Home আন্তর্জাতিক টানা দরপতনের মুখে স্বর্ণ: বিনিয়োগকারীরা কি এখন নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে?

টানা দরপতনের মুখে স্বর্ণ: বিনিয়োগকারীরা কি এখন নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বিগত এক সপ্তাহে আন্তর্জাতিক স্বর্ণের বাজারে তীব্র অস্থিরতা লক্ষ্য করা গেছে। জানুয়ারির শেষ দিকে রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছানোর পর ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে বড় ধরনের দরপতনের মুখে পড়েছে এই মূল্যবান ধাতু।

বাজার পরিস্থিতি: অস্থির ও নিম্নমুখী (Short-term Correction)

গত ৭ দিনের বাজার চিত্র (দরের ওঠানামা)

গত এক সপ্তাহে স্বর্ণের দাম প্রতি আউন্স $৫,৫০০ ডলারের ঘর থেকে নেমে বর্তমানে $৪,৮০০ ডলারের নিচে অবস্থান করছে।

তারিখ (২০২৬) প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম (USD – প্রায়) পরিবর্তনের ধরন
২৯ জানুয়ারি $৫,৫৮৬ (সর্বোচ্চ রেকর্ড) ঐতিহাসিক উচ্চতা
৩০ জানুয়ারি $৪,৭৪৫ তীব্র পতন (মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতা)
২ ফেব্রুয়ারি $৪,৬৫০ নিম্নমুখী প্রবণতা অব্যাহত
৩ ফেব্রুয়ারি $৪,৯৩৫ সাময়িক পুনরুদ্ধার (৬% বৃদ্ধি)
৪ ফেব্রুয়ারি $৪,৯৫১ স্থিতিশীল
৫ ফেব্রুয়ারি $৪,৭২২ পুনরায় বড় পতন
৬ ফেব্রুয়ারি $৪,৭৯৬ – $৪,৮২০ বাজার খোলার পর সামান্য বৃদ্ধি/স্থিতিশীল

 

বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বর্তমানে একটি দ্বিমুখী প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে:

  • মুনাফা হাতিয়ে নেওয়া (Profit Booking): জানুয়ারিতে স্বর্ণের দাম অস্বাভাবিক হারে বাড়ায় (piercing $5,000) বড় বিনিয়োগকারীরা ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুতেই তাদের শেয়ার বা ফিউচার কন্ট্রাক্ট বিক্রি করে মুনাফা তুলে নিতে শুরু করেছেন। ফলে বাজারে হঠাৎ সরবরাহ বেড়ে দরপতন ঘটেছে।
  • নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে আস্থা: জেপি মর্গান এবং গোল্ডম্যান স্যাকস-এর মতো প্রতিষ্ঠানগুলো পূর্বাভাস দিয়েছে যে ২০২৬ সালের শেষে স্বর্ণের দাম $৬,৩০০ ডলার পর্যন্ত হতে পারে। এই দীর্ঘমেয়াদী আস্থার কারণে দরপতনের সুযোগে অনেক ছোট ও মাঝারি বিনিয়োগকারী নতুন করে স্বর্ণ কেনার দিকে ঝুঁকছেন।
  • কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভূমিকা: বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো (বিশেষ করে চীন ও ভারত) ডলারের বিকল্প হিসেবে তাদের রিজার্ভে স্বর্ণ যুক্ত করা অব্যাহত রেখেছে। ২০২৬ সালে প্রায় ৮০০ টন স্বর্ণ কেনা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 বাজার অস্থিরতার মূল কারণসমূহ

ফেডারেল রিজার্ভের প্রভাব: মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের নীতি সুদহার কমানোর সম্ভাবনা এবং ডলারের মানের ওঠানামা স্বর্ণের বাজারকে সরাসরি প্রভাবিত করছে।

ভূ-রাজনীতি: যদিও যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত হওয়ার খবরে স্বর্ণের ‘সেফ হ্যাভেন’ ডিমান্ড কিছুটা কমেছে, তবুও বৈশ্বিক ঋণের বোঝা ও ডলারের ওপর অবিশ্বাস বাজারকে অস্থির করে রেখেছে।

প্রযুক্তিগত বিক্রয়: প্রতি আউন্স $৫,০০০ ডলার একটি মনস্তাত্ত্বিক সীমা ছিল। এটি অতিক্রম করার পর একটি স্বাভাবিক ‘টেকনিক্যাল কারেকশন’ বা দর সংশোধন প্রত্যাশিতই ছিল।

স্বল্পমেয়াদী বিনিয়োগকারীদের জন্য বর্তমান বাজার অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হলেও, দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগকারীদের জন্য এই মূল্য হ্রাস একটি সুযোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, আজকের মার্কিন নন-ফার্ম পেরোল (NFP) রিপোর্ট প্রকাশের পর স্বর্ণের দামের পরবর্তী গতিপথ আরও পরিষ্কার হবে।