মাহবুব হাসান, চট্টগ্রাম: জাহাজ ভাঙা বা শিপ রিসাইক্লিং শিল্পে বড় ধরনের পরিবর্তনের লক্ষ্যে আজ একটি পরিমার্জিত নীতিমালার খসড়া প্রকাশ করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। ব্রাসেলস থেকে প্রকাশিত এই খসড়া প্রস্তাবে ইউরোপীয় পতাকাবাহী জাহাজগুলো রিসাইক্লিং করার ক্ষেত্রে কঠোর পরিবেশগত ও নিরাপত্তা মানদণ্ড নির্ধারণ করা হয়েছে। বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ার বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানের শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডগুলোর ওপর এই নীতিমালার প্রভাব হবে সুদূরপ্রসারী।
গত কয়েক মাস ধরে এই খসড়া নিয়ে বিভিন্ন প্রস্তুতিমূলক কাজ চলছিল। এর আগে ২০২৬ সালের ১৯ জানুয়ারি ইইউ জাহাজ রিসাইক্লিংয়ের জন্য একটি সমন্বিত শংসাপত্র (Certificate) ফরম্যাট গ্রহণ করেছিল এবং ২৭ ফেব্রুয়ারি তাদের অনুমোদিত শিপ রিসাইক্লিং ইয়ার্ডের ১৫তম তালিকা প্রকাশ করেছিল। এরই ধারাবাহিকতায় আজ সোমবার দক্ষিণ এশিয়ার ইয়ার্ডগুলোর অবকাঠামোগত মানোন্নয়নে জোর দিয়ে এই নতুন খসড়া প্রস্তাবটি আনা হলো।
খসড়া নীতিমালার মূল দিক
ইইউ’র নতুন এই প্রস্তাবে বলা হয়েছে যে ইউরোপীয় মালিকানাধীন জাহাজগুলো কেবলমাত্র সেই সব ইয়ার্ডেই ভাঙা যাবে যেগুলো ‘ইইউ তালিকাভুক্ত’ এবং কঠোর ‘হংকং কনভেনশন’ মেনে চলে। নীতিমালার খসড়ায় ইয়ার্ডগুলোতে পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো বা গ্রিন শিপ রিসাইক্লিং নিশ্চিত করার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে বিষাক্ত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, শ্রমিকদের উন্নত স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং সমুদ্রের পানির দূষণ রোধে শতভাগ কার্যকর ব্যবস্থা রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
দক্ষিণ এশিয়ার জন্য চ্যালেঞ্জ ও সুযোগ
বর্তমানে বিশ্বের অধিকাংশ বড় জাহাজ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে রিসাইকেল করা হয়। তবে ইইউ’র অভিযোগ, এই অঞ্চলের অনেক ইয়ার্ড এখনও উন্মুক্ত সমুদ্র সৈকতে (বিচিং মেথড) জাহাজ কাটে, যা পরিবেশের জন্য চরম ঝুঁকিপূর্ণ। নতুন খসড়ায় স্পষ্ট করা হয়েছে যে, যেসব ইয়ার্ড কংক্রিটের ফ্লোর বা শক্ত মেঝের ওপর বর্জ্য নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা রাখতে পারবে না, তারা ইইউ’র অনুমোদিত তালিকায় স্থান পাবে না।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই নীতিমালা দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর জন্য যেমন চ্যালেঞ্জের, তেমনি আধুনিক হওয়ার সুযোগও। বাংলাদেশের অনেক ইয়ার্ড ইতিমধ্যে গ্রিন ইয়ার্ডে রূপান্তরিত হওয়ার কাজ শুরু করেছে। ইইউ’র এই কড়াকড়ি শেষ পর্যন্ত শিল্পের মানোন্নয়নে সাহায্য করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রভাব
জাহাজ মালিকদের মতে, এই নীতিমালা কার্যকর হলে ইউরোপীয় জাহাজ স্ক্র্যাপ করার খরচ কিছুটা বাড়তে পারে। তবে পরিবেশের সুরক্ষা ও টেকসই উন্নয়নের স্বার্থে এই পদক্ষেপ অপরিহার্য বলে মনে করছে ইউরোপীয় কমিশন। খসড়াটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য এখন সদস্য দেশগুলোর মতামত ও ইউরোপীয় পার্লামেন্টে তোলা হবে।
শিপ রিসাইক্লিং শিল্পের এই পরিবর্তনের ফলে আগামী দিনগুলোতে ইয়ার্ডগুলোর প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বড় ধরনের বিনিয়োগের প্রয়োজন পড়বে।
শিপ রিসাইক্লিং ও বিশ্ব অর্থনীতির আপডেট পেতে businesstoday24.com ফলো করুন