Home First Lead মহাপরিকল্পনায় ঢাকা-চট্টগ্রাম হাই-স্পিড ট্রেন : ১ ঘণ্টায় যাতায়াত

মহাপরিকল্পনায় ঢাকা-চট্টগ্রাম হাই-স্পিড ট্রেন : ১ ঘণ্টায় যাতায়াত

কামরুল  ইসলাম, চট্টগ্রাম: দেশের অর্থনৈতিক হৃৎপিণ্ড  ঢাকা ও চট্টগ্রামের মধ্যে যাতায়াত ব্যবস্থাকে আকাশপথের সমান গতিশীল করতে সরকার গ্রহণ করেছে ‘ঢাকা-চট্টগ্রাম ভায়া কুমিল্লা/লাকসাম হাই-স্পিড রেলওয়ে’ প্রকল্প। রেলওয়ের মহাপরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত এই মেগা প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দেশের পরিবহন খাতে এক নতুন যুগের সূচনা হবে।
 বর্তমানে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পৌঁছাতে বিরতিহীন ট্রেনেও প্রায় ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা সময় লাগে। এর প্রধান কারণ বিদ্যমান রেললাইনটি টঙ্গী-ভৈরব হয়ে ঘুরে যাওয়ায় এর দৈর্ঘ্য প্রায় ৩২১ কিলোমিটার।প্রস্তাবিত নতুন ‘কর্ড লাইন’ বা হাই-স্পিড রেলপথটি কুমিল্লা/লাকসাম হয়ে সরাসরি নির্মিত হবে। এতে দুই শহরের দূরত্ব ৩২১ কিমি থেকে কমে দাঁড়াবে মাত্র ২৩০ কিলোমিটারে।
ঘণ্টায় ২০০ থেকে ২৫০ কিমি গতিবেগ সম্পন্ন ট্রেন চালু হলে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে পৌঁছাতে সময় লাগবে মাত্র ১ থেকে ১.৫ ঘণ্টা। যা কার্যত দুই শহরকে একটি সুতোয় গেঁথে ফেলবে।
মহাপরিকল্পনায় (Master Plan) যা বলা হয়েছে
বাংলাদেশ রেলওয়ের ২০ বছর মেয়াদী (২০১০-২০৩০) হালনাগাদকৃত মহাপরিকল্পনায় এই প্রকল্পটিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে:
বাস্তবায়ন পর্যায়: এটি মাস্টারপ্ল্যানের দ্বিতীয় পর্যায়ের  প্রকল্প হিসেবে তালিকাভুক্ত।
প্রযুক্তিগত সুপারিশ: মাস্টারপ্ল্যানে এই রুটে আধুনিক ব্রডগেজ হাই-স্পিড ট্রাক নির্মাণের কথা বলা হয়েছে, যা দ্রুতগতি সম্পন্ন বৈদ্যুতিক ট্রেন (Bullet Train) চলাচলের উপযোগী।
বিনিয়োগ: প্রায় ৩০,৯৯৫ কোটি টাকার এই বিশাল বিনিয়োগ দেশের জিডিপিতে সরাসরি ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মাস্টারপ্ল্যানে উল্লেখ আছে।
প্রত্যাশার পারদ: ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের কণ্ঠস্বর
ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ: দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পপতিদের মতে, চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা শতভাগ কাজে লাগাতে হলে দ্রুততম যাতায়াতের কোনো বিকল্প নেই। হাই-স্পিড রেল চালু হলে ব্যবসায়ীরা একই দিনে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম গিয়ে দাপ্তরিক কাজ সেরে ফিরতে পারবেন, যা বাণিজ্যের গতি বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।
সাধারণ যাত্রী: সাধারণ মানুষের কাছে এটি একটি স্বপ্নের মতো। দীর্ঘ যানজট ও ট্রেনের দীর্ঘসূত্রতা থেকে মুক্তি পেতে তারা অধীর আগ্রহে এই বুলেট ট্রেনের অপেক্ষা করছেন। তাদের মতে, এটি কেবল যাতায়াত নয়, বরং জীবনযাত্রার মানকেও উন্নত করবে।
অবিলম্বে বাস্তবায়নের আবশ্যকতা: কেন আর দেরি নয়?
মাস্টারপ্ল্যানে সময়সীমা যাই থাকুক না কেন, বর্তমান বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ প্রেক্ষাপটে প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়ন করা অপরিহার্য। এর যৌক্তিক কারণগুলো হলো:
  • অর্থনৈতিক ভারসাম্য: ঢাকার ওপর মানুষের অতিরিক্ত চাপ কমাতে হলে চট্টগ্রামের মতো শহরগুলোর সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ স্থাপন জরুরি। এতে আবাসন ও কর্মসংস্থানের বিকেন্দ্রীকরণ ঘটবে।
  • বন্দর কেন্দ্রিক উন্নয়ন: ২০২৬ সালে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে চট্টগ্রাম করিডোরে যে বিশাল পণ্য ও যাত্রীর চাপ তৈরি হবে, তা সামাল দেওয়ার একমাত্র পথ এই হাই-স্পিড রেল।
  • পরিবেশবান্ধব বিকল্প: সড়কপথের চেয়ে রেল অনেক বেশি সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব। জ্বালানি তেলের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বিদ্যুৎচালিত হাই-স্পিড ট্রেন কার্বন নিঃসরণ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ঢাকা-চট্টগ্রাম হাই-স্পিড রেলওয়ে কেবল একটি রেল প্রকল্প নয়; এটি বাংলাদেশের সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের চাবিকাঠি। মহাপরিকল্পনার এই স্বপ্ন দ্রুত বাস্তবে রূপদান করা গেলে তা উন্নত বাংলাদেশ গড়ার পথে সবচেয়ে বড় মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হবে।
ভিজিট করুন www.businesstoday24.com এবং আপনার মন্তব্য জানান।