Home আন্তর্জাতিক মিয়ানমারের ইতিহাসে বৃহত্তম মাদক চালান জব্দ, ল্যাব ধ্বংস

মিয়ানমারের ইতিহাসে বৃহত্তম মাদক চালান জব্দ, ল্যাব ধ্বংস

২৭ টন ক্রিস্টাল মেথ ও ইয়াবা তৈরির রাসায়নিক উদ্ধার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মিয়ানমারের সামরিক জান্তা উত্তর শান রাজ্যে এক বিশাল মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে দেশটির ইতিহাসের সর্ববৃহৎ মাদক ও সরঞ্জাম জব্দের ঘোষণা দিয়েছে।
গত বুধবার (১৪ জানুয়ারি, ২০২৬) সামরিক হাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জান্তা মুখপাত্র মেজর জেনারেল জ মিন তুন জানান, ৯ থেকে ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত শান রাজ্যের থিপো (Hsipaw) এবং মংইয়াই (Mongyai) এলাকায় পরিচালিত এই অভিযানে উদ্ধারকৃত মাদকের আনুমানিক বাজারমূল্য ১.৬ ট্রিলিয়ন কিয়াট (প্রায় ৩৮১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার)।

অভিযানের বিস্তারিত ও সরঞ্জাম উদ্ধার

সামরিক জান্তার পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই অভিযানে মাদক তৈরির বিশাল সব ল্যাবরেটরি ধ্বংস করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত সরঞ্জামের মধ্যে রয়েছে:

মাদক ও রাসায়নিক: প্রায় ২৭ টন ক্রিস্টাল মেথ (আইস) তৈরির উপযোগী রাসায়নিক এবং বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ট্যাবলেট।

ভারী যন্ত্রপাতি: ট্যাবলেট তৈরির মেশিন, প্যাকেজিং মেশিন এবং মাদক মিশ্রণের সরঞ্জাম।

প্রযুক্তি ও পোশাক: অভিযানের স্থান থেকে কয়েকটি স্টারলিংক (Starlink) ডিভাইস এবং বিচ্ছিন্নতাবাদী ‘শান স্টেট আর্মি’র (SSA) ইউনিফর্ম ও ব্যাজ উদ্ধার করা হয়েছে।

মুখপাত্র জ মিন তুন আরও দাবি করেন, এই মাদক ব্যবসার সাথে অনলাইন স্ক্যাম বা সাইবার অপরাধ চক্রের সংযোগ রয়েছে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দেননি তিনি।

মিয়ানমারের সেনাবাহিনী জানায়, এই সাফল্য সম্ভব হয়েছে চীনের সাথে নিবিড় গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদানের ফলে। গত ১৭ ডিসেম্বর তংগিতে অনুষ্ঠিত মিয়ানমার-চীন মাদক নিয়ন্ত্রণ বৈঠকের পর এই অভিযানটি জোরদার করা হয়।

প্যিন উ লুইনের এই ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশ, নেপাল, লাওস, পাকিস্তান ও ব্রুনাইয়ের কূটনীতিকসহ জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধ সংক্রান্ত দপ্তর (UNODC) এবং থাইল্যান্ডের মাদক নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। প্রতিনিধি দলকে পরবর্তীতে হেলিকপ্টারে করে ধ্বংস করা একটি উৎপাদন কেন্দ্র ঘুরিয়ে দেখানো হয়।

জান্তা সরকার বরাবরের মতোই এই মাদক কারবারের জন্য জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে দায়ী করেছে। তাদের অভিযোগ, আরাকান আর্মি (AA) সামুদ্রিক রুট নিয়ন্ত্রণ করে এবং পিডিএফ (PDF) ও অন্যান্য গোষ্ঠীগুলো থাইল্যান্ড ও ভারত সীমান্তে মাদক পাচারের সাথে জড়িত। তবে আরাকান আর্মি অতীতে এই ধরনের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।

অন্যদিকে, বিশ্লেষক ও জাতিসংঘ বলছে ভিন্ন কথা। জাতিসংঘের তথ্যমতে, জান্তা শাসিত মিয়ানমারে গত এক দশকে আফিম উৎপাদন সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, খোদ জান্তা প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের দুর্নীতির কারণেই মাদক পাচারের রুটগুলো এখনো সুরক্ষিত রয়েছে।