Home Third Lead নিকোটিন পাউচ ঠেকাতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কড়া নির্দেশিকা

নিকোটিন পাউচ ঠেকাতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কড়া নির্দেশিকা

হেলথ ডেস্ক:
বিশ্বব্যাপী তরুণ প্রজন্মকে নিকোটিনে আসক্ত করতে তামাক কোম্পানিগুলোর নতুন ও আগ্রাসী কৌশল নিয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)। ১৫ মে জেনিভায় সংস্থার সদর দপ্তর থেকে তামাক ও নিকোটিন শিল্পের নতুন বিপণন নীতিমালার বিপরীতে একটি বিশেষ কৌশলগত গাইডলাইন বা নির্দেশিকা প্রকাশ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, প্রচলিত সিগারেটের বিকল্প হিসেবে বিভিন্ন আকর্ষণীয় ফ্লেভারের ‘নিকোটিন পাউচ’ বাজারজাত করার প্রবণতা বিশ্বব্যাপী আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য এক নতুন হুমকি।
ললিপপ ও ফলের স্বাদে নিকোটিনের ফাঁদ
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তামাকজাত পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো এখন সরাসরি শিশু ও তরুণদের নিশানা করছে। স্ট্রবেরি, মিন্ট, বাবলগাম বা ম্যাঙ্গোর মতো আকর্ষণীয় ফ্লেভারে তৈরি করা হচ্ছে এই নিকোটিন পাউচগুলো। এগুলো দেখতে ছোট ছোট ব্যাগের মতো, যা মাড়ির নিচে রেখে ব্যবহার করা হয়।
ধোঁয়া বা গন্ধ না থাকায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা গণপরিবহনেও শিক্ষকেরা কিংবা অভিভাবকেরা টের পাওয়ার আগেই তরুণরা এতে আসক্ত হয়ে পড়ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ডিরেক্টর জেনারেল এক বিবৃতিতে বলেন, “তামাক কোম্পানিগুলো দাবি করছে তারা ধূমপানমুক্ত বিশ্ব গড়তে এগুলো আনছে, কিন্তু বাস্তবে তারা সম্পূর্ণ নতুন একটি প্রজন্মকে নিকোটিনে আসক্ত করার জন্য এই বিপজ্জনক ফাঁদ পেতেছে।’’
বিশ্বব্যাপী আশঙ্কাজনক বৃদ্ধি এবং বিপণন কৌশল
নির্দেশিকায় উল্লেখ করা হয়েছে, সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার, গেমিং প্ল্যাটফর্ম এবং চটকদার স্পন্সরশিপ ব্যবহার করে এই পণ্যগুলোর আগ্রাসী প্রচারণা চালানো হচ্ছে। ইন্টারনেটের সহজলভ্যতার কারণে অনুন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীদের মাঝে এর ব্যবহার জ্যামিতিক হারে বাড়ছে।
চিকিৎসকদের মতে, নিকোটিন পাউচে উচ্চমাত্রার প্রক্রিয়াজাত নিকোটিন থাকে, যা সরাসরি মস্তিষ্কে প্রভাব ফেলে। এটি তরুণদের মনোযোগের ঘাটতি, আচরণগত পরিবর্তন, উদ্বেগ এবং দীর্ঘমেয়াদে হৃদরোগের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
ডব্লিউএইচও’র কঠোর আইনি পদক্ষেপের আহ্বান
এই বৈশ্বিক মহামারি রুখতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতি অবিলম্বে এবং কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। নির্দেশিকায় প্রধানত ৪টি বিষয়ের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে:
১. বিজ্ঞাপন ও বিপণনে নিষেধাজ্ঞা:
সোশ্যাল মিডিয়াসহ সমস্ত মাধ্যমে নিকোটিন পাউচের প্রচার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা।
২. ফ্লেভার বা স্বাদ নিষিদ্ধকরণ: ফল বা ক্যান্ডির স্বাদের কোনো নিকোটিন পণ্য উৎপাদন ও বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি।
৩. উচ্চ কর আরোপ: এই জাতীয় পণ্যের ওপর অতিরিক্ত কর ধার্য করা, যেন তরুণদের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যায়।
৪. বয়সসীমা ও লাইসেন্সিং কঠোর করা: ১৮ বছরের নিচে যেকোনো ধরণের নিকোটিন পণ্য বিক্রি সম্পূর্ণ বেআইনি ঘোষণা এবং আইন অমান্যকারীদের লাইসেন্স বাতিল করা।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখনই যদি এই ছদ্মবেশী নিকোটিন পণ্যের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া না হয়, তবে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে বিশ্বজুড়ে এক বিশাল তরুণ সমাজ মারাত্মক আসক্তির কবলে পড়বে।

ভিজিট করুন www.businesstoday24.com