মাসুদ রানা, রামগড়: আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৮ নম্বর খাগড়াছড়ি আসনে ভোটের লড়াইয়ের চেয়েও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে কেন্দ্রগুলোর ভৌগোলিক অবস্থান ও নিরাপত্তা ঝুঁকি। জেলা পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদন বলছে, জেলার ২০৩টি কেন্দ্রের মধ্যে ১৮৯টিই ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ ও ‘অধিক ঝুঁকিপূর্ণ’। শতাংশের হিসেবে যা মোট কেন্দ্রের প্রায় ৯৩ শতাংশ। এর মধ্যে মাত্র ১৪টি কেন্দ্রকে ‘সাধারণ’ বা ঝুঁকিমুক্ত বলে গণ্য করা হয়েছে।
হেলিকপ্টারে পৌঁছাবে ভোটের সরঞ্জাম
দুর্গম পাহাড় ও সীমান্ত জনপদ হওয়ায় তিনটি কেন্দ্রে জনবল এবং নির্বাচনী সরঞ্জাম পৌঁছাতে হবে আকাশপথে। দীঘিনালার নাড়াইছড়ি এবং লক্ষ্মীছড়ির ফুত্যাছড়ি ও শুকনাছড়ি—এই তিন কেন্দ্রে যাতায়াতের কোনো স্থলপথ না থাকায় হেলিকপ্টার ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
ঝুঁকি ও ভোটারের পরিসংখ্যান
নির্বাচন কমিশনের তালিকায় ৬৮টি কেন্দ্রকে ‘অধিক ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
সর্বোচ্চ ঝুঁকি: খাগড়াছড়ি সদরে সর্বোচ্চ ১৬টি কেন্দ্র অধিক ঝুঁকিপূর্ণ। এরপর রামগড়ে ১১টি এবং গুইমারায় ১০টি।
ভোটার সংখ্যা: ৬৮টি অধিক ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে মোট ভোটার ১ লক্ষ ৪৯ হাজার ৬২৬ জন।
কেন্দ্র বিন্যাস ও স্থানীয়দের ক্ষোভ
প্রতিবেদনে উঠে এসেছে পাহাড়ি অঞ্চলের কেন্দ্র স্থাপনের এক রূঢ় বাস্তবতা। সমতলের মানদণ্ডে কেন্দ্র স্থাপন করায় পাহাড়ের বাসিন্দাদের পড়তে হচ্ছে চরম ভোগান্তিতে।
মাটিরাঙার সাপমারা কেন্দ্রে ৪টি ওয়ার্ডের ৩৫টি পাড়ার ভোটারদের ভোট দিতে হয়। একেকটি পাড়া থেকে কেন্দ্রের দূরত্ব ৫-৭ কিলোমিটার।
লক্ষ্মীছড়ির বর্মাছড়ি ইউনিয়নের বাসিন্দারা যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার কারণে অনেক সময় ভোট দিতেই পারেন না।
সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মতে, জীবন-জীবিকা ও পাহাড়ের ভূ-প্রকৃতি বিবেচনা না করে কেন্দ্র বিন্যাস করায় ভোটার উপস্থিতি কমছে। তাদের দাবি, কেন্দ্র বাড়ানোর পাশাপাশি স্থানীয় ‘হেডম্যান-কার্বারী’দের পরামর্শ নেওয়া জরুরি ছিল।
প্রশাসনের আশ্বাস
পুলিশ সুপার সায়েম মাহমুদ জানান, প্রার্থীর অবস্থান ও ভৌগোলিক গুরুত্ব বিবেচনা করে ঝুঁকির তালিকা করা হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে পর্যাপ্ত আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন থাকবে। বিশেষ করে ‘অধিক ঝুঁকিপূর্ণ’ কেন্দ্রগুলোতে গোয়েন্দা নজরদারি ও টহল কয়েক গুণ বাড়ানো হবে।
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা এস এম শাহাদাত হোসেন জানিয়েছেন, পুলিশের ডিএসবি রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করেই কেন্দ্রগুলোর শ্রেণিবিভাগ করা হয়েছে এবং শান্তিপূর্ণ ভোটের জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।