজারে চীনের স্বর্ণ আমদানিকারক হিসেবে প্রভাবশালী অবস্থানকে আরও দৃঢ় করেছে।