কারাগার থেকে ক্ষমতার শীর্ষে: যে নেতারা বদলে দিয়েছেন বিশ্ব
শামসুল ইসলাম:
ভিয়েতনামের জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের প্রাণপুরুষ হো চি মিন। তার জীবন ছিল এক দীর্ঘ ও কঠিন সংগ্রামের আখ্যান। তিনি শুধু নিজ দেশের শোষকদের বিরুদ্ধেই লড়েননি, বরং বিশ্বজুড়ে সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন।
রাজনৈতিক কারণে তাকে বহুবার ছদ্মবেশ ধারণ করতে হয়েছে এবং দীর্ঘ সময় কারাগারে কাটাতে হয়েছে।
কারাবাস: চীন থেকে ভিয়েতনাম
১৯৪২ সালে চীনে থাকা অবস্থায় কুওমিনতাং সরকার তাকে ‘গুপ্তচর’ সন্দেহে গ্রেফতার করে। দীর্ঘ এক বছরেরও বেশি সময় তিনি চীনের ১৩টি জেলার ৩০টি কারাগারে বন্দী ছিলেন। তাকে অত্যন্ত অমানবিক পরিবেশে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হতো। তবে এই প্রতিকূলতা তার মনোবলকে বিন্দুমাত্র দমাতে পারেনি।
কারাগারের দিনগুলো: কবিতার মাধ্যমে সংগ্রাম
হো চি মিন ছিলেন একাধারে যোদ্ধা ও কবি।
‘প্রিজন ডায়েরি’ (Prison Diary): কারাগারে বন্দী থাকাকালীন তিনি চীনা ভাষায় ১০০টিরও বেশি কবিতা লিখেছিলেন, যা পরবর্তীতে ‘প্রিজন ডায়েরি’ নামে বিশ্ববিখ্যাত হয়। এই কবিতাগুলোতে তার দেশপ্রেম, মানুষের প্রতি ভালোবাসা এবং বন্দীজীবনের যন্ত্রণার চিত্র ফুটে ওঠে।
মানসিক শক্তি: তিনি বিশ্বাস করতেন, “শরীর জেলখানায় থাকলেও মন যেন কখনো বন্দী না হয়।” এই দর্শনই তাকে জেলের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে বাঁচিয়ে রেখেছিল।
মুক্তি এবং ভিয়েতনামের মুক্তি সংগ্রাম
১৯৪৩ সালে মুক্তির পর তিনি ভিয়েতনামে ফিরে আসেন এবং ‘ভিয়েতমিন’ (Viet Minh) বাহিনী গঠন করে ফরাসি ঔপনিবেশিক শাসন ও জাপানি দখলদারদের বিরুদ্ধে গেরিলা যুদ্ধ শুরু করেন।
তার অদম্য নেতৃত্বে ১৯৪৫ সালে উত্তর ভিয়েতনাম স্বাধীনতা ঘোষণা করে এবং তিনি দেশটির প্রেসিডেন্ট হন। পরবর্তীতে তার নামেই ভিয়েতনামের বৃহত্তম শহর ‘সাইগন’-এর নামকরণ করা হয় ‘হো চি মিন সিটি’।
আমাদের জন্য শিক্ষা
হো চি মিনের জীবন শেখায় যে, চরম শারীরিক লাঞ্ছনাও একজন মানুষের সৃজনশীলতা ও দেশপ্রেমকে ধ্বংস করতে পারে না। প্রতিকূলতা যখন সর্বোচ্চ পর্যায়ে থাকে, তখন ধৈর্য এবং বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চাই মুক্তির পথ দেখায়।