তারিক-উল-ইসলাম, ঢাকা: বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান বেকারত্ব দূরীকরণে এক বিশাল আশার আলো দেখাচ্ছে দেশের পর্যটন খাত। সরকারের সদ্য চূড়ান্ত করা ২০ বছর মেয়াদী ‘জাতীয় পর্যটন মাস্টারপ্ল্যান’-এ আগামী দুই দশকে এই খাতে প্রায় ১৫ লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই বিশাল কর্মযজ্ঞ বাস্তবায়িত হলে পর্যটন হবে দেশের অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।
কোন কোন ক্ষেত্রে তৈরি হবে কাজের সুযোগ?
মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী, কেবল হোটেল বা রিসোর্ট নয়, বরং পর্যটনের সাথে সম্পৃক্ত বহুমুখী উপ-খাতে এই কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। এর মধ্যে রয়েছে:
আতিথেয়তা ও সেবা (Hospitality): আন্তর্জাতিক মানের হোটেল, মোটেল ও রেস্তোরাঁ পরিচালনার জন্য কয়েক লাখ দক্ষ কর্মীর প্রয়োজন হবে।
ট্যুর গাইড ও লজিস্টিকস: বিদেশি পর্যটকদের জন্য দক্ষ গাইড, অনুবাদক এবং পরিবহন চালকদের বড় একটি বাজার তৈরি হচ্ছে।
গ্রামীণ ও লোকজ শিল্প: ইকো-টুরিজম ও কালিনারি টুরিজম বাড়লে সরাসরি উপকৃত হবেন গ্রামবাংলার ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা, কারিগর এবং রন্ধনশিল্পীরা।
ডিজিটাল টুরিজম: পর্যটন কেন্দ্রগুলোর ডিজিটাল ব্র্যান্ডিং এবং আইটি সেবার জন্য কয়েক হাজার দক্ষ তরুণ-তরুণীর কর্মসংস্থান হবে।
দক্ষ জনশক্তি তৈরির চ্যালেঞ্জ
১৫ লাখ কর্মসংস্থানের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে দক্ষ জনবলের অভাব। মাস্টারপ্ল্যানে পর্যটন সংশ্লিষ্ট বিশেষায়িত শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও ভোকেশনাল ইনস্টিটিউটগুলোতে পর্যটন ও আতিথেয়তা ব্যবস্থাপনা (Tourism and Hospitality Management) কোর্সকে আরও আধুনিক ও বাস্তবমুখী করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের অভিমত
পর্যটন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যদি এই মহাপরিকল্পনা অনুযায়ী অবকাঠামো উন্নয়ন এবং বিদেশি পর্যটক আকর্ষণে সফল হওয়া যায়, তবে ১৫ লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা অবাস্তব কিছু নয়। এতে করে বিশেষ করে শিক্ষিত বেকার ও গ্রামীণ যুবসমাজের জন্য আয়ের নতুন পথ উন্মোচিত হবে।
অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব
বিপুল সংখ্যক মানুষের এই কর্মসংস্থান সরাসরি দেশের দারিদ্র্য বিমোচন ও জিডিপিতে বড় ধরনের অবদান রাখবে। মাস্টারপ্ল্যানটি এমনভাবে সাজানো হয়েছে যাতে কেবল শহরকেন্দ্রিক নয়, বরং প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষও পর্যটনের সুফল ভোগ করতে পারে।
সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, ২০৪৫ সালের মধ্যে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম ‘এমপ্লয়মেন্ট হাব’ হিসেবে পরিচিতি পাবে এই পর্যটন শিল্পের হাত ধরেই।