Home জাতীয় বৈশ্বিক সংঘাতে কাঁচামাল সংকটের মুখে দেশের ঔষধ শিল্প

বৈশ্বিক সংঘাতে কাঁচামাল সংকটের মুখে দেশের ঔষধ শিল্প

তারিক-উল- ইসলাম, ঢাকা: বাংলাদেশ ঔষধ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করলেও কাঁচামাল বা এপিআই (Active Pharmaceutical Ingredients) আমদানিতে এখনো বিশ্বের অন্যান্য দেশের ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল। ইরান ও মার্কিন-ইসরায়েল জোটের চলমান সংঘাত যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে বাংলাদেশের ঔষধ শিল্পে কাঁচামালের সরবরাহ ঘাটতি এবং উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির তীব্র ঝুঁকি রয়েছে। এই আশঙ্কার কথা জানালেন শীর্ষস্থানীয় ঔষধ শিল্প প্রতিষ্ঠানের নির্বাহিরা।
বাংলাদেশ ঔষধ শিল্প সমিতি সূত্রে জানা যায়, দেশে চাহিদার ৯৮% তৈরি ঔষধ (Finished Products) বাংলাদেশেই উৎপাদিত হয় এবং বিশ্বের প্রায় ১৫৭টি দেশে রপ্তানি হয়। কিন্তু এই ৯৮% ঔষধ তৈরির মূল উপাদান বা এপিআই আমদানির ওপর নির্ভরশীল। শিল্পের চাহিদার মাত্র ১৫% থেকে ২০% কাঁচামাল স্থানীয়ভাবে উৎপাদন করা সম্ভব হয়।
দেশের প্রায় ২০-২১টি কোম্পানি (যেমন- স্কয়ার, বেক্সিমকো, অ্যাক্টিভ ফাইন, এসিআই, এসকেএফ) বর্তমানে মাত্র ৪১ ধরনের এপিআই অণু (molecules) তৈরি করছে।
 ঔষধ তৈরির প্রায় ৮০% থেকে ৮৫% কাঁচামাল বিদেশ থেকে আমদানি হয়। এর মধ্যে প্রায় ৪০% আসে চীন থেকে। প্রায় ৩০% কাঁচামাল ভারত থেকে সংগৃহীত হয়। এছাড়া ইতালি, জার্মানি, ফ্রান্স, সুইজারল্যান্ড এবং বেলজিয়াম থেকেও উচ্চমানের বিশেষায়িত কাঁচামাল ও ল্যাবরেটরি রিএজেন্ট আমদানি করা হয়।
অনুসন্ধানে জানা যায়, চলমান মার্চ মাসের তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামালের দাম ইতোমধ্যে ১৫% থেকে ৩০% পর্যন্ত বেড়েছে। পেট্রোকেমিক্যাল উপজাতের দাম বাড়ায় ঔষধের মোড়ক (Packaging) এবং ক্যাপসুল সেলের দামও বাড়ছে। ২০২৬ সালে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ (LDC) থেকে উত্তরণ করায় ট্রিপস (TRIPS) চুক্তির আওতায় প্যাটেন্ট ছাড়ের সুবিধা সীমিত হয়ে আসবে। এর সঙ্গে কাঁচামালের দাম বাড়লে ঔষধের চূড়ান্ত খুচরা মূল্য সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
 উত্তরণের পথ: মুন্সীগঞ্জের এপিআই শিল্প পার্ক
সরকার ও ঔষধ শিল্প মালিকরা আমদানিনির্ভরতা কমাতে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় এপিআই ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক স্থাপনের কাজ জোরদার করছে।  সেটা পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে কাঁচামাল আমদানির খরচ উল্লেখযোগ্য হারে কমবে এবং স্থানীয়ভাবে এপিআই উৎপাদনের সক্ষমতা বাড়বে। ২০৩২ সালের মধ্যে কাঁচামাল আমদানিনির্ভরতা ৮০% এ নামিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি বিবেচনা করে ঔষধ শিল্পে কাঁচামালের অন্তত ৬ মাসের বাফার স্টক (জরুরি মজুদ) রাখা জরুরি। অন্যথায়, সাধারণ জ্বর-সর্দি থেকে শুরু করে জটিল রোগের ঔষধের দাম ও সরবরাহ বাজারে অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে।
businesstoday24.com ফলো করুন এবং আপনার মন্তব্য জানান।