Home চট্টগ্রাম তেল-গ্যাস ও বকেয়া মেটাতেই গেছে ৯০ হাজার কোটি টাকা : অর্থমন্ত্রী

তেল-গ্যাস ও বকেয়া মেটাতেই গেছে ৯০ হাজার কোটি টাকা : অর্থমন্ত্রী

অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী
আগ্রাবাদে মা ও শিশু হাসপাতাল ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন
বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম: দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতের সংস্কার নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রেখেছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ এবং পূর্ববর্তী সরকারের রেখে যাওয়া বকেয়া পরিশোধের কারণে সরকারের বিশাল অঙ্কের অর্থ ব্যয় হয়েছে, যার প্রভাব পড়েছে অর্থনীতিতে।
শনিবার (১৬ মে) দুপুরে চট্টগ্রামের আগ্রাবাদে মা ও শিশু হাসপাতাল মেডিকেল কলেজের ১৮ তলা ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব তথ্য জানান।
জ্বালানি সংকট ও অর্থনৈতিক বাস্তবতা
অর্থনৈতিক পরিস্থিতির বর্ণনা দিতে গিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের কারণে তেল ও গ্যাস খাতে সরকারকে অতিরিক্ত প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করতে হয়েছে। এর পাশাপাশি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে আগের সরকারের রেখে যাওয়া প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকার বকেয়াও বর্তমান সরকারকে পরিশোধ করতে হচ্ছে। সব মিলিয়ে এই দুই খাতেই প্রায় ৯০ হাজার কোটি টাকা চলে গেছে। ফলে দেশের অর্থনীতি বর্তমানে একটি ঋণাত্মক অবস্থায় রয়েছে এবং এই সংকট কাটিয়ে পুরোপুরি ঘুরে দাঁড়াতে আরও অন্তত দুই বছর সময় লাগবে।
স্বাস্থ্য খাতে রেকর্ড বরাদ্দ ও বেসরকারি হাসপাতালের সঙ্গে চুক্তি
অর্থনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেও আসন্ন বাজেটে স্বাস্থ্য খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে বলে জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা (ইউনিভার্সাল হেলথ কেয়ার) নিশ্চিত করতে এবার বাজেটে বরাদ্দ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হবে। দরিদ্র জনগোষ্ঠীর চিকিৎসা ব্যয় সরকার নিজে বহন করবে। সরকারি হাসপাতালের সীমাবদ্ধতা দূর করতে বেসরকারি হাসপাতালগুলোর সঙ্গে চুক্তিভিত্তিক ব্যবস্থা করা হবে; যেখানে দরিদ্র রোগীরা বিনামূল্যে চিকিৎসা পাবেন এবং সেই বিল সরকার পরিশোধ করবে। তবে স্বাস্থ্যখাতে শুধু বরাদ্দ বাড়ালেই হবে না, অতীতে হওয়া বিপুল দুর্নীতির অবসান ঘটিয়ে অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার তাগিদ দেন তিনি।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধের হুঁশিয়ারি
মেডিকেল শিক্ষার মান বজায় রাখার ওপর কঠোর জোর দিয়ে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে রাজনীতিকরণের মাধ্যমে ধ্বংস করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠান রক্ষায় এখন থেকে সব ধরনের রাজনৈতিক প্রভাব ও হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে। লবিং, তদবির বা রাজনৈতিক বিবেচনায় কোনো শিক্ষার্থী ভর্তি করা যাবে না। কেবল যোগ্যতার ভিত্তিতেই ভর্তি নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া পর্যাপ্ত শিক্ষক, ফ্যাকাল্টি ও অবকাঠামো নিশ্চিত না করে মেডিকেল কলেজগুলোতে আসন সংখ্যা না বাড়ানোর জন্য তিনি আহ্বান জানান।
প্রযুক্তি ও দক্ষ জনবল সৃষ্টিতে জোর
বর্তমান বিশ্বকে মাল্টিমিডিয়াভিত্তিক উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, মেডিকেল শিক্ষার্থীদের জন্য আধুনিক শ্রেণিকক্ষ, ডিজিটাল লাইব্রেরি ও প্রযুক্তিনির্ভর প্রশিক্ষণের সুবিধা থাকতে হবে। দেশে দক্ষ মেডিকেল টেকনোলজিস্টের তীব্র ঘাটতি রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দক্ষ জনবলের অভাবে কোটি কোটি টাকার চিকিৎসা যন্ত্রপাতি অব্যবহৃত পড়ে থাকে। এই সংকট সমাধানে দ্রুত মেডিকেল টেকনোলজি ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দেন তিনি।
প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা ও অবকাঠামো সংস্কার
নতুন ভবন নির্মাণ প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা বাংলাদেশের একটি বড় সমস্যা। নির্ধারিত সময়ে মানসম্মত নির্মাণকাজ শেষ করার পাশাপাশি তিনি ভবনের নকশাগত ত্রুটি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। মা ও শিশু হাসপাতালের প্রস্তাবিত ১৮ তলা ভবনে মাত্র ৭২টি গাড়ি পার্কিংয়ের সুবিধাকে অপর্যাপ্ত আখ্যা দিয়ে তিনি সেখানে কমপক্ষে ২০০ থেকে ২৫০টি গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা রাখার পরামর্শ দেন এবং প্রয়োজনে অতিরিক্ত বেজমেন্ট নির্মাণের নির্দেশ দেন।
অনুষ্ঠান শেষে অর্থমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে হাসপাতালের ১৮ তলা ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এ সময় মা ও শিশু হাসপাতাল এবং মেডিকেল কলেজ ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।