Home আন্তর্জাতিক নেপাল জুড়ে জেন-জি বিপ্লব: ব্যালট বাক্সে তরুণদের শক্তিশালী অবস্থান

নেপাল জুড়ে জেন-জি বিপ্লব: ব্যালট বাক্সে তরুণদের শক্তিশালী অবস্থান

রামেশ ভট্টরায়, কাঠমান্ডু: বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত নেপালের সংসদীয় নির্বাচনের ভোট গণনা বর্তমানে চলমান। প্রাপ্ত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ১৬৫টি সরাসরি নির্বাচনী আসনের (FPTP) মধ্যে রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি (আরএসপি) ব্যাপক আধিপত্য বিস্তার করে ৯৫টি আসনে এগিয়ে রয়েছে। আরএসপি’র এই অভাবনীয় উত্থান দেশটির প্রথাগত রাজনৈতিক শক্তিগুলোকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।
নেপালের সাম্প্রতিক সাধারণ নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণ করলে এটি স্পষ্ট যে, জেন-জি নেতৃত্বাধীন আন্দোলনের উত্তাপ সরাসরি ব্যালট বাক্সে প্রতিফলিত হয়েছে। প্রথাগত রাজনৈতিক দলগুলোর দীর্ঘদিনের আধিপত্য ভেঙে রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি (আরএসপি)-র এই বিশাল জয়জয়কার মূলত তরুণ প্রজন্মের রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষারই বহিঃপ্রকাশ।
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে নেপালে যে গণজাগরণ বা জেন-জি আন্দোলনের সূত্রপাত হয়েছিল, তার মূল লক্ষ্য ছিল দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন, জবাবদিহিতা এবং বয়োজ্যেষ্ঠ নেতৃত্বের কবল থেকে রাষ্ট্রকে মুক্ত করা। এবারের নির্বাচনী ফলাফলে সেই জনমতের প্রতিফলন দৃশ্যমান।
 প্রধান দলগুলোর অবস্থান:
  • রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি (আরএসপি) ৯৫ টি আসনে এগিয়ে
  • নেপালি কংগ্রেস: ১টি আসনে জয়ী এবং১০টিতে এগিয়ে আছে।
  • সিপিএন-ইউএমএল: ৯টি আসনে এগিয়ে আছে।
  • নেপাল কমিউনিস্ট পার্টি: ৮টি আসনে এগিয়ে আছে।
  • রাষ্ট্রীয় প্রজাসন্ত্র পার্টি এবং শ্রম সংস্কৃতি পার্টি: ১টি করে আসনে এগিয়ে আছে।
ভোটার উপস্থিতি: এবারের নির্বাচনে ভোটারের উপস্থিতির হার ছিল প্রায় ৫৮ শতাংশ, যা ১৯৯১ সালের গণতান্ত্রিক নির্বাচনের পর সর্বনিম্ন। প্রাক্তন প্রধান নির্বাচন কমিশনার ভোজরাজ পোখরেলের মতে, প্রবাসী নেপালিদের অনুপস্থিতি, শহরমুখী জনসংখ্যার স্থানান্তর এবং রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি এক ধরণের ক্লান্তি এর অন্যতম কারণ।
নিরাপত্তা ও পরিবেশ: নির্বাচন কমিশন এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশন জানিয়েছে যে, দোলাখা, সারলাহি ও রাউতাহাত জেলায় কিছু বিক্ষিপ্ত ঘটনা ছাড়া নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। কোথাও পুনঃনির্বাচনের প্রয়োজন হয়নি।
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে নেপালে ঘটে যাওয়া জেন-জি নেতৃত্বাধীন আন্দোলনের পরবর্তী অস্থিরতার মুখে এই আগাম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো। দুর্নীতি রোধ, জবাবদিহিতা এবং বয়োজ্যেষ্ঠ নেতৃত্বের বদলে তরুণ প্রজন্মের শাসন নিশ্চিত করার দাবিতে এই আন্দোলন গড়ে উঠেছিল, যার সরাসরি প্রতিফলন এবারের নির্বাচনী ফলাফলের প্রাথমিক ধারায় দেখা যাচ্ছে।
 নির্বাচনে মোট নিবন্ধিত ভোটার সংখ্যা ছিল ১ কোটি ৮৯ লাখ ৩ হাজার ৬৮৯ জন। মোট ২৭৫টি আসনের মধ্যে ১৬৫টি সরাসরি ভোটে এবং ১১০টি আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব ব্যবস্থায় নির্বাচিত হবে। ৬৭টি রাজনৈতিক দলের প্রায় ৬৫০০ জন প্রার্থী এই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। কমিশন সব কেন্দ্র থেকে ব্যালট বাক্স সংগ্রহের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণার পরিকল্পনা করছে।
বিস্তারিত সব খবরের জন্য businesstoday24.com ফলো করুন এবং মন্তব্য করুন।