বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম: বন্দরনগরী চট্টগ্রামসহ সারা দেশ আজ তীব্র শৈত্যপ্রবাহ ও ঘন কুয়াশার কবলে। গত কয়েকদিনের তুলনায় আজ তাপমাত্রার পারদ নেমেছে উল্লেখযোগ্যভাবে। আজ ভোরে চট্টগ্রামে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৩.৫° সেলসিয়াস, তবে হিমেল বাতাসের কারণে অনুভূত হচ্ছে আরও অনেক কম।
আজ শনিবার ভোর থেকেই চট্টগ্রামের আকাশ ঘন কুয়াশায় ঢাকা। পতেঙ্গা সংলগ্ন কর্ণফুলী নদী থেকে শুরু করে নগরের ব্যস্ততম জিইসি মোড়, বহদ্দারহাট কিংবা আগ্রাবাদ—সবই যেন সাদা চাদরের নিচে হারিয়ে গেছে। দৃষ্টিসীমা মাত্র কয়েক গজের মধ্যে নেমে আসায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক এবং এশিয়ান হাইওয়েতে যানবাহনগুলো হেডলাইট জ্বালিয়ে অত্যন্ত ধীরগতিতে চলাচল করছে। কুয়াশার কারণে চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজ চলাচল এবং শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইট শিডিউলে কিছুটা বিঘ্ন ঘটার খবর পাওয়া গেছে।
শহরের অভিজাত এলাকার মানুষ যখন লেপ-কম্বলের নিচে উষ্ণতা খুঁজছেন, তখন নগরের ফুটপাত ও বস্তি এলাকার মানুষের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। লালখান বাজার মোড়ে দেখা গেল একদল দিনমজুরকে, যারা কাজের আশায় কোদাল-ঝুড়ি নিয়ে আগুনের কুণ্ডলী জ্বালিয়ে হাত গরম করার চেষ্টা করছেন।
তাদেরই একজন রহমত মিয়া (৫৫) বলেন, “বাবা, হাত-পা তো জমে বরফ হয়ে যাচ্ছে। কুয়াশার কারণে রিকশা নিয়ে বের হওয়া যাচ্ছে না, রাস্তার ওপারও দেখা যায় না। পেটের দায়ে বের হইছি, কিন্তু এই শীতে কাজ করার শক্তি পাইতেছি না।”
ভোর ৬টায় যখন আপনি জানালার পর্দা সরাচ্ছিলেন, তখন নগরের অলঙ্কার মোড় কিংবা ইপিজেড গেটে হাজার হাজার পোশাক শ্রমিক কারখানার দিকে রওনা হয়েছেন। কনকনে হিমেল হাওয়ায় জবুথবু হয়ে তাদের দীর্ঘ পথ হেঁটে যেতে দেখা গেছে। সবচেয়ে বেশি কষ্টে আছেন নগরের ভাসমান মানুষ এবং মাছের আড়তের শ্রমিকরা। চকবাজার ও চাক্তাই এলাকার পাইকারি বাজারে কুয়াশার মধ্যেই কায়িক পরিশ্রমে ব্যস্ত তারা, কিন্তু হাড়কাঁপানো বাতাস তাদের কষ্টকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোতে মাঝারি থেকে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। পঞ্চগড় ও কুড়িগ্রামে তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রির নিচে নেমে এসেছে। আগামী ২-৩ দিন কুয়াশার এই দাপট অব্যাহত থাকতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা আরও কমার সম্ভাবনা রয়েছে।
শীতের এই তীব্রতায় বেড়েছে ঠান্ডাজনিত রোগের প্রকোপ। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শিশু ও বয়স্ক রোগীদের ভিড় বাড়ছে। চিকিৎসকরা পরামর্শ দিচ্ছেন জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ভোরে বাইরে বের না হতে এবং অবশ্যই মাস্ক ও পর্যাপ্ত গরম কাপড় পরিধান করতে।










