Home রাজনীতি ‘এনসিপির এক ডজন নেতা দুর্নীতিতে জড়িত’: মুহাম্মদ রাশেদ খাঁন

‘এনসিপির এক ডজন নেতা দুর্নীতিতে জড়িত’: মুহাম্মদ রাশেদ খাঁন

বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, ঢাকা: জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র শীর্ষ এক ডজন নেতার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, প্রভাব খাটিয়ে নিয়োগ বাণিজ্য ও অনৈতিক অর্থ লেনদেনের তীব্র অভিযোগ তুলেছেন সাবেক গণঅধিকার পরিষদের নেতা ও বিএনপি ঘরানার রাজনীতিতে সক্রিয় মুহাম্মদ রাশেদ খাঁন।
 রবিবার (৩১ মে) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি এই বিস্ফোরক দাবি করেন। রাশেদ খাঁনের দাবি, এনসিপির শীর্ষ নেতাদের এই অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বহু তথ্য ও ক্লু তার হাতে রয়েছে এবং দলের নীতিনির্ধারণী মহলও এই পুরো বিষয়টি সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবগত। তার এই ফেসবুক পোস্টের পর রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
ফেসবুক পোস্টে রাশেদ খাঁন দাবি করেন, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ওঠা সুনির্দিষ্ট দুর্নীতির অভিযোগের কারণেই স্বয়ং জামায়াতে ইসলামীর আমির ঢাকা-১০ আসনটি ছাড়তে রাজি হননি। সাংবাদিকদের এ বিষয়ে জামায়াতের আমিরকে প্রশ্ন করার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, তবেই এই ঘটনার প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, বিষয়টি এনসিপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের সকলেই জানেন। তবে রাজনৈতিক কৌশল ও আত্মরক্ষার খাতিরে নাহিদ ইসলাম এই অভিযোগগুলো অস্বীকার করতে পারেন বলে মন্তব্য করেন রাশেদ।
 ডিসি কেলেঙ্কারির নেপথ্য
একটি ক্লুর সূত্র ধরে আসিফ মাহমুদ ও তার এপিএস মোয়াজ্জেমের দুর্নীতির তথ্য পাওয়ার কথা জানান রাশেদ খাঁন। তিনি দাবি করেন, এই স্পর্শকাতর বিষয়টি তিনি সরকারের আরেকজন উপদেষ্টার সঙ্গে আলোচনা করেছিলেন এবং তথ্য শুনে সেই উপদেষ্টাও চরম বিস্ময় প্রকাশ করেছিলেন।
একই সাথে বহুল আলোচিত ডিসি কেলেঙ্কারির ঘটনাটিও সম্পূর্ণ সত্য ছিল বলে দাবি করেন রাশেদ। এই কেলেঙ্কারির সাথে হাসনাত আব্দুল্লাহ ও সারজিস আলম জড়িত ছিলেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাদের অত্যন্ত বিশ্বস্ত ব্যক্তিদের কাছ থেকেই কিছু ক্লুসহ এই তথ্য তিনি সংগ্রহ করেছেন।
অর্থ ও নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ
এনসিপির আরেক শীর্ষ নেতা নাসির পাটোয়ারীকে নিয়েও একাধিক গুরুতর অভিযোগ এনেছেন রাশেদ খাঁন। পোস্টে বলা হয়, নাসির পাটোয়ারী প্রায়শই ‘আওয়ামী লীগের সম্পদ দখল’ এবং ‘অর্থ ছাড়া রাজনীতি অসম্ভব’—এই ধরনের বক্তব্য দিতেন। এমনকি নাহিদ ইসলামের মন্ত্রীপাড়ার বাসভবনে রাজনৈতিক আলোচনার বৈঠকেও নাসিরের মুখে বারবার অর্থের প্রসঙ্গ আসত।
রাশেদ খাঁন দাবি করেন, বর্তমান প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ মূলত নাসির পাটোয়ারীর একক পরামর্শ ও প্রভাবেই এই গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগটি পেয়েছিলেন। এজাজ পূর্বে নাসির পাটোয়ারীর সাথে জাতীয় নাগরিক কমিটিতে যুক্ত ছিলেন। এই পদের প্রভাব খাটিয়ে যে অর্থ অর্জিত হতো, তা নাসির পাটোয়ারী ও এনসিপির তহবিলের কাছে যেত বলেও পোস্টে অভিযোগ করা হয়।
 সারজিস আলমের ভিডিও প্রসঙ্গ
বর্তমানে এনসিপির শীর্ষ এক ডজন নেতার ব্যাপক দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়াটা ‘ওপেন সিক্রেট’ বা প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে বলে মন্তব্য করেন এই রাজনৈতিক নেতা। নিজের দাবির সপক্ষে সারজিস আলমের কাছে এক নারীর ৭ লাখ টাকা হস্তান্তরের একটি ভিডিওর প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ওই ভুক্তভোগী নারী অভিযোগ করেছিলেন যে, চাকরি বা কাজ পাইয়ে দেওয়ার নামে তার কাছ থেকে ধাপে ধাপে মোট ৪৮ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছিল।
শহীদ ওসমান হাদীর বক্তব্যের সূত্র
পোস্টের শেষাংশে রাশেদ খাঁন এনসিপির প্রয়াত নেতা শহীদ ওসমান হাদীর একটি পূর্ববর্তী বক্তব্যের স্মৃতিচারণ করেন। তিনি বলেন, মৃত্যুর আগে ওসমান হাদী এনসিপির তিনটি বড় অপরাধ বা বিচ্যুতি চিহ্নিত করে গিয়েছিলেন, যার মধ্যে অন্যতম ও প্রধান ছিল নেতাদের এই দুর্নীতি।
এনসিপি নেতৃত্বের প্রতি প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে রাশেদ খাঁন বলেন, শহীদ ওসমান হাদী যদি মিথ্যা বলে থাকেন, তবে এনসিপির উচিত প্রকাশ্যে ঘোষণা দেওয়া যে তিনি দল সম্পর্কে অসত্য ও বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিয়ে গেছেন। অন্যথায় এই দুর্নীতির দায় তাদের স্বীকার করে নিতে হবে।
Visit www.businesstoday24.com