Home Second Lead আগ্রাবাদ ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে কাস্টমসের নতুন ঠিকানা

আগ্রাবাদ ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে কাস্টমসের নতুন ঠিকানা

পুরনো জরাজীর্ণ ভবন ভেঙে নির্মিত হচ্ছে আইকনিক স্থাপনা

বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম: দেশের অর্থনীতির হৃদপিণ্ড খ্যাত চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস এক ঐতিহাসিক বিবর্তনের দ্বারপ্রান্তে। দেশের মোট আমদানি-রপ্তানির ৯২ শতাংশ শুল্কায়ন সম্পন্নকারী এই প্রতিষ্ঠানটি তার পুরনো অবকাঠামো ভেঙে সম্পূর্ণ নতুন ও আধুনিক রূপে আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে। বিশ্বব্যাংকের আর্থিক সহায়তায় প্রায় ৯০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হতে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক মানের আইকনিক ভবন। আর এই নির্মাণকালীন কয়েক বছর কার্যক্রমে নিরবচ্ছিন্ন গতি বজায় রাখতে কাস্টম হাউসের যাবতীয় কার্যক্রম সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে আগ্রাবাদের নান্দনিক ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে (WTC)।

চুক্তি স্বাক্ষর ও ঐতিহাসিক স্থানান্তর

৫ মে ২০২৬ তারিখে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের কনফারেন্স হলে এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানে এই স্থানান্তর প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা হয়। দি চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (সিসিআই) এবং চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের মধ্যে একটি আনুষ্ঠানিক অফিস স্পেস ভাড়া চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন চেম্বার প্রশাসক ও চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) মো. মোতাহার হোসেন এবং কাস্টম কমিশনার মোহাম্মদ শফি উদ্দিন। বক্তব্য রাখেন চেম্বারের সাবেক সভাপতি ও থাইল্যান্ডের
অনারারী কনসাল আমীর হুমায়ুন মাহমুদ চৌধুরী, কমিশনার অব কাস্টমস, চট্টগ্রাম মোহাম্মদ শফি উদ্দিন, কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট শেখ আবু ফয়সল মোঃ মুরাদ, সিএন্ডএফ এসোসিয়েশন’র সভাপতি এস. এম.
সাইফুল আলম ও সাধারণ সম্পাদক শওকত আলী বক্তব্য রাখেন। এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে চেম্বারের সাবেক সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আলী আহমেদ ও ফরিদ আহমেদ চৌধুরীসহ কাস্টমস এর উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। 
আগামী ১ জুলাই থেকে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে কাস্টমসের পূর্ণাঙ্গ দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরু হবে।

কেন ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার?

১৯৫৮ সালে নির্মিত বর্তমান ভবনটি আধুনিক তথ্য-প্রযুক্তি নির্ভর শুল্কায়ন প্রক্রিয়ার জন্য বর্তমানে অপর্যাপ্ত। কাস্টম হাউস কর্তৃপক্ষ ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের ১,৫৬,৬০০ বর্গফুট অফিস স্পেস এবং ৮,০০০ বর্গফুট পার্কিং এলাকা ভাড়া নিয়েছে। তিন বছরের জন্য এই অস্থায়ী কার্যালয়ের ভাড়া বাবদ সরকারের ব্যয় হবে প্রায় ৮১ কোটি টাকা। যেহেতু চট্টগ্রামের অধিকাংশ ব্যবসায়ীর অফিস আগ্রাবাদ কেন্দ্রিক, তাই এই স্থানান্তর ব্যবসায়ীদের জন্য এক বড় স্বস্তি ও সময় সাশ্রয়ী সুযোগ বয়ে আনবে।

৯০০ কোটি টাকার আইকনিক ভবন: আগামীর প্রত্যাশা

পুরনো ভবন ভেঙে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে নির্মিতব্য ১৪ তলা বিশিষ্ট আইকনিক ভবনটি হবে দেশের রাজস্ব খাতের এক নতুন মডেল। নতুন ভবনে যা যা থাকছে:

ডিজিটাল ল্যাবরেটরি: দ্রুত পণ্য পরীক্ষার জন্য থাকবে বিশ্বমানের রাসায়নিক ল্যাব, যা বর্তমানে নেই।

সমন্বিত সেবা: হেল্প ডেস্ক, সার্ভিস ডেস্ক, ব্যাংকিং বুথ এবং ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেন্টার।

সাংস্কৃতিক ও শিক্ষা কেন্দ্র: শুল্ক বিভাগের ইতিহাস সংরক্ষণে মিউজিয়াম, আধুনিক লাইব্রেরি এবং আর্কাইভ।

সামাজিক কল্যাণ: কর্মকর্তাদের জন্য ডে-কেয়ার সেন্টার, উন্নত মেডিকেল সেন্টার এবং আন্তর্জাতিক মানের আবাসনের ব্যবস্থা।

কাস্টম কর্মকর্তাদের মতে, এই বিশাল কর্মযজ্ঞ শেষ হলে পণ্য শুল্কায়নের সময় কমে আসবে, চোরাচালান প্রতিরোধে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়বে এবং সামগ্রিকভাবে দেশের রাজস্ব আদায় কয়েক গুণ বৃদ্ধি পাবে। আগামী জুন থেকেই বিদ্যমান ভবনটি ‘কনডেম’ করে নতুন ভবন নির্মাণের প্রাথমিক কাজ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।