বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, সিলেট: সিলেটের সদর উপজেলায় ৪ বছরের শিশু ফাহিমা আক্তারকে ধর্ষণ চেষ্টার পর নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও জনরোষ সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিবেশী এবং সম্পর্কে ‘চাচা’ হওয়া সত্ত্বেও লম্পট জাকির হোসেনের লালসার শিকার হয়ে প্রাণ হারাতে হয়েছে নিষ্পাপ এই শিশুটিকে।
সোমবার রাতে সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নের সোনাতলা গ্রাম থেকে ঘাতক জাকিরকে গ্রেপ্তার করেছে জালালাবাদ থানা পুলিশ।
নেশার ঘোরে পৈশাচিকতাগ্রেপ্তারের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া জাকিরের একটি স্বীকারোক্তিমূলক ভিডিওতে উঠে এসেছে সেই দিনের বীভৎস বর্ণনা। জাকির জানায়, ঘটনার দিন সকালে শিশু ফাহিমাকে দিয়ে সে সিগারেট আনিয়ে নেয়। ওই সময় তার ঘর খালি ছিল এবং সে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ছিল। ইয়াবা সেবনের ফলে নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সে শিশুটির ওপর পাশবিক নির্যাতন চালানোর চেষ্টা করে।
জাকিরের ভাষ্যমতে, নির্যাতনের একপর্যায়ে শিশুটি অজ্ঞান হয়ে পড়লে সে ভয় পেয়ে যায়। ঘটনা ধামাচাপা দিতে সে ফাহিমার গলা টিপে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে এবং লাশ ঘরের একটি সুটকেসের ভেতরে লুকিয়ে রাখে।
দুদিন পর লাশে পচন ধরে গন্ধ ছড়াতে শুরু করলে লোক জানাজানির ভয়ে রাতের আঁধারে লাশটি পাশের একটি ডোবায় ফেলে দেয়।
উত্তাল এলাকা: থানা ঘেরাও ও বিক্ষোভ
জাকির গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে স্থানীয় জনতা। সোমবার মধ্যরাত পর্যন্ত বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী জালালাবাদ থানা ঘেরাও করে রাখে এবং অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানায়। একপর্যায়ে উত্তেজিত জনতা ঘাতক জাকিরের ঘরবাড়ি ভাঙচুর করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে বেশ বেগ পেতে হয়।
পুলিশের তৎপরতা ও আলামত উদ্ধার
জালালাবাদ থানা পুলিশ জানায়, ফাহিমা নিখোঁজ হওয়ার দুদিন পর গত শুক্রবার বাড়ির পাশের একটি ডোবা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সোমবার রাতে জাকিরকে গ্রেপ্তারের সময় ফাহিমাকে পেঁচিয়ে রাখা ওড়না এবং ব্যাগসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আলামত উদ্ধার করেছে পুলিশ।
সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (গণমাধ্যম) মনজুরুল আলম জানান, এই হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি জাকিরকে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুরো বিষয়টি নিয়ে মঙ্গলবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে।
নিহত ফাহিমা সোনাতলা গ্রামের দিনমজুর রাইসুল হকের মেয়ে। গত বুধবার সে বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়েছিল। ছোট্ট এই শিশুর এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে পুরো সিলেটে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।