বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, রাঙামাটি: পাহাড়ের বুকে সাদা মেঘের লুকোচুরি আর ঝমঝমে বৃষ্টি—এই দুইয়ের মিতালী দেখতে বর্ষায় রূপসী সাজেক এখন অনন্য। যান্ত্রিক জীবনের ক্লান্তি ঝেড়ে প্রকৃতির ছোঁয়া পেতে পর্যটকদের ঢল নেমেছে রাঙামাটির এই মেঘের রাজ্যে। তবে পর্যটকদের এই উপচে পড়া ভিড়ে সাজেক ভ্যালিতে দেখা দিয়েছে তীব্র আবাসন সংকট। আগাম বুকিং ছাড়া এসে অনেক পর্যটককেই রাত কাটাতে হচ্ছে খোলা আকাশের নিচে বা স্থানীয়দের বারান্দায়।
বর্ষায় সাজেকের মায়াবী রূপ
বর্ষাকালে সাজেক যেন তার যৌবন ফিরে পায়। চারদিকের পাহাড়গুলো গাঢ় সবুজ রঙ ধারণ করেছে। মেঘেরা এখন আর পাহাড়ের চূড়ায় নয়, বরং পর্যটকদের ঘরের বারান্দায় এসে আছড়ে পড়ছে। কখনো মুষলধারে বৃষ্টি, তো পরক্ষণেই ঝকঝকে রোদ—প্রকৃতির এই খামখেয়ালি রূপ উপভোগ করতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার পর্যটক এখন সাজেকমুখী। বিশেষ করে ছুটির দিনগুলোতে কংলাক পাহাড় থেকে রুইলুই পাড়া পর্যন্ত কেবল মানুষের মাথা আর রঙিন ছাতা চোখে পড়ছে।
আবাসন সংকট যখন তুঙ্গে
সাজেক ভ্যালিতে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ১২০টির মতো রিসোর্ট ও কটেজ রয়েছে, যার ধারণক্ষমতা বড়জোর তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার। কিন্তু বর্তমানে প্রতিদিন সাজেকে পা রাখছেন পাঁচ থেকে সাত হাজার পর্যটক। ফলে অর্ধেকের বেশি পর্যটককে বিপাকে পড়তে হচ্ছে।
অনেকেই কোনো বুকিং ছাড়াই খাগড়াছড়ি থেকে ‘চান্দের গাড়ি’তে করে সাজেকে চলে আসছেন। বিকেলে যখন মেঘ দেখে মন ভরছে, তখনই শুরু হচ্ছে মাথা গোঁজার ঠাঁই খোঁজার যুদ্ধ। কোনো কটেজ খালি না পেয়ে অনেক পর্যটক স্থানীয় তঞ্চঙ্গ্যা বা লুসাই পাড়ার মানুষের বাড়িতে আশ্রিত হচ্ছেন।
গাড়ি ও পানির সংকট
পর্যটকদের চাপে কেবল ঘর নয়, পরিবহনেও টান পড়েছে। খাগড়াছড়ি জিপ মালিক সমিতি জানায়, সাজেক রুটে চলাচলকারী সকল চান্দের গাড়ি এখন বুকড। এছাড়া বর্ষায় পাহাড়ি রাস্তায় গাড়ি চালাতে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হচ্ছে।
অন্যদিকে, পর্যটক বাড়ায় সাজেকে সুপেয় পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। পাহাড়ের ঝর্ণা থেকে পানি টেনেও চাহিদ মিটছে না, যা পর্যটকদের ভোগান্তি আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
পর্যটন সংশ্লিষ্টদের পরামর্শ
সাজেক কটেজ মালিক সমিতির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, “বর্ষা মৌসুমে পর্যটকদের আগাম বুকিং ছাড়া সাজেকে না আসাই ভালো। আমরা সাধ্যমতো চেষ্টা করছি পর্যটকদের সেবা দিতে, কিন্তু সক্ষমতার বাইরে লোক চলে এলে আমাদের কিছুই করার থাকে না।”
সতর্কতা ও নিরাপত্তা
বর্ষায় পাহাড়ি রাস্তা পিচ্ছিল থাকায় নিজস্ব গাড়ি নিয়ে আসার ক্ষেত্রে পর্যটকদের সতর্ক করেছে প্রশাসন। এছাড়া মেঘের নিবিড় সান্নিধ্য পেতে পাহাড়ের ঢালে সেলফি তোলার সময় অতিরিক্ত ঝুঁকি না নিতে অনুরোধ করা হয়েছে।
মেঘ আর বৃষ্টির এই মিলনমেলা দেখতে আপনিও কি যাচ্ছেন সাজেকে? আপনার অভিজ্ঞতা আমাদের জানান।