Home নির্বাচন ভিন্ন দল, ভিন্ন প্রতীক, একই ঘর

ভিন্ন দল, ভিন্ন প্রতীক, একই ঘর

হান্নান মাসুদ ও তার বাবা

হাতিয়ার নির্বাচনী লড়াইয়ে মুখোমুখি মাসউদ ও তার বাবা

বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, নোয়াখালী: রাজনীতিতে উত্তরাধিকার বা বংশপরম্পরা নতুন কিছু নয়, কিন্তু একই আসনে যখন বাবা ও ছেলে একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে মাঠে নামেন, তখন সেটি বাড়তি কৌতূহলের জন্ম দেয়। নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনে এবার সেই নাটকীয় দৃশ্যই দেখা যাচ্ছে। জুলাই অভ্যুত্থানের পরিচিত মুখ এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান মাসউদ এবং তার বাবা অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আমিরুল ইসলাম মোহাম্মদ আবদুল মালেক দুজনেই প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্যটি বেরিয়ে এসেছে তাদের দাখিলকৃত হলফনামা থেকে। ২৬ বছর বয়সী ছেলের সম্পদের পরিমাণ তার বাবার চেয়ে প্রায় ৫ গুণ বেশি!

এক নজরে বাবা বনাম ছেলের সম্পদের খতিয়ান:

বিবরণ বাবা (আমিরুল ইসলাম) ছেলে (হান্নান মাসউদ)
পেশা অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ব্যবসায়ী (ডিজিল্যান্ড গ্লোবাল)
নগদ টাকা ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা ৩৫ লাখ ৮৩ হাজার ৪৭৫ টাকা
ব্যাংকে জমা ১ লাখ ৯৩ হাজার ৬৫১ টাকা ২ হাজার ৫৫ টাকা
স্বর্ণালংকার নেই ৮ লাখ টাকা
মোট সম্পদ (রিটার্ন অনুযায়ী) ২০ লাখ ৯৩ হাজার ৬৫১ টাকা ৯৮ লাখ ৩৯ হাজার ৬৫৬ টাকা

টাকা এল কোথা থেকে? মাসউদের ব্যাখ্যা

ছাত্রাবস্থায় টিউশনি এবং ব্যবসা থেকে এই আয় করেছেন বলে জানিয়েছেন হান্নান মাসউদ। এছাড়াও বিয়ে ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে পাওয়া উপহারও তার সম্পদে ভূমিকা রেখেছে। তিনি আত্মবিশ্বাসের সাথে বলেন, “আমি হলফনামায় কোনো তথ্য লুকাইনি, যা আছে সব সত্য।”

অন্যদিকে, বাবা আমিরুল ইসলাম তার ১৬৮ শতাংশ জমির মালিকানার কথা উল্লেখ করলেও ছেলের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বা সম্পদের ব্যবধান নিয়ে গণমাধ্যমে কোনো বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হননি।

একই বাড়িতে বসবাস করলেও রাজনীতির মাঠে তাদের পথ এখন আলাদা। হান্নান মাসউদ লড়ছেন এনসিপির হয়ে ‘শাপলা কলি’ প্রতীকে, আর তার বাবা বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির (বিএসপি) প্রার্থী হিসেবে নিয়েছেন ‘একতারা’ প্রতীক।

জুলাই অভ্যুত্থানের সামনের সারিতে থাকা মাসউদের এই নির্বাচনী লড়াই এখন নোয়াখালীর টক অফ দ্য টাউন। এখন দেখার বিষয়, হাতিয়ার মানুষ অভিজ্ঞ শিক্ষক বাবাকে বেছে নেন, নাকি তরুণ তুর্কী ছেলেকে!