Home Third Lead গুপ্তচরের ডায়েরি: অতল তলের লড়াই

গুপ্তচরের ডায়েরি: অতল তলের লড়াই

ধারাবাহিক উপন্যাস: পর্ব-৬

স্মৃতি হাসান 

পানির নিচে অক্সিজেন মাস্কের ভেতর দিয়ে আরিয়ানের নিঃশ্বাস নেওয়ার শব্দটা তার নিজের কানেই ড্রামের মতো বাজছে। ডুবুরিটির শক্তি আরিয়ানের চেয়ে অনেক বেশি। সে আরিয়ানের ঘাড় চেপে ধরেছে এবং অন্য হাতে থাকা ছুরিটি বারবার আরিয়ানের জ্যাকেটের ভেতর থাকা সেই বক্সটির দিকে তাক করছে।
আরিয়ান বুঝতে পারল, এই লোকটির লক্ষ্য তাকে মারা নয়, বরং বক্সটি ছিনিয়ে নেওয়া। সে তার সর্বশক্তি দিয়ে ডুবুরিকে লাথি মেরে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করল, কিন্তু পানির ঘনত্বের কারণে তার গতি ছিল অত্যন্ত ধীর।
হঠাৎ আরিয়ান দেখল, ডুবুরিটির কবজিতে সেই একই ‘কাটা কম্পাস’ ট্যাটু—কিন্তু এটি সাধারণ ট্যাটু নয়, এটি পানির নিচেও উজ্জ্বল সবুজ আলোয় জ্বলছে! আরিয়ান বুঝতে পারল, এটি কোনো সেন্সর বা ট্র্যাকার যা দিয়ে তারা পানির নিচেও একে অপরকে খুঁজে পায়। আরিয়ান পকেট থেকে সেই প্রথম পিতলের চাবিটা বের করে ডুবুরির মাস্কের কাঁচে সজোরে আঘাত করল।
কাঁচটি ফেটে গিয়ে ভেতরে পানি ঢুকতে শুরু করতেই ডুবুরিটি যন্ত্রণায় ছটফট করে আরিয়ানকে ছেড়ে দিল। আরিয়ান দেরি না করে দ্রুত ওপরের দিকে সাঁতার কাটতে শুরু করল।
পানির ওপরে উঠতেই সে দেখল এক ভয়াবহ দৃশ্য। বকিবের নৌকাটিতে আগুন লেগেছে এবং চারপাশ থেকে তিনটি স্পিডবোট সেটিকে ঘিরে রেখেছে। সাগর আর বকিব নৌকার এক কোণে হাত জোড় করে দাঁড়িয়ে আছে, আর তাদের দিকে তাক করা আছে স্বয়ংক্রিয় রাইফেল। আরিয়ান পানির ওপর মাথা তুলতেই একটি সার্চলাইটের তীব্র আলো তার চোখে পড়ল।
স্পিডবোটের ওপর থেকে সেই রেইনকোট পরা লোকটা এবার তার মুখোশ খুলল। আরিয়ান স্তব্ধ হয়ে গেল। লোকটা আর কেউ নয়, আরিয়ানের ছোটবেলার মেন্টর এবং নিখোঁজ হওয়া বড় ভাই ‘আরিফ’।
“আরিয়ান, বক্সটা দিয়ে দাও,” আরিফের কণ্ঠস্বর বরফের মতো শীতল। “তুমি জানো না এই মাইক্রোফিল্মের ভেতরে কী আছে। এটা দিয়ে শুধু শিপিং রুট নয়, পুরো দক্ষিণ এশিয়ার ডিজিটাল নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। এটা সাধারণ মানুষের জন্য নয়।” আরিয়ান হাঁপাতে হাঁপাতে নৌকার পাটাতন ধরে ঝুলে রইল। তার এক হাতে সেই বায়ুরোধী বক্স, যার ভেতরে দ্বিতীয় চাবিটি লুকিয়ে আছে। সে বুঝতে পারল, তার নিজের ভাইই এই আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের মাস্টারমাইন্ড।
আরিয়ান সাগরের দিকে তাকাল। সাগরের পকেটে থাকা সেই ছোট ড্রোনটি তখনো সচল ছিল। আরিয়ান ইশারায় সাগরকে কিছু একটা বোঝানোর চেষ্টা করল। সাগর মাথা নেড়ে তার ল্যাপটপের একটি বাটনে চাপ দিল। মুহূর্তের মধ্যে বকিবের নৌকার ইঞ্জিন থেকে বিকট শব্দে ধোঁয়া বের হতে শুরু করল—এটা ছিল বকিবের তৈরি একটি ‘স্মোক গ্রেনেড’ মেকানিজম।
ঘন কালো ধোঁয়ায় পুরো এলাকা ঢেকে গেল। আরিয়ান সেই সুযোগে বক্সটি নিয়ে ডুব দিয়ে নৌকার তলা দিয়ে উল্টো দিকে সাঁতরাতে শুরু করল। কিন্তু আরিফ শান্ত গলায় বলল, “তুমি ভুল করছ আরিয়ান। এই নদীতে কোনো দিকই এখন নিরাপদ নয়।”

পরবর্তী পর্বগুলো পড়তে ও আপনার মূল্যবান মতামত জানাতে businesstoday24.com অনুসরণ করুন। 
সপ্তম পর্বে কি আরিয়ান তার ভাইয়ের হাত থেকে বাঁচতে কোনো অচেনা দ্বীপে গিয়ে আশ্রয় নেবে, নাকি সে ধরা পড়ে যাবে? আপনার মতামত জানান।