Home Second Lead দাম ও মান জালিয়াতি: ব্র্যান্ডের মোড়কে আপনি কি সস্তা কাপড় কিনছেন?

দাম ও মান জালিয়াতি: ব্র্যান্ডের মোড়কে আপনি কি সস্তা কাপড় কিনছেন?

সিরিজ প্রতিবেদন

পকেটে সিঁধ: ভোক্তার প্রতিদিনের লড়াই 

কামরুল হাসান
ঈদ মানেই নতুন পোশাক। আর এই ঈদকে কেন্দ্র করেই সক্রিয় হয়ে ওঠে এক শ্রেণির অসাধু কাপড় ব্যবসায়ী। গাউছিয়া থেকে গুলশান—সব জায়গাতেই চলে ‘অফার’ আর ‘এক্সক্লুসিভ’ ডিজাইনের নামে ডিজিটাল চুরিবাজি। ৫শ টাকার ইন্ডিয়ান বা চাইনিজ কাপড়কে ৩ হাজার টাকায় বিক্রি করা কিংবা দেশি সাধারণ সুতি কাপড়কে ‘অরিজিনাল পাকিস্তানি লন’ বলে চালানো এখন ওপেন সিক্রেট। এই ‘পোশাক-জালিয়াতি’তে আপনার কষ্টার্জিত বোনাসের টাকা নিমিষেই চলে যাচ্ছে ধূর্ত ব্যবসায়ীদের পকেটে।
বিজনেসটুডে২৪-এর অনুসন্ধানে ইদ বাজারের কিছু ভয়ংকর জালিয়াতি বেরিয়ে এসেছে।
 যেভাবে চলে ‘রঙিন’ জালিয়াতি
১. স্টিকার ও ট্যাগ জালিয়াতি: সবচেয়ে বেশি প্রতারণা হয় ব্র্যান্ডের ট্যাগ নিয়ে। ঢাকার বিভিন্ন লোকাল কারখানায় তৈরি থ্রি-পিস বা পাঞ্জাবিতে গুলশান-বনানীর নামী ব্র্যান্ড কিংবা পাকিস্তানি ও ইন্ডিয়ান নামী ব্র্যান্ডের হুবহু ‘নকল ট্যাগ’ লাগিয়ে দেওয়া হয়। সাধারণ ক্রেতা সুন্দর মোড়ক আর চকচকে ট্যাগ দেখে মনে করেন তিনি বিদেশি পণ্য কিনছেন।
২. কৃত্রিম সংকট ও ‘ফিক্সড প্রাইস’ নাটক: ঈদের কয়েক দিন আগে থেকেই অনেক শোরুম কৃত্রিম সংকট তৈরি করে। তারা আগের স্টক করা কাপড়গুলো নামিয়ে ‘ফিক্সড প্রাইস’ বা নির্ধারিত মূল্যের স্টিকার লাগিয়ে দেয়। দেখা যায়, যে কাপড় কয়েক মাস আগে ১৫০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে, ইদের সময় তাতে ৪০০০ টাকার ট্যাগ লাগিয়ে ‘১০% ডিসকাউন্ট’ দিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে।
৩. কাপড়ের গুণগত মান বা জিএসএম (GSM) চুরি: উজ্জ্বল আলোকসজ্জার নিচে কাপড়ের গুণগত মান বোঝা কঠিন। অনেক সময় সিন্থেটিক মিশ্রিত কাপড়কে ‘খাঁটি সুতি’ বা ১০০% কটন বলে বিক্রি করা হয়। সুতি ভেবে কেনা এই পোশাকগুলো একবার ধোয়ার পরই ছোট হয়ে যায় বা রঙ উঠে ফ্যাকাশে হয়ে পড়ে।
৪. ‘অরিজিনাল’ বনাম ‘মাস্টার কপি’ ধোঁকা: অনলাইনে বা সরাসরি দোকানে এখন ‘মাস্টার কপি’ শব্দের ব্যবহার খুব বেশি। এটি আসলে একটি গালভরা নাম, যার মানে হলো নকল। অরিজিনাল ডিজাইনার লনের নামে নিম্নমানের কাপড় দিয়ে তৈরি ড্রেস চড়া দামে বিক্রি করা হয়। এছাড়া চুমকি, পুঁতি বা এমব্রয়ডারির কাজ এক সপ্তাহ পরেই ঝরতে শুরু করে।
 কেনার সময় প্রতারণা এড়াতে যা করবেন:
কাপড়ের বুনন ও উল্টো পাশ দেখুন: যেকোনো পোশাক কেনার আগে সেটি উল্টে দেখুন। ভালো ব্র্যান্ডের বা ভালো মানের কাপড়ের সেলাই এবং ফিনিশিং হবে নিখুঁত। সূতার জট বা অগোছালো সেলাই থাকলে বুঝবেন এটি লোকাল কপি।
রঙের স্থায়িত্ব যাচাই: কাপড়ের কোনো কোণায় একটু পানি লাগিয়ে সাদা রুমাল বা আঙুল দিয়ে ঘষে দেখুন রঙ ওঠে কি না। যদি রঙ ওঠে, তবে সেই কাপড় কেনা থেকে বিরত থাকুন।
অনলাইন কেনাকাটায় সতর্কতা: ফেসবুকে কোনো পেজ থেকে অর্ডার করার আগে কাস্টমারদের ‘রিভিউ’ দেখে নিন। ‘ক্যাশ অন ডেলিভারি’ পদ্ধতিতে কাপড় হাতে পাওয়ার পর ট্রায়াল দিয়ে বা চেক করে তবেই টাকা দিন।
রিসিট বা ক্যাশ মেমো সংগ্রহ: অবশ্যই ক্রয়কৃত পোশাকের পাকা রিসিট নিন। যেখানে কাপড়ের ধরণ ও মেয়াদের (যদি থাকে) স্পষ্ট উল্লেখ থাকবে। পরে কোনো ত্রুটি ধরা পড়লে রিসিট ছাড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব নয়।
সতর্কতা: ব্যবসায়ীদের মিষ্টি কথায় বা জাঁকজমকপূর্ণ বিজ্ঞাপনে প্রলুব্ধ না হয়ে নিজের বিচারবুদ্ধি ব্যবহার করুন। অতিরিক্ত দাম হাঁকালে বা পণ্যের মানে প্রতারণা দেখলে নিকটস্থ বাজার তদারকি কমিটি বা ভোক্তা অধিকারের হটলাইন ১৬১২১ নম্বরে অভিযোগ করুন।