Home চট্টগ্রাম চট্টগ্রাম সিটি আউটার রিং রোড প্রকল্প সংশোধনী অনুমোদন

চট্টগ্রাম সিটি আউটার রিং রোড প্রকল্প সংশোধনী অনুমোদন

ব্যয় বাড়ল ৭৭ কোটি টাকা
বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম: পতেঙ্গা থেকে সাগরিকা পর্যন্ত বিস্তৃত উপকূলীয় সুরক্ষা ও চার লেনের সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের কাজ পুরোপুরি শেষ করতে ‘চট্টগ্রাম সিটি আউটার রিং রোড (৫ম সংশোধিত)’ প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। আজকের বৈঠকে এই সংশোধনী অনুমোদনের মাধ্যমে প্রকল্পের প্রয়োজনীয় ব্যয় ও সময়সীমা বৃদ্ধি করা হয়েছে।
চূড়ান্ত ব্যয় ও অনুমোদনের বিস্তারিত
প্রকল্পের চতুর্থ সংশোধনী পর্যন্ত মোট ব্যয় ধরা হয়েছিল ৩,৩২৪ কোটি ১৫ লাখ ৩ হাজার টাকা। আজকের ৫ম সংশোধনীতে নতুন করে আরও ৭৭ কোটি ৯২ লাখ ৫১ হাজার টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে। ফলে প্রকল্পটির মোট প্রাক্কলিত ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩,৪০২ কোটি ৭ লাখ ৫৪ হাজার টাকা। মূলত ভূমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত জটিলতা নিরসন এবং সংযোগ সড়কগুলোর কাজ সুচারুভাবে সম্পন্ন করতেই এই অতিরিক্ত বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
প্রকল্পের অবকাঠামো ও বাস্তবায়নের চিত্র
চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) বাস্তবায়িত এই ১৫.২ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৩০ থেকে ৩৩ ফুট উঁচুতে নির্মিত। আজকের সংশোধনীতে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে:
  • সাগরিকা জংশন ও ফ্লাইওভার: সাগরিকা স্টেডিয়াম সংলগ্ন এলাকায় ট্রাফিক জ্যাম কমাতে এবং মূল সড়কের সাথে সংযোগ স্থাপনে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়ন।
  • ফিডার রোড-১ এর কাজ: পতেঙ্গা ও বন্দর এলাকার সাথে শহরের মূল সংযোগ সড়কগুলোর নির্মাণ কাজ দ্রুত শেষ করা।
  • টেকসই বাঁধ নির্মাণ: জলোচ্ছ্বাস থেকে চট্টগ্রাম শহরকে রক্ষা করতে বাঁধের বাইরের অংশে বাড়তি নিরাপত্তা ব্লক স্থাপন।
অর্থনৈতিক গুরুত্ব ও যানজট নিরসন
কর্ণফুলী টানেল দিয়ে চলাচলকারী যানবাহনের জন্য এই আউটার রিং রোডটি ‘লাইফলাইন’ হিসেবে কাজ করছে। দক্ষিণ চট্টগ্রাম এবং মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর থেকে আসা পণ্যবাহী গাড়িগুলো শহরের ভেতরে প্রবেশ না করেই এই পথ দিয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে উঠতে পারছে। নগরীর জিইসি, টাইগারপাস ও ইপিজেড এলাকার যানজট স্থায়ীভাবে কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সিডিএজানিয়েছে, এই বর্ধিত বরাদ্দের মাধ্যমে চলতি বছরের মধ্যেই প্রকল্পের অবশিষ্ট কারিগরি কাজগুলো শেষ করা সম্ভব হবে। এটি শুধু একটি সড়ক নয়, বরং পতেঙ্গা থেকে সাগরিকা পর্যন্ত দীর্ঘ উপকূলীয় এলাকায় পর্যটন ও নতুন শিল্পায়নের দুয়ার খুলে দিয়েছে।

 ভিজিট করুন www.businesstoday24.com