Home First Lead এমবাপ্পে জাদুতে ফরাসিদের প্রতিশোধ, চূড়ায় ওঠার নতুন মহাকাব্য

এমবাপ্পে জাদুতে ফরাসিদের প্রতিশোধ, চূড়ায় ওঠার নতুন মহাকাব্য

স্পোর্টস ডেস্ক: বিশ্বকাপের মঞ্চে কিলিয়ান এমবাপ্পে মানেই এক অনন্য ফুটবলীয় রূপকথা। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে সেনেগালের বিপক্ষে ফ্রান্সের ম্যাচটি আরও একবার প্রমাণ করল কেন তাকে এই প্রজন্মের সেরা ভাবা হয়। সাবেক ফরাসি ডিফেন্ডার গেল ক্লিশি বিবিসি স্পোর্টসের ধারাভাষ্যে ঠিকই বলেছিলেন, ফ্রান্স যদি বিশ্বকাপ জেতে ও দারুণভাবে আসর শুরু করে, তবে কিলিয়ান এমবাপ্পেই হবেন এর মূল স্থপতি। তেরাঙ্গার সিংহদের বিপক্ষে প্রথমার্ধে ধুঁকতে থাকা ফ্রান্স যেভাবে ৩-১ ব্যবধানে ম্যাচ জিতে মাঠ ছেড়েছে, তাতে এই ফরোয়ার্ডের অবদানই সবচেয়ে বেশি।
ম্যাচের শুরুটা অবশ্য ফেবারিট ফ্রান্সের জন্য মোটেও সুখকর ছিল না। প্রথমার্ধে তারকাবহুল দলটিকে এক প্রকার অচেনাই লাগছিল। মাঠের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের করে নিয়ে একের পর এক আক্রমণ সাজায় সেনেগাল। ম্যাচের ২৫ মিনিটে নিকোলাস জ্যাকসনের একটি জোরালো শট ফরাসি ডিফেন্ডার উপামেকানোকে কাটিয়ে পোস্টে লাগে এবং গোলরক্ষক মাইগনানের পিঠে ধাক্কা খেয়ে কর্নার হয়ে যায়। নিশ্চিত গোল হজম থেকে বেঁচে যায় ফ্রান্স। প্রথমার্ধে ৫৭ শতাংশ বল দখলে রাখলেও বোঝাপড়ার ঘাটতির কারণে ফ্রান্স লক্ষ্যে কোনো শটই নিতে পারেনি। বিরতির ঠিক আগে সেনেগালের ইসমাইলা সারে ছয় গজ দূর থেকে সহজ সুযোগ হাতছাড়া না করলে ম্যাচের চিত্র ভিন্ন হতে পারত। গোলশূন্য সমতা নিয়েই প্রথমার্ধ শেষ করে দুই দল।
তবে দ্বিতীয়াপূর্ণ সময়ে দৃশ্যপট পুরোপুরি বদলে যায়। ৫৯ মিনিটে ডি বক্সের ভেতর এমবাপ্পেকে ফাউল করেন সেনেগালের সাদিও মানে। রেফারি আলিরেজা ফাগানি ভিএআর (VAR) দেখেও পেনাল্টির সিদ্ধান্ত না দিলে হতাশ হতে হয় ফরাসি শিবিরে। তবে সেই হতাশা বেশিক্ষণ স্থায়ী হতে দেননি ফরাসি অধিনায়ক। ম্যাচের ৬৬ মিনিটে মাইকেল ওলিসের পাস থেকে দুর্দান্ত এক গোল করে ডেডলক ভাঙেন এমবাপ্পে।
এরপর কৌশলী পরিবর্তন আনেন ফরাসি কোচ দেশম। ৭৯ মিনিটে উসমান দেম্বেলের পরিবর্তে মাঠে নামান তরুণ ব্র্যাডলি বারকোলাকে। মাঠে নামার মাত্র তিন মিনিটের মাথায় আদ্রিয়েঁ রাবিওর থ্রু পাস ধরে সেনেগাল গোলরক্ষক মেন্ডির মাথার ওপর দিয়ে চিপ করে ব্যবধান ২-০ করেন এই তরুণ তুর্কি। ম্যাচের ইনজুরি টাইমে ইব্রাহিমা এমবায়ে সেনেগালের হয়ে এক গোল শোধ করলে নাটকীয়তা বাড়ে। তবে এর দুই মিনিট পরই সেনেগালের সব আশা চূর্ণ করে দেন এমবাপ্পে। বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া তার দূরপাল্লার অসাধারণ এক শট সরাসরি জালে জড়ালে ৩-১ গোলের জয় নিশ্চিত হয় ফ্রান্সের। এই জয়ের মাধ্যমে দুই যুগ আগে ২০০২ সালের বিশ্বকাপে সেনেগালের কাছে ১-০ গোলে হারের মধুর প্রতিশোধও নিল ফরাসিরা।
এই জোড়া গোলের মধ্য দিয়ে অলিভিয়ের জিরুকে (৫৭ গোল) টপকে ফ্রান্সের ফুটবল ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার সিংহাসনে একচ্ছত্রভাবে বসলেন এমবাপ্পে (৫৮ গোল)। একই সঙ্গে বিশ্বকাপে ১৫ ম্যাচে তার মোট গোল সংখ্যা এখন ১৪। যেখানে আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসির ১৩টি গোল করতে লেগেছিল ২৬টি ম্যাচ। এখন আর মাত্র তিনটি গোল করলেই জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোজার (১৬ গোল) রেকর্ড ভেঙে এককভাবে বিশ্বকাপের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার অনন্য কীর্তি গড়বেন এই ফরাসি ফরোয়ার্ড। পুরো ম্যাচে ফ্রান্স ৫৪ শতাংশ বল দখলে রেখে মোট ৮টি শট নেয়, যার ফলশ্রুতিতে আসে এই দুর্দান্ত জয়।
Visit www.businesstoday24.com