Home আন্তর্জাতিক হরমুজ প্রণালীতে ইরানের আনুষ্ঠানিক ট্রানজিট ফি অনুমোদন

হরমুজ প্রণালীতে ইরানের আনুষ্ঠানিক ট্রানজিট ফি অনুমোদন

 দুবাই উপকূলে ট্যাঙ্কারে হামলা: সংকটে বিশ্ব বাণিজ্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালী নিয়ে নতুন কঠোর অবস্থান নিয়েছে ইরান। দেশটির পার্লামেন্ট এই প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলের ওপর আনুষ্ঠানিক ট্রানজিট ফি এবং প্রবেশাধিকার সংক্রান্ত নতুন বিধিমালা অনুমোদন করেছে।
একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে দুবাই উপকূলে একটি বিশাল তেলবাহী জাহাজে (ভিএলসিসি) হামলার ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন আইআরআইবি-র তথ্যমতে, দেশটির পার্লামেন্টের নিরাপত্তা কমিটি হরমুজ প্রণালীর জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদী ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এই নতুন নিয়মের আওতায় এখন থেকে হরমুজ প্রণালী অতিক্রমকারী জাহাজগুলোকে ইরানি রিয়ালে ট্রানজিট ফি প্রদান করতে হবে।
এছাড়া নিরাপত্তা ও পরিবেশ রক্ষার নামে জারি করা হয়েছে নতুন কিছু বিধিনিষেধ। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিংবা ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপকারী দেশগুলোর জাহাজের জন্য এই পথ ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
গ্রিসভিত্তিক শিপ ব্রোকার প্রতিষ্ঠান ‘এক্সক্লুসিভ শিপ ব্রোকার্স’ তাদের সাপ্তাহিক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালী এখন আর কেবল একটি সাধারণ জলপথ নয়, বরং এটি একটি ‘নিয়ন্ত্রিত করিডোরে’ পরিণত হয়েছে। যেখানে প্রবেশাধিকার এখন সম্পূর্ণ রাজনৈতিক এবং সিলেক্টিভ বা বাছাইকৃত।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই রিয়াল-ভিত্তিক ট্রানজিট ফি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। কারণ এই ফি পরিশোধ করলে জাহাজ মালিকরা পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়ার ঝুঁকিতে থাকবেন, আর পরিশোধ না করলে তাদের জাহাজ চলাচলে বাধা দেওয়া হতে পারে।
এদিকে, এই আইনি কড়াকড়ির মধ্যেই দুবাই উপকূলে কুয়েতের একটি পতাকাবাহী বিশাল তেলের ট্যাঙ্কারে হামলার খবর পাওয়া গেছে। কুয়েত পেট্রোলিয়াম কোম্পানি (কেপিসি) জানিয়েছে, তাদের ‘আল-সালমি’ নামক জাহাজটি যখন দুবাই থেকে ৩১ নটিক্যাল মাইল দূরে নোঙ্গর করা ছিল, তখন ইরানি বাহিনী সেটিতে হামলা চালায়। এতে জাহাজটির খোলে আগুন ধরে যায় এবং বেশ ক্ষয়ক্ষতি হয়।
তবে স্বস্তির বিষয় হলো, জাহাজে থাকা ২৪ জন ক্রুর সবাই সুরক্ষিত আছেন। হামলার সময় জাহাজটি তার গন্তব্য চীন হিসেবে প্রদর্শন করছিল, যা মূলত আক্রমণ এড়ানোর একটি কৌশল হিসেবে এখনকার সময়ে অনেকে ব্যবহার করছেন।
একই সময়ে সৌদি আরবের রাস তানুকা বন্দরের কাছে লিবেরিয়ার পতাকাবাহী কন্টেইনার জাহাজ ‘এক্সপ্রেস রোম’-এর আশেপাশে রহস্যজনক বস্তু পড়ার খবর পাওয়া গেছে। যদিও এতে কোনো হতাহত বা বড় ক্ষতির খবর মেলেনি। তবে একের পর এক এসব ঘটনা এবং ইরানের নতুন ফি আরোপের সিদ্ধান্ত বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহ এবং সামুদ্রিক বীমা খাতের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। মুক্ত নৌ-চলাচলের আন্তর্জাতিক রীতিনীতি এখন হরমুজ সংকটে এক বড় পরীক্ষার মুখে।