প্রথম পর্ব:
এপস্টাইন কেলেঙ্কারি: অন্ধকার জগতের নেপথ্যে
মাহবুব হাসান
জেফরি এপস্টাইন—নামটি শুনলে একসময় নিউইয়র্কের অভিজাত মহলে সম্ভ্রম জাগত। কিন্তু আজ এই নামটির সাথে জড়িয়ে আছে বিংশ শতাব্দীর অন্যতম বড় অপরাধী নেটওয়ার্কের কলঙ্ক। একজন সাধারণ গণিত শিক্ষক থেকে কীভাবে তিনি কোটিপতি বিনিয়োগকারী এবং বিশ্বনেতাদের ঘনিষ্ঠ বন্ধু হয়ে উঠলেন, তা কোনো থ্রিলার সিনেমার চেয়ে কম নয়।
সাধারণ শুরু থেকে ওয়াল স্ট্রিটে পা
১৯৫৩ সালে নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে এক সাধারণ পরিবারে জন্ম এপস্টাইনের। পড়াশোনায় মেধাবী হলেও তিনি কখনো কলেজ ডিগ্রি শেষ করেননি। তবুও নিজের চতুরতা কাজে লাগিয়ে ১৯৭০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে নিউইয়র্কের বিখ্যাত ‘ডাল্টন স্কুল’-এ গণিত ও বিজ্ঞানের শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন।
শিক্ষক থেকে ফিন্যান্সিয়াল টাইকুন
ডাল্টন স্কুলে থাকাকালীন এক ছাত্রের বাবার মাধ্যমে তার যোগাযোগ হয় ওয়াল স্ট্রিটের প্রভাবশালী বিনিয়োগকারী সংস্থা ‘বিয়ার স্টার্নস’-এর সাথে। শিক্ষকতা ছেড়ে তিনি সেখানে যোগ দেন এবং খুব দ্রুত পদোন্নতি পান। ১৯৮২ সালে তিনি নিজের ফিন্যান্সিয়াল ম্যানেজমেন্ট ফার্ম ‘জে. এপস্টাইন অ্যান্ড কোম্পানি’ প্রতিষ্ঠা করেন।
প্রভাবশালী ক্লায়েন্ট ও রহস্যময় সম্পদ
এপস্টাইনের দাবি ছিল, তিনি শুধুমাত্র বিলিয়নেয়ারদের (যাদের সম্পদ ১ বিলিয়ন ডলারের বেশি) সম্পদ ব্যবস্থাপনা করেন। তার অন্যতম প্রধান ক্লায়েন্ট ছিলেন ‘ভিক্টোরিয়া’স সিক্রেট’-এর মালিক লেসলি ওয়েক্সনার। ওক্সনারের সাথে সম্পর্কের মাধ্যমেই এপস্টাইন বিপুল সম্পদ, বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট এবং ব্যক্তিগত জেট বিমানের মালিক হন।
ক্ষমতার বলয় তৈরি
এপস্টাইন জানতেন কীভাবে প্রভাবশালীদের আকৃষ্ট করতে হয়। তার বন্ধু তালিকায় যুক্ত হতে শুরু করেন:
রাজনীতিবিদ: বিল ক্লিনটন ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো ব্যক্তিত্ব।
রাজপরিবার: ব্রিটিশ রাজপরিবারের প্রিন্স অ্যান্ড্রু।
বিজ্ঞানী ও বুদ্ধিজীবী: স্টিফেন হকিং এবং বিল গেটসের মতো মানুষেরাও তার আমন্ত্রণে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন।
মুখোশের আড়ালে অন্ধকার
বাইরে থেকে তাকে একজন পরোপকারী (Philanthropist) মনে হলেও, নেপথ্যে তিনি গড়ে তুলছিলেন এক ভয়ংকর অপরাধী সাম্রাজ্য। তার এই বিশাল পরিচিতি ও ক্ষমতার বলয়কেই তিনি ঢাল হিসেবে ব্যবহার করতেন নিজের অন্ধকার কাজগুলো আড়াল করতে।
পরবর্তী আপডেটের জন্য businesstoday24.com ফলো করুন এবং আপনার মূল্যবান মন্তব্য জানান।










