Home আন্তর্জাতিক চরম ঝুঁকিতে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান: জ্বালানি ও অর্থনৈতিক সংকটের নতুন কালো ছায়া

চরম ঝুঁকিতে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান: জ্বালানি ও অর্থনৈতিক সংকটের নতুন কালো ছায়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত পঞ্চম মাসে গড়িয়ে সংকট এখন চরম আকার ধারণ করেছে। এই যুদ্ধের প্রভাব কেবল মধ্যপ্রাচ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে তীব্র উদ্বেলন তৈরি করে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মতো আমদানিনির্ভর অর্থনীতিগুলোকে গভীর সংকটে ফেলছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এশিয়ার অন্যান্য দেশের তুলনায় এই দুই দেশের অর্থনৈতিক সুরক্ষাবলয় বেশ দুর্বল। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির মূল্যের প্রতিটি লাফ সরাসরি আঘাত হানছে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায়।
জ্বালানি তেলের ওপর চরম নির্ভরশীলতার কারণে বৈশ্বিক বাজারে অপরিশোধিত তেল ও ডিজেলের দরবৃদ্ধি খুব দ্রুতই অভ্যন্তরীণ খাদ্য, পরিবহন ও বিদ্যুৎ খাতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
ইএসএসইসি বিজনেস স্কুল এশিয়া-প্যাসিফিকের সহযোগী অধ্যাপক জামুস লিম উল্লেখ করেছেন যে, সীমিত জ্বালানি মজুতের কারণে বৈশ্বিক বাজারে অস্থিরতা তৈরি হওয়ামাত্রই বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে মূল্যস্ফীতির চাপ অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যায়।
জ্বালানি মূল্যের অস্বাভাবিক উল্লম্ফন (জুলাই)
---------------------------------------------------
ব্রেন্ট ক্রুড (১ জুলাই)   : $৭০.১৮ / ব্যারেল
ব্রেন্ট ক্রুড (৩১ জুলাই)  : $৮৪.৮৫ / ব্যারেল (↑ ২১%)
ডব্লিউটিআই ক্রুড (৩১ জুলাই): $৮১.৮৪ / ব্যারেল (↑ ২১%)
শুধু হরমুজ প্রণালিই নয়, সুয়েজ খাল-সংলগ্ন লোহিত সাগরের নৌপথেও সম্প্রতি ড্রোন হামলার কারণে নতুন করে নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মিসরের দামিয়েত্তা বন্দরে গ্যাসবাহী জাহাজে হামলার ঘটনা সৌদি আরবের তেল রপ্তানি পথকে ঝুঁকিতে ফেলেছে। আন্তর্জাতিক বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বের ২০ শতাংশ তেল সরবরাহকারী হরমুজ প্রণালি যদি দীর্ঘ সময়ের জন্য অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে, তবে তেলের দাম প্রতি ব্যারেলে ১২০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে।
আইএমএফ সমর্থিত কঠিন সংস্কার কর্মসূচি ও ভারী বৈদেশিক ঋণের চাপে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান ইতিমধ্যেই অর্থনৈতিকভাবে কোণঠাসা। জ্বালানির নতুন এই দরবৃদ্ধি দুটি দেশের মুদ্রার ওপর তীব্র চাপ সৃষ্টি করছে এবং সরকারি ভর্তুকি দেওয়ার সক্ষমতা কমিয়ে আনছে। বাংলাদেশ যেখানে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, ব্যাংকিং খাতের ভঙ্গুরতা এবং জ্বালানি সংকটে জর্জরিত, সেখানে পরিস্থিতি আরও জটিল হলে আইএমএফের সঙ্গে পুনর্বার দরকষাকষিতে যাওয়া ছাড়া উপায় থাকবে না।
অন্যদিকে, অর্থনৈতিক চাপে পিষ্ট পাকিস্তান সামরিক ও কূটনৈতিকভাবেও কঠিন ভারসাম্য রক্ষার পরীক্ষায় পড়েছে। একদিকে ইসলামাবাদ ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে উত্তেজনা হ্রাসের আহ্বান জানাচ্ছে, অন্যদিকে সৌদি আরব ও কুয়েতের মতো উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে নিরাপত্তা চুক্তি জোরদার করছে। তবে বিশ্লেষকরা মনে করেন, এই দ্বিমুখী অবস্থান পাকিস্তানকে একাধারে ওয়াশিংটন, তেহরান ও বেইজিংয়ের প্রতিদ্বন্দ্বী স্বার্থের মাঝে এক বিপজ্জনক অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক খেলায় দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।