Home First Lead মতপার্থক্য থাকবে, মতবিভেদ নয়: নতুন গাইডেন্সের খোঁজে তারেক রহমান

মতপার্থক্য থাকবে, মতবিভেদ নয়: নতুন গাইডেন্সের খোঁজে তারেক রহমান

তারেক রহমান
বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, ঢাকা: রাজনীতিতে ভিন্নমত থাকা স্বাভাবিক, কিন্তু সেই ভিন্নমত যেন জাতীয় বিভেদ বা প্রতিহিংসার জন্ম না দেয়—এমন এক ব্যতিক্রমী দর্শনের ডাক দিলেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

শনিবার রাজধানীর বনানীস্থ হোটেল শেরাটনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আয়োজিত এক শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে নিজের গভীর ভাবনার কথা তুলে ধরেন। দীর্ঘ ১৬ বছরের রাজনৈতিক টানাপোড়েন এবং ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে তারেক রহমানের এই বক্তব্যকে বিশ্লেষকরা একটি ‘পরিণত রাজনৈতিক রূপরেখা’ হিসেবে দেখছেন।

তারেক রহমান তার বক্তব্যে স্পষ্ট করে বলেন, হিংসা ও প্রতিহিংসার রাজনীতি কোনো জাতির জন্য কল্যাণ বয়ে আনে না। তিনি ১৯৮১ সালের ট্র্যাজেডি, ২০২৪-এর ৫ আগস্ট এবং সাম্প্রতিক সময়ের ঘটনাবলিকে পাশাপাশি রেখে তুলনা করেন।

“আমরা ৫ আগস্টের আগের পরিস্থিতিতে ফিরে যেতে চাই না। হিংসা বা প্রতিহিংসার পরিণতি কী হতে পারে, তা ৫ আগস্ট আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে।”

তিনি মনে করেন, জাতির ভেতরে যে ক্ষোভ বা মতপার্থক্য আছে, তা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব, যদি সেখানে ‘মতবিভেদ’ বা জাতীয় বিভক্তি না থাকে।

দেশের বর্তমান তরুণ সমাজ বা ‘নতুন প্রজন্ম’ কেবল আশ্বাস নয়, বরং একটি সুনির্দিষ্ট পথনির্দেশনা (Guidance) খুঁজছে বলে উল্লেখ করেন বিএনপি চেয়ারম্যান। সাভারসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা শেয়ার করে তিনি বলেন, প্রতিটি প্রজন্মই আজ একটি আশার আলো দেখতে চায়।

তিনি বিশ্বাস করেন, রাজনীতিবিদরা যদি ১৯৭১, ১৯৯০ এবং ২০২৪-এর চেতনাকে ধারণ করে দেশের সার্বভৌমত্বের জন্য কাজ করেন, তবে জাতিকে একটি সঠিক গন্তব্যে নিয়ে যাওয়া সম্ভব।

সাংবাদিকদের ওপর গত দেড় দশকের নির্যাতনের কথা স্মরণ করে তারেক রহমান আশ্বস্ত করেন যে, আগামী দিনে সংবাদপত্রের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হবে। তিনি বলেন, “আমি দেশে সশরীরে না থাকলেও গত ১৬ বছর প্রতিটি মুহূর্তের খোঁজ রেখেছি। আমার মা (বেগম খালেদা জিয়া) এবং নেতাকর্মীরা যেভাবে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, ঠিক একইভাবে সাংবাদিকরাও নিগৃহীত হয়েছেন।”

বক্তব্যের এক পর্যায়ে তারেক রহমান গতানুগতিক রাজনীতির বাইরে গিয়ে দেশের পরিবেশগত সংকট, বিশেষ করে নদী দূষণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি মনে করেন, নদী রক্ষা বা পানি দূষণের মতো মৌলিক নাগরিক সমস্যাগুলো নিয়ে জাতীয় সংসদ এবং উচ্চপর্যায়ের সেমিনারে নিয়মিত আলোচনা হওয়া প্রয়োজন।


এক নজরে তারেক রহমানের প্রধান বার্তাগুলো:

  • গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া: যে কোনো মূল্যে ডেমোক্রেটিক প্রসেস বা গণতান্ত্রিক ধারাকে সচল রাখতে হবে।
  • জবাবদিহিতা: প্রশাসনে এবং রাজনীতিতে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা অপরিহার্য।
  • জাতীয় ঐক্য: দলমত নির্বিশেষে মতপার্থক্যগুলো আলাপ-আলোচনার টেবিলে সমাধান করতে হবে।
  • ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা: অতীতে ফিরে না তাকিয়ে একটি আধুনিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য।