আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানের রাজপথ এখন এক অভূতপূর্ব অস্থিরতার সাক্ষী। গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক সংকটের প্রতিবাদ আজ পূর্ণাঙ্গ সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নিয়েছে। রাজধানী তেহরানের এঙ্গেল্যাব স্কয়ার থেকে শুরু করে মাশহাদ ও তাবরিজের অলিগলি এখন স্লোগানে মুখরিত।
অভ্যন্তরীণ সহিংসতা ও গ্রেপ্তার
বিগত ২৪ ঘণ্টায় নিরাপত্তা বাহিনীর সাথে বিক্ষোভকারীদের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দাবি অনুযায়ী, নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে নিহতের সংখ্যা বাড়ছে। এদিকে, সরকার দাবি করেছে যে বিদেশি উস্কানিতে দাঙ্গাবাজরা সরকারি সম্পদে আগুন দিচ্ছে। তেহরানসহ বড় শহরগুলোতে ইন্টারনেট সেবা ব্যাপকভাবে সীমিত করা হয়েছে।
ইসরায়েল ও পশ্চিমা বিশ্বকে হুঁশিয়ারি
ইরানের উচ্চপর্যায়ের প্রতিরক্ষা কাউন্সিল আজ এক জরুরি বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা তাদের সীমানার কাছে যেকোনো উস্কানি সহ্য করবে না। জেনারেল আমির হাতামি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, ইসরায়েল যদি কোনো হঠকারী সিদ্ধান্ত নেয়, তবে ইরান ‘ডিফেন্স মোড’ থেকে বেরিয়ে সরাসরি হামলা চালাবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিক্ষোভকারীদের প্রতি প্রকাশ্য সমর্থনকে ইরান তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখছে।
অর্থনৈতিক স্থবিরতা
দেশজুড়ে চলমান ধর্মঘটের কারণে ইরানের বাজার ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। বিশেষ করে কুর্দি অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে আজ পূর্ণদিবস ধর্মঘট পালিত হচ্ছে। রিয়ালের মান ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের ক্ষোভ চরম সীমায় পৌঁছেছে।
ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি
বিশ্লেষকদের মতে, সরকার যদি অবিলম্বে অর্থনৈতিক সংস্কার বা রাজনৈতিক সমঝোতার পথে না হাঁটে, তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। তবে বিচার বিভাগ সাফ জানিয়ে দিয়েছে, রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অবস্থানকারীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।