বিজনেসটুডে২৪ প্রতিনিধি, ঢাকা: আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে পশুর হাটগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় বাড়তে শুরু করেছে। তবে এই সুযোগে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী কোরবানির পশুকে দ্রুত মোটাতাজা ও আকর্ষণীয় করে তুলতে ব্যবহার করছে ক্ষতিকর স্টেরয়েড বা হরমোন জাতীয় ইনজেকশন। পশুর এই কৃত্রিম নাদুস-নুদুস অবয়ব সাধারণ ক্রেতাদের বিভ্রান্ত করলেও জনস্বাস্থ্যের জন্য এটি এক ভয়াবহ ঝুঁকি তৈরি করছে।
অসুস্থ পশু চেনার উপায়
পশু কেনার সময় কিছুটা সতর্ক থাকলে খুব সহজেই কৃত্রিমভাবে মোটাতাজা করা গরু শনাক্ত করা সম্ভব। বিশেষজ্ঞরা সুস্থ ও অসুস্থ পশু চেনার কিছু মূল পার্থক্য তুলে ধরেছেন:
আচরণ: স্টেরয়েড দেওয়া গরু সাধারণত খুব বেশি শান্ত বা ঝিমন্ত থাকে এবং ঠিকমতো চলাফেরা করতে পারে না। বিপরীতে, সুস্থ গরু সবসময় চঞ্চল থাকে এবং লেজ বা কান দিয়ে মশা-মাছি তাড়ায়।
মাংসপেশির পরীক্ষা: সবচেয়ে সহজ পরীক্ষাটি হলো পশুর শরীরে আঙুল দিয়ে চাপ দেওয়া। সুস্থ পশুর মাংসপেশি শক্ত থাকে, ফলে চাপ দিলে তা দ্রুত আগের অবস্থায় ফিরে আসে। কিন্তু স্টেরয়েডযুক্ত গরুর শরীরে পানি জমে থাকায় চাপ দিলে সেই জায়গাটি গর্ত হয়ে থাকে এবং দ্রুত আগের অবস্থায় ফেরে না।
শারীরিক লক্ষণ: কৃত্রিমভাবে মোটাতাজা করা পশুর শ্বাস-প্রশ্বাস অস্বাভাবিক দ্রুত হয় এবং মুখ দিয়ে লালা পড়তে দেখা যায়। এদের শরীর অস্বাভাবিক ফোলা ও চকচকে মনে হতে পারে।
বিশেষজ্ঞ মতামত: কেন এই গোশত জনস্বাস্থ্যের জন্য বিপজ্জনক?
চিকিৎসাবিজ্ঞান ও পুষ্টিবিজ্ঞানীরা এই ধরনের পশুর গোশত খাওয়ার বিষয়ে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন। পশুকে মোটাতাজা করতে সাধারণত ডেক্সামেথাসন বা বিটামেথাসন জাতীয় কর্টিকোস্টেরয়েড ব্যবহার করা হয়। এই ঔষধগুলো উচ্চ তাপমাত্রায় রান্না করার পরেও সম্পূর্ণ নষ্ট হয় না। ফলে পশুর গোশতের মাধ্যমে এই ক্ষতিকর রাসায়নিক মানুষের শরীরে প্রবেশ করে দীর্ঘমেয়াদী এবং প্রাণঘাতী রোগ সৃষ্টি করে:
- ১. কিডনি ও লিভারের ক্ষতি: স্টেরয়েডযুক্ত গোশত নিয়মিত খেলে মানুষের লিভার এবং কিডনির স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা নষ্ট হয়ে যেতে পারে। শিশুদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি আরও বেশি।
- ২. হরমোনের ভারসাম্যহীনতা: অতিরিক্ত হরমোন পুশ করা গরুর গোশত খেলে মানুষের শরীরে হরমোনাল ইমব্যালেন্স তৈরি হতে পারে, যা থেকে স্থূলতা, থাইরয়েডের সমস্যা এবং প্রজনন ক্ষমতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকে।
- ৩. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস: এই রাসায়নিক মানুষের ইমিউন সিস্টেমকে দুর্বল করে দেয়, যার ফলে সাধারণ অসুখেও অ্যান্টিবায়োটিক ঔষধ কাজ করতে চায় না।
- ৪. হৃদরোগ ও হাড় ক্ষয়: রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়িয়ে দিয়ে এটি উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়। এছাড়া এর প্রভাবে হাড় ক্ষয় হওয়ার মতো জটিলতাও দেখা দিতে পারে।
পশু চিকিৎসকদের মতে, হাটে অতিরিক্ত চকচকে ও অস্বাভাবিক ফোলা পশুর পেছনে না ছুটে চঞ্চল ও সুস্থ পশু নির্বাচন করাই বুদ্ধিমানের কাজ। প্রয়োজনে হাটে দায়িত্বরত সরকারি ভেটেরিনারি টিমের সহায়তা নিয়ে পশুর সুস্থতা নিশ্চিত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। জনস্বাস্থ্য রক্ষায় পশুর হাটে স্বাস্থ্য পরীক্ষার কঠোর নজরদারি এখন সময়ের দাবি।










