Home কৃষি হিমাগার মালিকদের একচেটিয়া সিদ্ধান্তে দিশেহারা আলু চাষি

হিমাগার মালিকদের একচেটিয়া সিদ্ধান্তে দিশেহারা আলু চাষি

বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি,  রংপুর ও মুন্সীগঞ্জ:
মাঠে ফলন ভালো হলেও বাংলাদেশের আলু চাষিদের মুখে হাসির বদলে এখন দুশ্চিন্তার কালো মেঘ। একদিকে বাজারে আলুর দাম কম, অন্যদিকে হিমাগার মালিকদের সিন্ডিকেট করে ভাড়ার বোঝা বাড়িয়ে দেওয়া—এই দুই সাঁড়াশী চাপে পিষ্ট হচ্ছেন প্রান্তিক কৃষকরা।
বাংলাদেশ কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশন কর্তৃক আলুর হিমাগার ভাড়া প্রতি কেজি ৮ টাকা নির্ধারণের প্রতিবাদ করেছেন আলু চাষিরা।
যুক্তিহীন ভাড়া বৃদ্ধি: কৃষকের পকেট কাটার আয়োজন
গত বছর আলুর হিমাগার ভাড়া ছিল কেজি প্রতি ৫ থেকে ৬ টাকা। এ বছর কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়াই তা একলাফে ৮ টাকা করা হয়েছে। অনেক স্থানে বস্তা প্রতি (৫০ কেজি) ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ৪০০ টাকার উপরে।
কৃষকদের অভিযোগ, বিদ্যুৎ বিল বা শ্রমিকের মজুরি যে হারে বেড়েছে, তার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি হারে ভাড়া বাড়ানো হয়েছে। এটি নিছক মুনাফাখোরি ছাড়া আর কিছুই নয়।
বাজারের সাথে ভাড়ার বৈষম্য
বর্তমানে পাইকারি বাজারে নতুন আলু বিক্রি হচ্ছে ১৫-১৮ টাকা কেজি দরে। অথচ কৃষকের উৎপাদন খরচই দাঁড়িয়েছে ১৮-২২ টাকা। এই লোকসানের মধ্যেই যদি কেজি প্রতি ৮ টাকা হিমাগার ভাড়া দিতে হয়, তবে আলুর দাম কেজি প্রতি অন্তত ৩০ টাকা না হলে কৃষকের আসল টাকাই উঠবে না।
কৃষকদের দাবি, হিমাগার মালিকরা আলুর বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে এবং কৃষকদের বাধ্য করে কম দামে আলু কিনে নিতেই এই কৌশলী ভাড়া বৃদ্ধি করেছেন।
সিন্ডিকেটের কবলে হিমাগার
রংপুর ও মুন্সীগঞ্জের কৃষকদের মতে, হিমাগার মালিকরা একটি শক্তিশালী ‘এসোসিয়েশন’ বা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ভাড়ার হার চাপিয়ে দিচ্ছেন। সরকারি কোনো নিয়ন্ত্রণ না থাকায় তারা ইচ্ছামতো ভাড়া বাড়িয়ে সাধারণ চাষিদের জিম্মি করছেন। অনেক কৃষক অভিযোগ করেছেন, ভাড়া বৃদ্ধির প্রতিবাদ করলে হিমাগারে আলু রাখার জায়গা দেওয়া হবে না বলে হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
হতাশাগ্রস্ত কৃষকদের বক্তব্য
মুন্সীগঞ্জের এক কৃষক বলেন, “সার, বীজ আর কামলার দাম দিতে গিয়ে জান শেষ। এখন হিমাগার মালিকরা চাচ্ছে আমাদের ঘাম ঝরানো আলুর পুরো লাভটাই ভাড়ার নামে নিয়ে নিতে। ৮ টাকা ভাড়া দিলে আমাদের আর বাড়ি ফেরার পথ থাকবে না।”
জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন
কৃষি অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, হিমাগার মালিকদের এই স্বেচ্ছাচারিতা বন্ধ না হলে আগামীতে আলু চাষে আগ্রহ হারাবেন কৃষকরা। অবিলম্বে সরকারি তদারকির মাধ্যমে একটি যৌক্তিক ভাড়া নির্ধারণ এবং হিমাগারগুলোর ওপর কঠোর প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা এখন সময়ের দাবি।
ভিজিট করুন: www.businesstoday24.com