হেলথ ডেস্ক
সাম্প্রতিক দশকগুলোতে হার্ট অ্যাটাক বা হৃদরোগ কেবল মধ্যবয়সী বা বয়স্কদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বর্তমানে ২০ থেকে ৩০ বছর বয়সীদের মধ্যেও হার্ট অ্যাটাক এবং হঠাৎ হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে যাওয়ার (SCA) ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে।
কেন তরুণরা ঝুঁকিতে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, মূলত অনিয়মিত জীবনযাপনই এই পরিবর্তনের মূল কারণ:
অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস: অতিরিক্ত চর্বি, লবণ ও চিনিযুক্ত ফাস্টফুড এবং প্রসেসড খাবার রক্তচাপ ও ক্ষতিকর কোলেস্টেরল বাড়িয়ে দিচ্ছে।
পানীয় ও ধূমপান: সোডা এবং কৃত্রিম মিষ্টিযুক্ত (Erythritol) ডায়েট সোডা রক্ত জমাট বাঁধার ঝুঁকি বাড়ায়। এছাড়া অ্যালকোহল ও তামাক হৃদরোগের অন্যতম প্রধান কারণ।
শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা: দীর্ঘক্ষণ বসে কাজ করার ফলে মেদ বৃদ্ধি পায়, যা টাইপ-২ ডায়াবেটিস ও হৃদরোগের পথ প্রশস্ত করে।
মানসিক চাপ ও পরিবেশ: তীব্র প্রতিযোগিতা ও দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ রক্তচাপ বাড়ায়। পাশাপাশি বায়ুদূষণ ও শব্দদূষণ ধমনীতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে হৃদযন্ত্রের ক্ষতি করছে।
রাসায়নিক প্রভাব ও জলবায়ু: খাবারে ব্যবহৃত প্রিজারভেটিভ, কালার এবং চরম আবহাওয়া (অতিরিক্ত গরম বা ঠান্ডা) হৃদযন্ত্রের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে।
হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণসমূহ
নিম্নোক্ত লক্ষণগুলো দেখা দিলে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে:
বুকে তীব্র ব্যথা, চাপ বা অস্বস্তি (বিশেষ করে বাম দিকে)।
ব্যথা হাত, কাঁধ, ঘাড়, পিঠ বা পেটে ছড়িয়ে পড়া।
হঠাৎ প্রচণ্ড শ্বাসকষ্ট।
মাথা ঘোরা, হাত-পা ঠান্ডা হয়ে আসা এবং ঘাম হওয়া।
বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া।
জরুরি প্রাথমিক চিকিৎসা
লক্ষণ দেখা মাত্রই নিচের পদক্ষেপগুলো নিন:
অবিলম্বে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা বা অ্যাম্বুলেন্স কল করুন।
আক্রান্ত ব্যক্তিকে আরামদায়ক অবস্থায় বসান এবং শরীরের আঁটসাঁট পোশাক ঢিলা করে দিন।
একটি অ্যাসপিরিন (Aspirin) ট্যাবলেট জিহ্বার নিচে দিন।
যদি রক্তচাপ কমে যায় বা পা ঠান্ডা হয়ে আসে, তবে পা দুটি কিছুটা উঁচুতে তুলে রাখুন।
প্রতিরোধের উপায়
সুস্থ থাকতে স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ, নিয়মিত ব্যায়াম, পর্যাপ্ত বিশ্রাম এবং তামাক ও অ্যালকোহল বর্জন করা অপরিহার্য।
তথ্যসূত্র: বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পর্যবেক্ষণ (ইন্টারনাল মেডিসিন)।










